• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ন

বৈদিক নিয়মে বিবাহ সম্পন্ন করলেন প্রথম হিন্দু মহিলা পুরোহিত!


প্রকাশের সময় : মার্চ ১৭, ২০১৮, ১:০৯ PM / ১৮৫
বৈদিক নিয়মে বিবাহ সম্পন্ন করলেন প্রথম হিন্দু মহিলা পুরোহিত!

 

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : প্রথাগতভাবে পৌরোহিত্যের কাজে এতদিন পুরুষদেরই নিযুক্ত থাকতে দেখা গেছে। বিয়ে থেকে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান, সব সামাজিক অনুষ্ঠানেই ছিলো পুরুষ পুরোহিতদের প্রাধান্য। এই চিরাচরিত ধ্যানধারণার দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন, যাদবপুর ইউনিভার্সিটির সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপিকা, নন্দিনী ভৌমিক। এখনও পর্যন্ত তিনি নিজে 40-টি বিবাহের পৌরোহিত্যের কাজ করেছেন! তিনিই পশ্চিমবঙ্গের প্রথম হিন্দু মহিলা পুরোহিত।গত দশ’ বছরে তিনি 40-টি হিন্দু বিবাহ সুসম্পন্ন করেছেন। নিজের মেয়েরও বিয়ে তিনি নিজেই পৌরোহিত্য করে দিয়েছেন যা এক বিরল নজির। বাঙালি বিয়েতে সাধারণত জন্মদাত্রী মায়েদের থাকা ও দেখাই নিষেধ। সেক্ষেত্রে নন্দিনী সত্যিই এক নতুন উদাহরণ স্থাপন করেছেন।
পাণ্ডিত্যের সাথে সংস্কৃত বিবাহ মন্ত্রগুলিকে বাংলা এবং ইংরাজীতে অনুবাদ করেছেন তিনি যাতে বর ও বধূ সহজেই তা বুঝে, উচ্চারণ করে বিয়ের আচার সম্পূর্ণ করতে পারেন। এই তো গত 24’শে ফেব্রূয়ারী তাঁর অমোঘ মন্ত্রপাঠ ও নির্দেশনায় অনভিতা জনার্দন ও অর্ক ভট্টাচার্যের বিয়ে হল। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নিয়ম বদলানোর লড়াইতে উদ্যত নন্দিনী বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই অসবর্ন ও আন্তঃ ধর্ম বিয়ের পৌরোহিত্য করে থাকেন। আরেকটি বিষয়ে তাঁর অবদান অনন্য। নন্দিনী ‘কন্যাদান’ নামক বৈবাহিক আচারটির বিরোধিতা করেছেন। অধ্যাপনা ও পৌরোহিত্যের পাশাপাশি সক্রিয় নাট্যশিল্পী নন্দিনী মনে করেন যে কন্যা কে ‘দান’ করে বাবা, মায়েরা যেন মেয়েদের অস্বীকার করেন। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ এইরকম প্রথার মাধ্যমে মেয়েদের পণ্য করে তুলছে এটাই তাঁর মত। তাই তিনি এই আচার বাদ দিয়েই বিবাহানুষ্ঠান সম্পন্ন করেন। হিন্দু ধর্মের সর্ব প্রাচীন ধর্মগ্রন্থ রিগ বেদেও মহিলা পুরোহিতদের উল্লেখ পাওয়া যায় বারংবার। কিন্তু কন্যাদান প্রথার কথা এই গ্রন্থে নেই।
বিশিষ্ট বৈদিক বিশেষজ্ঞ এবং ইন্ডোলজিস্ট নৃসিংহ প্রসাদ ভাদুরীও সমর্থন করে জানিয়েছেন যে হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী মহিলাদের পৌরোহিত্য করতে কোনো বাধা নেই। বরং মহিলা পুরোহিতদের ধর্মীয় ও দর্শন সংক্রান্ত বিতর্কে অংশগ্রহণের কথা হিন্দু শাস্ত্রে পাওয়া যায়। দশটি নাট্যদলের সাথে যুক্ত থাকা নন্দিনী অত্যন্ত ব্যাস্ত জীবনযাত্রার মাঝখানেও পৌরোহিত্যের দায়িত্ব যত্নের সাথে পালন করে চলেছেন। এই বিষয়ে তাঁকে সাহায্য করেন তাঁর কলেজের বান্ধবী ও সহ-পুরোহিত রুমা রায়, কণ্ঠশিল্পী সীমন্তিনী ব্যানার্জী এবং পৌলমী চক্রবর্তী। নন্দিনী জানিয়েছেন যে তাঁর শিক্ষয়িত্রী গৌরী ধর্মপালই তাঁর কাজের অনুপ্রেরণা।

পৌরোহিত্যের কাজ করে যে অর্থ তিনি উপার্জন করেন তার সবটাই পুরীর কাছে বালীঘাইয়ের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় দান করেন।

 

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/১:০৬পিএম/১৭/৩/২০১৮ইং)