• ঢাকা
  • রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৭ অপরাহ্ন

আর্টিকেল ২৬ অনুযায়ী শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্তির দাবি


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ৩:১৯ PM / ৪৭
আর্টিকেল ২৬ অনুযায়ী শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্তির দাবি

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : শিক্ষা মানুষের মৌলিক মানবাধিকার। অথচ বাংলাদেশের সংবিধানে শিক্ষাকে সরাসরি মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। তাই শিক্ষাকে সাংবিধানিকভাবে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান, সবার জন্য বৈষম্যহীন ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ শ্রম মর্যাদার জোর – Bangladesh Call for Labour Dignity (BCLD) এর সমন্বয়ক, শ্রমিক নেতা, রাজনৈতিক কর্মী ও মানবাধিকার সংগঠক মোহাম্মদ বজলুর রহমান বাবলু।

২৫ অক্টোবর ২০২৬ রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, শিক্ষা কোনো বিশেষ শ্রেণি বা গোষ্ঠীর সুযোগ নয়; এটি প্রত্যেক মানুষের অধিকার। ব্যক্তির মর্যাদা, স্বাধীনতা, কর্মসংস্থান, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রের ২৬ অনুচ্ছেদে শিক্ষার অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রত্যেক মানুষের শিক্ষালাভের অধিকার রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বজলুর রহমান বাবলু বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার প্রসারের কথা বলা হয়েছে। তবে শিক্ষাকে সংবিধানের তৃতীয় ভাগে সরাসরি বলবৎযোগ্য মৌলিক অধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে শিক্ষার অধিকার বাস্তবায়নে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা আরও সুস্পষ্ট ও কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে আলোচনা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য, আর্থিক অসচ্ছলতা, ভৌগলিক বৈষম্য এবং শিক্ষা উপকরণের ব্যয়ের কারণে বহু শিশু ও তরুণ মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়। শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তানদের জন্য শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, শিক্ষা মানুষের সামগ্রিক বিকাশের ভিত্তি। শিক্ষাকে কেবল বাজারের চাহিদা কিংবা কর্মসংস্থানের উপকরণ হিসেবে দেখলে চলবে না। শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের চিন্তা, বিবেক, সৃজনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও গণতান্ত্রিক চেতনার বিকাশ ঘটাতে হবে। এ জন্য শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ও বৈষম্য কমিয়ে সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে কার্যকর নীতি গ্রহণ জরুরি।

তিনি সরকারের প্রতি শিক্ষায় পর্যাপ্ত বরাদ্দ বৃদ্ধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ, ঝরে পড়া রোধ এবং দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে শিক্ষাকে সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ও নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

বিবৃতিতে মোহাম্মদ বজলুর রহমান বাবলু বলেন, শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠা কোনো একক ব্যক্তি বা সংগঠনের দায়িত্ব নয়। এ লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, শ্রমিক, পেশাজীবী, নাগরিক সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রতিটি শিশুর শিক্ষালাভের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা থেকে কাউকে বঞ্চিত রেখে টেকসই উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার কিংবা সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “শিক্ষা কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়; শিক্ষা মানুষের অধিকার। শিক্ষাকে সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং প্রত্যেক নাগরিকের জন্য মানসম্মত, বৈষম্যহীন ও সহজলভ্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।”

দাবিসমূহ
১. শিক্ষাকে বাংলাদেশের সংবিধানে সরাসরি মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিতে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ।
২. সবার জন্য অবৈতনিক, বাধ্যতামূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা।
৩. দরিদ্র ও শ্রমজীবী পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে কার্যকর সহায়তা প্রদান।
৪. কারিগরি, বৃত্তিমূলক ও উচ্চশিক্ষায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
৫. শিক্ষায় বৈষম্য, ঝরে পড়া এবং আর্থিক প্রতিবন্ধকতা কমাতে কার্যকর নীতি গ্রহণ।
৬. শিক্ষার অধিকার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ও নীতিগত সংস্কার বাস্তবায়ন।