• ঢাকা
  • বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন

‘আমি আমার বাবার সুযোগ্য কন্যা সন্তান, মীর জাফর নই’


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৬, ২০১৯, ১২:২৮ PM / ২৯৯
‘আমি আমার বাবার সুযোগ্য কন্যা সন্তান, মীর জাফর নই’

সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি: কন্যা সন্তান হিসেবে আমি মীর জাফর হতে পারিনি, আর তাই জন্মসূত্রে পাওয়া বাবার বংশীয় নামখানাই নিজের নামের সাথে জুড়ে রেখেছি এবং আমৃত্যু তাই রাখব। ক্যারিয়ারে নিজের পরিচিতির পাখা মেলে উড়তে উড়তে ওই দুর আসমানের যত কাছাকাছি যাচ্ছি, এই নামখানাও ঠিক ততখানিই নিয়ে যাচ্ছি। ‘কেনো নিজের নামের সাথে স্বামীর নাম জুড়ে নিচ্ছিনা’ অনেক মূর্খই এই নিয়ে আমাকে মাঝে মধ্যে বেশ কথা শুনান। বরাবরই তারা যুক্তি দেখাতে পারেন না, তবে তর্ক করে যান বেশ জোড়ালো ভাবে। কিন্তু জীবন থাকা অবধি আমি আমার অস্তীত্ব্য মুছে ফেলতে রাজি নই। সেইসব কন্যা সন্তানদের প্রতি আমার করুণা হয়, যারা বিয়ের পর নিজের জন্মসূত্রে পাওয়া বংশীয় নাম মুছে ফেলে ন্যাকামি করে স্বামীর নাম নিজের নামের সাথে জুড়ে নেয়। যদিও যুগের পালাবদলে আজকাল অনেক কন্যা সন্তানরাই বৈবাহিক সম্পর্কের নামে বিদায় নিয়ে গিয়ে নাম পাল্টে ফেললেও, ফের দুর্ভাগ্যবশত কোনোনা কোনোভাবে বাবার বাড়িতেই ফিরে আসে। তখন আবার তারা বেহায়ার মতো বাবার নামখানাই নিজের নামের সাথে জুড়ে দেয়। হাস্যকর! আফসোস হয় তাদের জন্য, যাদের একটা নামও তারা নিজের বলে দাবি করতে পারেনা। কখনো এর নাম কখনো ওর নাম জুড়ে নেয় নিজেদের নামের সাথে, আবার মুছেও ফেলে নিজ ইচ্ছেতে। আসলে নারীরা নিজেরাই নিজেদেরকে জলে ভাসা পদ্মে রুপান্তরিত করে নিয়েছে, সমাজ আর করবেটা কি? যে নারী তার জন্মসূত্রে পাওয়া নিজের একখানা নাম সামলে রাখতে পারেনা, সে নারীরা এই সমাজের জন্য আর করবেটা কি? দুর্বল, মূর্খ নারীরা শুধু ‘অধিকার চাই অধিকার চাই’ বলে গলা ফাটিয়ে ফেলে। অথচ ওরা নিজেরাই যে নিজেদের অস্তীত্ব্যটাকেই দুমরে মুচরে নষ্ট করে দিচ্ছে তা বোঝার জ্ঞান থাকলে কি আর এমনটা হতো? ওরা হয়ত বোঝেইনা যে- অধিকার চাইতে হয়না, সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের মধ্যদিয়েই অধিকার আপনাআপনি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। সৃষ্টির নিয়ম অনুযায়ী মেয়েদের নামের সাথে শুধুমাত্র বাবার নামই জুড়ে থাকবে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ তাআ’লা বলেন, ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِندَ اللَّهِ ‘তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাক। এটাই আল্লাহর কাছে ন্যায়সঙ্গত।’ (সূরা আহযাব ৫)। আলেম/মাওলানা সাহেবদের থেকেও জানা যায় যে- ‘‘যেহেতু ইসলাম ধর্মে জন্মের পরেই আকিকা দিয়ে নাম রাখা হয় তাই এক্ষেত্রে বিয়ের পর নতুন নাম রাখা একদমই জায়েজ নয়।’’ দেশের গন্ডির ভেতরেই উদাহরন দেখাবো আজকে। যেমন- এদেশে বিখ্যাত/সেলিব্রিটি/প্রভাবশালী স্বামীদের স্ত্রীরা খুব আনন্দের সাথে স্বামীর নাম ব্যবহার করেন নিজেদের নামের সাথে, বিবাহ বিচ্ছেদের মাধ্যমে স্বামী সাবেক হলেও সেই নাম তারা জুড়ে রাখেন। তন্মধ্যে সদ্যপ্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশাকে খেয়াল করে দেখুন- যে স্বামীর সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে তালাক হয়ে গেছে বহুদিন আগে, সেই স্বামীর নামটি অবৈধভাবে ব্যবহার করেই তিনি তার সকল কর্ম করে যাচ্ছেন এখনো। অথচ এরশাদ সাহেবের আগেওতো তার একজন স্বামী ছিলেন। যে স্বামীর সংসারে তার একাধিক সন্তান রয়েছে। তাহলে সেই স্বামীর নাম নিজের নামের সাথে না জুড়ে কেনো শুধুমাত্র এরশাদের নামখানাই তিনি বিবাহ বিচ্ছেদের পরেও নিজের সাথে জুড়ে রেখেছেন? হিসেবেতো তিনি এখন একজন পরপুরুষের নাম নিজের নামের সাথে জুড়ে রেখেছেন। হায়রে নারী! নিজেদেরকে আর কত নিম্ন শ্রেণীতে তোমরা নিয়ে যাবে। নিজেদের অস্তীত্ব্য বলতে কিছুই নেই তোমাদের। শুধুমাত্র সমাজে প্রভাবশালী হলেই সে যদি সাবেক স্বামীও হয়, তবুও তার নামখানা নিজের নামের সাথে জুড়ে রাখতে হবে তোমাদের? ছি….। রাসূল (স.) বলেছেন: ‘যে কেউ নিজেকে বাবার নাম ছাড়া অন্য নামে ডাকবে তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতা ও সমগ্র মানুষের লা’নত বর্ষিত হবে।’ (মুসনাদে আহমাদ)। মহানবী (সা.) আরো বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি জেনে শুনে নিজেকে নিজের পিতা ছাড়া অন্যের সাথে সংযুক্ত করে, তার জন্য জান্নাত হারাম হয়ে যাবে।’ (ইবনে মাজাহ)। যদি স্বামীর নামে পরিচিত হওয়া বা স্বামীর নাম নিজের নামের সাথে যুক্ত করা আভিজাত্য বা মর্যাদার ব্যাপার হতো, তাহলে আমাদের প্রিয়নবী (স) -এর স্ত্রীগণ বা উম্মাহাতুল মু’মিনীনগণও তাঁদের নামের সাথে হযরত (স) এর নাম যুক্ত করতেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো তাঁদের কেউই তা করেননি। বরং প্রত্যেকে নিজেদের পিতার নামেই পরিচিত ছিলেন, যদিও তাঁদের কারো কারো পিতা কাফের ছিল। হযরত ‘আয়েশা সিদ্দীকা (রা) বিয়ের পর তাঁর নাম পরিবর্তন করে ‘আয়েশা মুহাম্মদ’ রাখেননি। বরং তিনি তাঁর পিতা আবুবকর সিদ্দীকের (রা) পরিচয় অক্ষুণ্ন রেখেছেন। সুতরাং গর্ব করে বলতে পারি- আমি আমার বাবার সুযোগ্য কন্যা সন্তান, মীর জাফর নই।

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট ও মানবাধিকার কর্মী।

 
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/এসডিপি/১২:২২পিএম/৬/১০/২০১৯ইং)