• ঢাকা
  • রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন

এআই শেয়ারে ধস, বেশি চাপে চীনের প্রযুক্তি খাত!


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ৯:১৭ PM / ২৯
এআই শেয়ারে ধস, বেশি চাপে চীনের প্রযুক্তি খাত!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্ববাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের শেয়ারে দরপতনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে চীনের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর। দেশটির প্রযুক্তিনির্ভর স্টার৫০ সূচক গত ছয় মাসে প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে।

এতে প্রযুক্তিতে বৈশ্বিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শেয়ারবাজারকে কাজে লাগানোর চীনের পরিকল্পনা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের বড় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মেটাএক্স ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটস সাংহাই ও মুর থ্রেডস টেকনোলজির শেয়ারের দামও একই সময়ে প্রায় অর্ধেক কমেছে।

চীনা সরকারের প্রযুক্তি খাতকে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ এবং বিশ্বজুড়ে এআইয়ের চাহিদা বৃদ্ধির আশায় বিনিয়োগকারীরা দেশটির প্রযুক্তি শেয়ারে বিপুল বিনিয়োগ করেছিলেন। এতে এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে স্টার৫০ সূচক প্রায় ৭৫ শতাংশ বেড়েছিল, যা দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচকের চেয়েও বেশি।
তবে পরে কোম্পানিগুলোর ভবিষ্যৎ আয় ও এআই প্রযুক্তির চাহিদা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়তে থাকে। উচ্চ মূল্যায়নে থাকা শেয়ারগুলোতে বিক্রির চাপ তৈরি হয়। এর ফলে চীনের প্রযুক্তি শেয়ারবাজারে বড় দরপতন দেখা দেয়।

গাভেকাল ক্যাপিটালের পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপক লিওনিদ মিরোনভ বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে প্রযুক্তি শেয়ারের দরপতন চলতে থাকলে চীনের এআই খাতের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। ছয় মাসের বেশি সময় বাজার দুর্বল থাকলে কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন অর্থ সংগ্রহ কঠিন হবে। একইসঙ্গে প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতিও প্রকাশ পাবে।

বিশ্লেষক জেসন লিয়াও ও মারভিন চেনের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা চীনের প্রযুক্তি শেয়ারে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু পরে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্ববাজারে এআই হার্ডওয়্যার খাতের শেয়ারে দরপতন শুরু হলে চীনের মূল ভূখণ্ডের শেয়ারবাজারে এর প্রভাব আরও বেশি পড়ে।

হংকংয়ের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের চীনের স্থানীয় শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া একটি ব্যবস্থার আওতায় তৃতীয় প্রান্তিকে আনুমানিক ৯০ বিলিয়ন ইউয়ান বা ১৩৫০ কোটি ডলার প্রত্যাহার করা হয়েছে। এক বছরে এটিই সর্বোচ্চ অর্থ প্রত্যাহারের ঘটনা। এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে আসা বিদেশি বিনিয়োগের অর্ধেকেরও বেশি এতে উল্টো পথে চলে গেছে।

সাম্প্রতিক দরপতনে চীনের নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেমোরি চিপ নির্মাতা সিএক্সএমটি করপোরেশনের শেয়ার জুলাইয়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর সর্বোচ্চ দরের তুলনায় ২৭ শতাংশ কমেছে। রোবট নির্মাতা ইউশু টেকনোলজির শেয়ারও আগস্টে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) পর সর্বোচ্চ দরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ হারিয়েছে।

সাম্প্রতিক দরপতনের পরও চীনের এআই-সংশ্লিষ্ট শেয়ারের মূল্যায়ন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। স্টার৫০ সূচকের শেয়ারগুলো বর্তমানে ভবিষ্যৎ মুনাফার তুলনায় ৪০ গুণের বেশি দরে লেনদেন হচ্ছে। তুলনায় দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচকের এ অনুপাত পাঁচ গুণের কম এবং নাসডাক ১০০ সূচকের ক্ষেত্রে ২১ গুণ।

গ্যাম ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের তহবিল ব্যবস্থাপক জিয়ান শি কর্তেসির মতে, বর্তমান দরপতনকে কারিগরি সংশোধন হিসেবে দেখা যেতে পারে, সস্তায় শেয়ার কেনার সুযোগ হিসেবে নয়। তার ধারণা, উচ্চ সম্ভাবনাময় অনেক প্রযুক্তি কোম্পানির শেয়ার আরও ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ কমলে তবেই উল্লেখযোগ্য দরকষাকষির সুযোগ তৈরি হতে পারে। সূত্র: দ্য এজ মালয়েশিয়া