• ঢাকা
  • শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি …


প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ১৬, ২০১৭, ১১:৩৪ PM / ১৩২
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি …

 
মোঃ রেজাউল করিম : সম্মানিত সুযোগ্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আসসালামু আলাইকুম। নিরুপায় হয়েই পত্রটা লিখছি। জানিনা এতে করে অামার কোন অন্যায় হয় কিনা। যদি কোন অন্যায় হয় তাহলে আপনার নিকট অগ্রীম ক্ষমা প্রর্থনা করছি। বাংলাদেশের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে ৬৪টি জেলায় ৭৭টি পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি। বাংলাদেশ সরকার তথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তীক প্রচেষ্টায় এবং মাঠ পর্যায়ের বিদ্যুৎকর্মীদের শ্রমের সমন্বয়ে বর্তমানে বিদ্যুৎ বিভাগে উন্নয়নের আলো জ্বলে উঠেছে। আজকে সেই খেটে খাওয়া শ্রমিক যারা সকাল-রাত্রী, রোদেপুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে গ্রাহকদের বিদ্যুৎসেবা নিশ্চিত করে, তারাই প্রতিষ্ঠানের কাছে অবহেলীত, নির্যাতিত, বঞ্চিত হয়ে গত ৩৮ বৎসর যাবৎ শ্রমদিয়ে যাচ্ছে। শ্রমিকগণ যখনই সচেতন হয়ে আধীকারের কথা বলছে তখনই তাদের উপর চালানো হচ্ছে নির্যাতনের খর্গ। এর পিছনের কারণটি হয়তো আপনি বুঝতে পারছেন। ১৯৮৬ইং- ১৯৯৭ইং একইভাবে নির্যাতনের বলি হয়ে চাকরী হারাতে হয়েছে কয়েকশত কর্মচারীকে। যাদের মধ্যে অনেকেরই অবস্থা এতটাই করুণ হয়েছিল যে সন্তানদরকে শিক্ষিত করে গড়তে ব্যার্থ হয়ে কোনরকম দিন যাপন করেছে। তৎকালীন সময়ে ঐসব অসহায়দের পাশে কেউ দাঁড়ায়নি। কারো মধ্যে কোন প্রকার মানবতা জন্ম হয়নি। অধীকারের কথাটা বলা তখনকার সময়ে হয়তো আইনত অপরাধ ছিলো। বর্তমান ২০১৩-২০১৫ইং সচেতন শ্রমিক কর্মচারীগণ নিজেদের অধীকার আদায়ের বিষয়ে সুশৃঙ্খলভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের দিকে অগ্রসর হয়েছে বুকে একটু সাহস নিয়ে। কারন, আপনার নিজ তত্বাবধানে খেটে খাওয়া মানুষের অধীকার বাস্তবায়নে শ্রমআইনকে যুগোপযোগী করায়।

কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি শ্রমিকদের। গত ৩ বৎসরে অধীকার বাস্তবায়নে যেসকল শ্রমিক কাজ করে আসছিলো যেসকল কর্মচারী, তাদের অবস্থাও পূর্বসূরিদের মতন। এই কয়েক বৎসরে ম্যানেজমেন্টের রোষানলে পরেছে প্রায় ১৫০ জন শ্রমিক কর্মচারী। এদের মধ্যে চাকরী হারিয়েছে ৫জন, সময়ীক বরখাস্ত আছে প্রায় ২০জন, নির্যাতন ও জিম্মি করে রেখেছে বাকিদেরকে। ম্যানেজমেন্ট দাপ্তরিক বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে প্রশাসনকে ভুল বুঝানোর চেষ্টা করে আসছে। শ্রমিক-কর্মচারীগন এ বিষয়ে মাননীয় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী মহোদ্বয়ের দারস্থ হয়েও কোন ফল পায়নি। তাই সর্বকালের শ্রেষ্ঠ গণতান্ত্রীক রাষ্ট্র নায়ক প্রাণপ্রিয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমার বিনয়ী অনুরোধ- এই সকল বঞ্চিত, নির্যাতিত, অবহেলীত শ্রমিক-কর্মচারীদের বিষয়ে আপনার দয়াময় ও বিচক্ষণ দৃষ্টিদান একান্তভাবে প্রয়োজন। অন্যথায় এই প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের অধীকার কোনদিনও আদায় হবেনা। আর পূর্বের ন্যায় এবারো পথে বসবে প্রায় ৩০০ পরিবার। আপনাকে আরো জানানো প্রয়োজন এই প্রতিষ্ঠানে গ্রাহকসেবা দিতে প্রাণ বিষর্জণ দিয়েছে ১৩৮জন শ্রমিক, আর দুর্ঘটনায় পঙ্গু জীবন-যাপন করছে প্রায় ৩০০ জনের উপরে। ম্যানেজমেন্ট তাদের জন্যে কোন সুব্যাবস্থাও নেয়নি। তাছাড়া এই সংবাদগুলো কোন প্রচার মাধ্যমেও আসেনি। সুযোগ্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট আবারো অনুরোধ- এই অসহায় শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য আপনার দয়াদৃষ্টি দান করুন।

পরিশেষে চিঠিতে সকল প্রকার ভুলের জন্যে মাফ করবেন। আপনার ও আপনার পরিবারবর্গের দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনায় এবং আপনার দেশ পরিচালনায় আরো সাফল্য কামনায়।

মোঃ রেজাউল করিম, একজন পল্লীবিদ্যুৎ কর্মচারী
মোবাইল : ০১৭১০২২১২১০, ০১৭১২৯৬৬৩২৪
mdtohin178@gmail.com, karim966324@gmail.com
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/এসডিপি/১১:১৭পিএম/১৬/২/২০১৭ইং)