• ঢাকা
  • বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৯ অপরাহ্ন

শুরুতেই বিতর্কে কাশীপুর সমাজ উন্নয়ন সংসদের নতুন কমিটি


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৪, ২০২৬, ৮:৫৯ PM / ৩৬
শুরুতেই বিতর্কে কাশীপুর সমাজ উন্নয়ন সংসদের নতুন কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক : কাশীপুর সমাজ উন্নয়ন সংসদের নবনির্বাচিত কার্যকরী কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সংগঠনের ব্যয় নির্বাহের অর্থ সংগ্রহের কথা বলে প্রতিষ্ঠানের আঙিনার গাছ কেটে ফেলা এবং দীর্ঘদিনের জমানো আসবাবপত্র ও লোহার গেট বিক্রির উদ্যোগ নেওয়ায় সাধারণ সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সংসদের আঙিনা ও গ্যালারির পাশের বড় বড় গাছগুলো কেটে ফেলেছে নতুন কমিটি। খোজ নিয়ে জানা গেল, পুরোনো আসবাবপত্র ও লোহার গেইটও বিক্রি করে দিয়েছে কমিটি।

সাধারণ সদস্যদের অভিযোগ, একটি সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের সম্পদ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের দায়িত্ব যেখানে নবনির্বাচিত কমিটির, সেখানে উল্টো গাছ কেটে এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের ব্যবহার্য সম্পদ বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য, পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ সম্পদ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, কাশীপুর সমাজ উন্নয়ন সংসদের রয়েছে চারতলাবিশিষ্ট একটি মার্কেট এবং সেখানে দশটিরও বেশি দোকানপাট। এসব দোকান থেকে নিয়মিত ভাড়া বাবদ আয় হওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন প্রতিষ্ঠানের গাছ ও স্থায়ী সম্পদ বিক্রির প্রয়োজন দেখা দিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ সদস্যরা।
তাদের মতে, প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ এবং বিকল্প অর্থসংস্থানের ব্যবস্থা না করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে সদস্যদের আস্থা ও সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এ ছাড়া গাছ কাটার ক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণসংক্রান্ত আইন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যথাযথ অনুমোদন ছাড়া গাছ কাটা হয়ে থাকলে তা সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধানের লঙ্ঘন হতে পারে।
সাধারণ সদস্যদের দাবি, গাছ কাটা এবং আসবাবপত্র ও লোহার গেট বিক্রির বিষয়ে কমিটির পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব সদস্যদের সামনে প্রকাশ করতে হবে এবং সদস্যদের মতামত ছাড়া প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ বিক্রির মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে। সাধারণ সদস্যদের প্রশ্ন—প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত আয়ের উৎস থাকা সত্ত্বেও গাছ কেটে এবং দীর্ঘদিনের সম্পদ বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহের প্রয়োজন কেন?
এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয় নবনির্বাচিত সভাপতি শফিক রহমান রাজনের সঙ্গে। তিনি জানান, এসব অভিযোগ মিথ্যে। মূলত চলাফেরা করতে সমস্যা হওয়ায় গাছটি কাটা হয়েছে এবং পুরনো গেট বিক্রি করা হয়নি, আগামীকাল নতুনভাবে এটিকে লাগানো হবে।

অপরদিকে সংগঠনটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মেজবাহ উদ্দিন দুলাল বলেন, আপনাদের অভিযোগ সত্যি। আমি দেখেছি এসব বিক্রি করতে। আমি এ ব্যাপারে
সংগঠনের সাধারন সম্পাদককে জিজ্ঞেস করায় তিনি বললেন এই গাছের অক্সিজেন ভাল না, তাই গাছ কাটা হচ্ছে। আর আসবাবপত্রও তারা বিক্রি করেছে। তবে আমি মনে করি কিছু সদস্যের মধ্যকার ক্ষোভের কারণে এই ধরনের তথ্য বাইরে লিক হচ্ছে, যা দুঃখজনক।

সাধারণ সদস্যদের প্রশ্ন—প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত আয়ের উৎস থাকা সত্ত্বেও গাছ কেটে এবং দীর্ঘদিনের সম্পদ বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহের প্রয়োজন কেন হলো এ বিষয়টি তদন্ত করে সবার সামনে উপস্থাপন করা উচিত।