

ক্রিকেট চালু হওয়ার পর থেকে এত দীর্ঘ সময় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামকে ‘নিস্তব্ধপুরী’ হয়ে থাকতে দেখেননি কেউ। গত এক যুগে একদিন মিরপুরের মূল ফটক বন্ধ থাকলেই অনেকের দম বন্ধ হয়ে যেত। সেই ‘হোম অব ক্রিকেট’র বন্ধ দুয়ার খুলল প্রায় সাড়ে তিন মাস পর।
ক্রিকেটাররা তো বটেই, সাংবাদিক, বিসিবির কর্মচারীরাও একমুঠো স্বস্তি খুঁজে পেলেন। রোববার সকাল ৯টার আগে সাংবাদিকরা উপস্থিত, আর নির্ধারিত সময়ের আগেই হাজির মুশফিকুর রহিম। তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। অনুশীলনের ক্ষেত্রে বরাবরই যে তিনি ক্লাসের ফার্স্ট বয়।
মুশফিক এসেই বিসিবির ট্রেনার তুষার কান্তি হাওলাদারের তত্ত্বাবধানে রানিং শুরু করেন। সীমিত আকারে, ব্যক্তিগত অনুশীলন। তবু করোনাকালে দীর্ঘ বিরতির পর আবার শুরু হয়ে গেছে মিরপুরের সবুজ গালিচার বুকে ক্রিকেটারদের পদচারণা। দেশে তিনটি ভেন্যুতে কাল অনুশীলন শুরু করেছেন আট ক্রিকেটার।
মিরপুরে অনুশীলন ৯টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও মুশফিক রানিং শুরু করেন ৩০ মিনিট আগে থেকে। রানিং শেষে একটু বিশ্রাম নিয়েই বোলিং মেশিনে ব্যাটিং অনুশীলন করেন তিনি। সেখানে তার অনুশীলন চলে প্রায় এক ঘণ্টা। মুশফিকের আগে ইনডোরে ব্যাটিং অনুশীলন করেন জাতীয় দলের আরেক ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিঠুন। এক ঘণ্টা ব্যাটিংয়ের পর তিনি রানিং করেন। বেলা ১১টার পর ব্যক্তিগত অনুশীলন করতে আসেন পেসার শফিউল ইসলাম।
৩০ মিনিট রানিংয়ের পরই হাঁপিয়ে যান তিনি। ক্রিকেটাররা ঘরে থেকে ফিটনেস ঠিক রাখার চেষ্টা করলেও তাতে যে মরচে ধরেছে তার ছাপ দেখা গেল এই তিনজনের অনুশীলনে।
কিছুদিন আগে ৩৫ ক্রিকেটারের সঙ্গে অনুশীলন শুরু নিয়ে আলোচনা করেছিল বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটি। তাদের মধ্যে থেকে দশজন চারটি ভেন্যুতে অনুশীলন শুরু করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এর মধ্যে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের মাঠে গিয়ে অনুশীলন শুরু করেন মুশফিক। এর পরই নিজস্ব স্থাপনায় অনুশীলন শুরুর উদ্যোগ নেয় বিসিবি।
আগের ফিটনেস ফিরে আসতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে বলে ধারণা বিসিবির ফিটনেস বিভাগের। নিজের অবস্থান জানাতে গিয়ে মোহাম্মদ মিঠুন বলেন, ‘প্রায় চার মাস পরে আজ (রোববার) মাঠে অনুশীলন করার সুযোগ পেয়েছি। ব্যাটিং, রানিং সবকিছু একটু কঠিন মনে হচ্ছে। এতদিন আমরা সবকিছু ঘরে করেছি। তাই বাইরে মানিয়ে নিতে একটু সময় লাগবে। কিন্তু আশা করছি আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে।’
এদিকে সিলেট বিভাগীয় দলের কোচ একেএম মাহমুদ ইমনের তত্ত্বাবধানে সিলেটে রানিং অনুশীলন করেছেন খালেদ আহমেদ ও নাসুম আহমেদ। এক ঘণ্টা অনুশীলনের পর ফিরে যান পেসার খালেদ। বেলা ১১টায় সিলেট স্টেডিয়ামে অনুশীলন শুরু করেন নাসুম। এই স্পিনারও রানিং অনুশীলন সেরেছেন।
খালেদ বলেন, ‘এতদিন বাড়িতে জিম, রানিং এসব করছিলাম। আজ অনেকদিন পর মাঠে গেলাম। মাঠে শুধু রানিং করেছি। তবে মাঠ তো মাঠই। সেখানে দৌড়ানোর অনুভূতিই আলাদা।’ নাসুম বলেন, ‘বাড়িতে বসে যত যাই করি না কেন, মাঠের আবহ দেখা, ঘাস স্পর্শ করা পেশাদার ক্রিকেটারকে দেয় ফুরফুরে ভাব।’
এছাড়া খুলনায় দুই অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ, মেহেদী হাসান ও উইকেটকিপার নুরুল হাসান অনুশীলন করেন। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে স্পিনার নাঈম হাসানের অনুশীলন করার কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। আজ মিরপুরে অনুশীলন শুরু করবেন ইমরুল কায়েস।
বিসিবির আনুষ্ঠানিক অনুশীলন কবে শুরু হবে তা এখনও অনিশ্চিত। অন্য সময়ের মতো প্রথমদিনের এই ব্যক্তিগত অনুশীলনে ছিল না হই-হুল্লোড়। তবুও নিস্তব্ধতা যেভাবে গ্রাস করেছিল ক্রিকেটকে রোববার সকাল হতেই তা থেকে মিলেছে মুক্তি। আড়মোরা ভেঙে দ্রুতই হয়তো আবার জেগে উঠবে দেশের ক্রিকেট।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/কেএস/০১:৫৬পিএম/২০/৭/২০২০ইং)
আপনার মতামত লিখুন :