• ঢাকা
  • সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৪ অপরাহ্ন

আপোষের শর্তে জামিন পেয়েই বাদীকে ফোনে হত্যার হুমকি ভুয়া সাংবাদিক ও নারী নির্যাতনকারী খান মাহমুদের 


প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ৯:৪৩ PM / ৯৩
আপোষের শর্তে জামিন পেয়েই বাদীকে ফোনে হত্যার হুমকি ভুয়া সাংবাদিক ও নারী নির্যাতনকারী খান মাহমুদের 
নিজস্ব সংবাদদাতা : ২৬ এপ্রিল (রোববার) নারায়ণগঞ্জ এর বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জামিন শুনানী শেষে ভূয়া সাংবাদিক ও নারী নির্যাতনকারী খান মাহমুদকে মামলার বাদীনির সাথে আপোষ করার শর্তে জামিন প্রদান করেছেন। তবে জামিনে মুক্ত হয়েই বাদীনির মোবাইলে কল করে তাকে অকথ্য ও অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করে হুমকি দিয়েছে বিবাদী খান মাহমুদ। এমনই একটি কল রেকর্ড স্থানীয় সাংবাদিকদের হাতে এসেছে।
জানা গেছে, আদালতে আসামী পক্ষে জামিন শুনানী করেন জেলা আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান।
অপরদিকে বাদীনি শিক্ষানবিশ আইনজীবী নয়নী রানী সাহার পক্ষে আসামির জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল আদালতের পিপি এডভোকেট খোরশেদ মোল্লা, এডিশনাল পিপি অ্যাডভোকেট সাহিদুল ইসলাম টিটু ও এডভোকেট শম্ভুনাথ সাহা সৈকত।
আসামী পক্ষের আইনজীবি আদালতে আসামিকে তার জিম্মায় বাদীনির সাথে আপোষের শর্তে জামিন প্রার্থনা করে জোর আবেদন জানালে বিজ্ঞ আদালত আগামী ৩ মে মামলার ধার্য্য তারিখ পর্যন্ত আসামিকে আপোষের শর্তে জামিন প্রদান করেন।
এদিকে রোববার জামিনে মুক্ত হয়েই আসামী খান মাহমুদ মামলার বাদী শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবী নয়নীকে মোবাইল ফোনে কল করে অকথ্য ও অশ্লীল ভাষায় গালাগাল সহ হুমকি দেয়। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় পূণরায় থানায় অভিযোগের প্রস্তুতি চলছে।
উল্লেখ্য, বিগত প্রায় এক বছরেরও বেশি সময়কাল ধরে কথিত সাংবাদিক, হ্যাকার, প্রতারক এবং নারী নির্যাতনকারী খান মাহমুদ হিন্দু ধর্মাবলম্বী ঐ নারীকে উত্যক্ত, বিরক্ত, হুমকী ধামকী সহ নানাভাবে হেরেজমেন্ট করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বাদীনি বিজ্ঞ আদালতে একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় পুলিশী তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হলে আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয় | পরে গত ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় নগরীর ২ নং রেল গেইট এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশ তাকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করে। আদালত প্রথমে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে এবং অদ্য ২৬ এপ্রিল রোববার বাদীনির সাথে আপোষ করার শর্তে জামিন প্রদান করেন।
দেশের প্রতিটি বিচার প্রার্থী ও ভুক্তভোগী মানুষ প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় এমনিতেই বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হয় | সেক্ষেত্রে নির্যাতনকাবীরা সহজে আদালত থেকে জামিন পেয়ে এবং বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় সুযোগে আসামীরা আরো বেশী অপরাধ প্রবণ হয়ে উঠে । এতে করে দেশে নারী নির্যাতনের হার হ্রাস না পেয়ে দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে।
অপরদিকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারীরা নির্যাতনের শিকার হয়েই যাচ্ছে | এতে করে বিচার নিয়ে শংকার অন্ত থাকেনা। তাই সচেতন মহল আদালতের কঠোরতা ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় আরো বেশী সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন এমনটাই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন |