• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৫ অপরাহ্ন

”প্রসঙ্গ : আইভী-শামীম ওসমান ও বিএনপির ক্যাডার”


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১৮, ২০১৮, ১০:১০ AM / ৩১৩
”প্রসঙ্গ : আইভী-শামীম ওসমান ও বিএনপির ক্যাডার”

সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি : সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত কাউন্সিলররা যদি ব্যাক্তিগতভাবে বিএনপি বা অন্য কোনো দলের হয়েও থাকে, তারপরও কি তারা আওয়ামী লীগকে দেখে ঘরে বিড়াল সেজে বসে থাকবে? কোনো রাজনীতিক সদস্যরা কি তা করে? সুযোগ পেলে তো বিড়ালও বাঘ হতে চায়। আপাতদৃষ্টিতে হকার উচ্ছেদ কোনো রাজনৈতিক ভোট নয়, শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার কঠিণ চেষ্টামাত্র। এখন কথা হচ্ছে- যেখানে নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী নিজে পথে নেমেছিলেন সেদিন ‌’হকার ঠেকাও’ এর নামে ‘শামীম ওসমান ঠেকাও’ আন্দোলনে, সেখানে তাঁরই সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত কাউন্সিলররা কি আওয়ামী লীগ নয় বলে মুখে আঙ্গুল দিয়ে বসে থাকত? আর তাতে করে কি সেই কাউন্সিলরদের পদ-পদবি রাখতেন মেয়র সাহেব? ডিশ বাবুর মতো নাসিক এর গেইট কি তাদের জন্যও বন্ধ হয়ে যেতো না? হ্যা, শামীম ওসমানের মতো বাঘা রাজনীতিক ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের বগলে পেয়ে বিএনপি নেতারা (কারো কারো কথায়-বিএনপির ক্যাডার) হয়ত একটু বেশিই হাত-পা চালিয়েছেন। মনের খায়েশ মিটিয়েছেন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এমন আন্দোলনে সাপোর্টের সহিত অংশ নিতে পেরে। এইটুকুই যা! কিন্তু ১৫ জানুয়ারির ঘটনাটির গুরুত্ব ছিলো রাজনীতিক উদ্দেশ্য’র চেয়ে বেশি শহর পরিচ্ছন্ন রাখার আন্দোলন হিসেবে। সুতরাং- ‌””আইভী বিএনপি ক্যাডারদের সাথে নিয়ে নিজ দলের নেতার উপর হামলা চালিয়েছে, আজকে শামীম ওসমানের কিছু একটা হয়ে গেলে আইভী বিএনপিতে যোগ দেবে”” এসব কথার কোনো ভিত্তি নেই। দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার যে কোনো ভাল/মন্দ পরিস্থিতিতে একজন মেয়র ডাকলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলররা তার সাথে এসে যোগ দেবে এটাই সাভাবিক। এখানে বিএনপি-আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টি বলে কেউ আসবে, কেউ আসবে না এমন কোনো নিয়ম নেই। হ্যা, একজন আইভীর সাথে একজন শামীম ওসমানের ‌ব্যক্তিগত খুনাখুনি থাকতেই পারে, কিন্তু একজন আইভী বারবার মেয়র পদে নির্বাচিত হয়ে আসার জন্য রাজনৈতিক সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই। সেটা ইতিপূর্বেই প্রমাণিত।

এদিকে, শামীম ওসমান যা করেছেন তা একজন দক্ষ ও সত্যিকারের নেতার করণীয় ছিলো। নেতা বরাবরই গণমানুষের অধিকার আদায়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন এটাই সাভাবিক। আমার নিজ চোখে দেখা- হকার উচ্ছেদের পর থেকেই এসব দরিদ্র মানুষগুলোর কারো কারো ঘরে ভাত রান্নার জন্য সামান্য চাল’ও কিনতে পারছিল না, ছেলেমেয়দের লেখাপড়া একরকম থমকেই গেছে। নতুন বছরে স্কুল-কলেজে ভর্তির ফি ও নতুন বই কিনতে না পারা দেখেছি প্রায় প্রতিটি পরিবারে। শৈত্য প্রবাহের তীব্র শীতের কাঁপুনীর সাথে পাল্লা দিয়ে এসব দরিদ্র পরিবারের কষ্টগুলো যেনো শহরটাকে স্তব্ধ করে দিয়েছিলো। নিম্ন আয়ের মানুষগুলো দিন আনে দিন খায়। তারা কাজ না করলেও মাস শেষে ঘরে বসে বেতন পায় না। একদিন হকারি করে মাল বিক্রি বন্ধ থাকা মানেই একটি পরিবারের একটি দিন না অচল। তো এই সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে মাঠে নেমে শামীম ওসমানের মতো বাঘা রাজনীতিক কোনো ভুল করেন নি। হ্যা, আগের দিন তাঁর বক্তব্য দিয়ে উষ্কে দেয়াটাই ছিলো ভুল সিদ্ধান্ত(হয়ত)। সব মিলিয়ে আন্দোলনটা আপাতদৃষ্টিতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত ছিলো না, ছিলো- নগরীর সৌন্দর্য্য ফিরিয়ে আনা বনাম অসহায়-দরিদ্র নাগরিকদের উপার্জনের পথকে টিকিয়ে রাখা। যেটা অন্য কোনোভাবেই সেদিন পর্যন্ত হচ্ছিল না। সব মিলিয়ে যার যার জায়গা থেকে সঠিক ছিলেন বলে আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে মনে হয়। (এটি কেবলই লেখকের ব্যক্তিগত মতামত। কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই এই লেখায়)

pp-pic-new

লেখক : সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি
সাংবাদিক ও কলামিস্ট

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/এসডিপি/১০:এএম/১৮/১/২০১৮ইং)