• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৯ অপরাহ্ন

নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় ভাঙারি পণ্যের দোকানে কিশোর গ্যাং এর ধারাবাহিক চাঁদাবাজি(ভিডিও) 


প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২১, ২০২৬, ১০:৪১ AM / ৮৪
নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় ভাঙারি পণ্যের দোকানে কিশোর গ্যাং এর ধারাবাহিক চাঁদাবাজি(ভিডিও) 

সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি : নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়া বড় কবরস্থান সংলগ্ন ভাঙারি পণ্যের ব্যবসায়ীদের থেকে চাঁদা দাবি সহ শ্রমিকদের উঠিয়ে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় কিশোর গ্যাং এর বিরুদ্ধে। বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা নিম্ন আয়ের ৭০ জন নারী পুরুষের কর্মস্থল এই প্রতিষ্ঠান। এর সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে প্রায় ২৫০টি পরিবার। ফলে কিশোর গ্যাংএর সদস্যদের ধারাবাহিক চাঁদাবাজির কারণে অতিষ্ট হয়ে দোকান বন্ধ করার ঘোষণায় শিশু সন্তান সহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কর্মহীন হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে এসব নিম্ন আয়ের অসহায় মানুষদের।

বাবলু ভাঙারি ঘরের মালিকদের একজন আব্দুল গফুর মিঠুর দাবি-পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বিভিন্ন এলাকা থেকে ভাঙা গ্লাস, লোহা, বোতল সহ বিভিন্ন ওয়েস্টেজ মালপত্র এনে রিসাইক্লিং করে ঢাকাতে বিভিন্ন কোম্পানিতে বিক্রি করা হয়। পরবর্তী এই মালগুলো থেকে খেলনা, চেয়ার, বালতি, বোতল সহ নানা ধরনের জিনিসপত্র তৈরি হয়।

তিনি বলেন- মাসের ভাড়া দিয়ে শ্রমিকদের বেতন দিয়ে মাসে ৩/৪ লাখ টাকা থাকত আমাদের। কিন্তু বর্তমানে ব্যবসার অবস্থা মন্দা হওয়ায় আয় কমেছে। কিন্তু এরই মাঝে প্রতিটা দিন স্থানীয় কিশোর গ্যাং এর চাঁদাবাজির ঘটনায় আমরা এখন অতিষ্ট। এর আগে প্রশাসনকে জানিয়ে তেমন কোনো লাভ হয়নি। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই বন্ধ করে দিব।

মালিক পক্ষের বিদ্যুৎ বলেন- নিয়মিত এসব কিশোর গ্যাং এর সদস্যরা আমাদের এবং শ্রমিকদের ব্ল্যাকমেইলিং করে চাঁদা দাবি করে। হঠাৎ হঠাৎ এসে জোড় পূর্বক শ্রমিকদের ধরে মোটরসাইকেলে উঠিয়ে নিয়ে যায়, তাদের মোবাইল ছিনিয়ে নেয় এবং তাদেরকে আটকে রেখে আমাদের ফ্যাক্টরিতে ফোন দিয়ে মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবি করে। তা না হলে সেই শ্রমিকের ক্ষতি করবে বলে হুমকি দেয়। এসব এখন নিত্য দিনের ঘটনা। আমরা অতিষ্ট হয়ে গেছি। আর পারছি না।

জানা গেছে, এখানে কর্মরত শ্রমিকরা প্রত্যেকে রংপুর সহ বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শিশু সন্তান সহ পরিবার নিয়ে এসে এখানে কাজ করেন। অর্থাৎ ভাঙারি পণ্যের এই প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে গেলে পরিবার সহ তাদের না খেয়ে থাকতে হবে এবং গ্রামে ফিরে যেতে হবে। তবে সঙ্গত কারণে অভিযুক্ত কিশোর গ্যাং এর সদস্যদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি মালিক পক্ষ। তাদের দাবি- গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পর তারা এই পথ থেকে সরে না এলে পরবর্তীতে তাদের নাম প্রকাশ করা হবে।

এদিকে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে মালিক পক্ষ।

ভিডিও সংবাদটি দেখতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন –