• ঢাকা
  • শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন

সংস্কৃতির চারণভূমি ইবি


প্রকাশের সময় : জুলাই ১৬, ২০২০, ১২:৩৮ PM / ৯১
সংস্কৃতির চারণভূমি ইবি

সাব্বির আহমেদ : সাংস্কৃতিক রাজধানী কুষ্টিয়াতে গড়ে উঠেছে সংস্কৃতি চর্চার এক অন্যরকম চারণভূমি। নিত্যকার পৈশাচিক কর্মকাণ্ডের বদলে এখানে ফুটে উঠছে সাংস্কৃতিক প্রতিচ্ছবি। সংস্কৃতির অবাধ চর্চার মাধ্যমে দিন বদলের শুভ সূচনা হবে এই প্রত্যাশায় কাজ করে যাচ্ছে কুষ্টিয়ার শেষ সীমান্তে প্রান্তিক জনপদে অবস্থিত স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। যেখানে সংস্কৃতি চর্চা একদিন স্বপ্ন মনে হতো আজকে সেই ইবিই সংস্কৃতির চারণভূমি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে তুলেছে। খেলাধূলা, সংস্কৃতির প্রসার- বিকাশ ঘটিয়ে অথবা সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে সমাজের চলমান সমস্যা সমাধান সহজতর পদ্ধতি বলে বিবেচনা করা হয়।

একটি জাতির পরিচয় বহন করা সংস্কৃতির তাগিদে জাতির নিজস্ব সংস্কৃতির চর্চা ও প্রতিপালনে সর্বোচ্চ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। ঘুনেধরা সমাজের সংস্কৃতি মেরামতে সুচিকিৎসার প্রয়োজন। তাইতো সকল প্রকার অপশক্তিকে সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে রুখে দেওয়ার প্রচেষ্টায় কাজ করে চলেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন। বাংলাদেশের আগামী প্রজন্মকে সুস্থ সাংস্কৃতিক ধারায় দীক্ষিত করতে সামনে থেকে কাজ করে চলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী। শুধু ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় নয়,বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক গণজাগরণ সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন রাশিদ আসকারী।

সুস্থ ধারার ও সৃজনশীল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে চলেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক সংগঠন। বিভিন্ন সময় নাটক, কবিতার আসর, সংগীতানুষ্ঠান, বিতর্ক, সেমিনার ও বিভিন্ন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এসব সংগঠন ক্যাম্পাসবাসীর চিত্তে প্রশান্তি আনতে অনন্য ভূমিকা পালন করে। আন্তবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক,আবৃত্তি,নৃত্যতে বিগত বছরগুলোতে গৌরবের সাথে সাফল্য ছিনিয়ে এনেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় থিয়েটার সাংস্কৃতিক চর্চার ক্ষেত্রে প্রতিনিয়তি নিজেদেরকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। পথনাটক থেকে শুরু করে নানাবিধ কার্যক্রমে ক্যাম্পাসকে মুখরিত করে তোলেন এসব সংগঠনের সদস্যরা। প্রাণের সঞ্চার ঘটাতে সংস্কৃতির চর্চাকে অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করে প্রশাসনও বিভিন্ন সময়ে নানাবিধ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকেন। পহেলা বৈশাখে বিশ্ববিদ্যালয় যেন এক নতুন রূপে সাজে। আর বর্তমান প্রশাসনের উদ্যোগে বৈশাখী মেলার আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দের এক নতুন আবহ সংযুক্ত করেছে। বৈশাখী মেলার চমৎকার আয়োজন মুগ্ধতার সুবাস ছড়ায় চারিদিকে। মেলা প্রাঙ্গণে তুলে আনার চেষ্টা করা হয় বাঙালির হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যেকে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং প্রশাসন বাঙালির ইতিহাস ঐতিহ্যের সংস্কৃতিকে লালন করে প্রতিবছর আয়োজন করে চলেছেন লাঠিখেলার। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাঠিখেলোয়ারেরা উপস্থিত হয়ে জানান দেন বাংলার ঐতিহ্যের। এই ঐতিহ্যেকে টিকিয়ে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন উদ্যোগ সাধুবাদ পেয়েছে বিভিন্ন মহলে। এছাড়াও ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপালাকে টিকিয়ে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় যাত্রা উৎসবের। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে গতি এনেছে বাংলামঞ্চের নবরূপ। নতুন ভাবে বাংলামঞ্চ নির্মাণের পরে থেকে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুখরিত থাকে সবসময়ই। শিক্ষার্থীরাও পেয়েছে তাদের সংস্কৃতি চর্চার একটি স্বীকৃত স্থান। সংস্কৃতি চর্চার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে সুবিশাল ছাত্র-শিক্ষক সম্মেলন কেন্দ্র। যেখানে প্রতিনিয়তই বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠনগুলো। এই গতিধারা অব্যাহত রাখতে চারুকলা বিভাগের যাত্রা শুরু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনের অধীনে। সংস্কৃতির চারণভূমি ইবি এখন নতুনরূপে স্বপ্ন দেখছে একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ের। মুজিববর্ষ উপলক্ষে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের উদ্যোগ ইতোমধ্যে চলমান রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃতি চর্চার এই ধারা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক মনস্ক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের হিংসার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/কেএস/১২:৩৮পিএম/১৬/৭/২০২০ইং)