

সাব্বির আহমেদঃ সারা পৃথিবীতে ফুলের চাহিদা বৃদ্ধির সাথে সাথে এর বাণিজ্যও সম্প্রসারিত হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ফুলের বাজার প্রায় ১২০০ কোটি টাকার। বিশ্বের ফুলের বাণিজ্যে বাংলাদেশের হিস্যা মাত্র ০.৩% হলেও বাংলাদেশের মাটি, জলবায়ু এবং সার্বিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় প্রায় সব ধরনের ফুল চাষ বৃদ্ধি করার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে ফুল উৎপাদনের সাথে প্রায় ২০ হাজার কৃষক সরাসরি জড়িত এবং পরোক্ষভাবে আরও ১ লক্ষাধিক লোক এ সাব-সেক্টরের সাথে জড়িত থেকে তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে যার বেশির ভাগই যশোর কেন্দ্রিক যেখানে প্রায় ৮০০০ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হয়ে থাকে। বাংলাদেশে প্রায় ১০,০০০ হেক্টর জমি বিভিন্ন ফুল চাষের আওতায় রয়েছে, দিন দিন ফুলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং অন্যান্য ফসলের চেয়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় ফুল চাষের জমির আওতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশে ফুলের রাজধানী খ্যাত ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালিতে কাট ফ্লাওয়ার হিসেবে জারবেরা ফুলের চাষ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। দিন দিন এ ফুলের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে কিন্তু এর প্রধান উপকরণ চারা দেশে উৎপাদিত না হওয়ায় পাশ্ববর্তী দেশ থেকে উচ্চমূল্যে (প্রতিটি চারার মূল্য প্রায় ৭০ টাকা) নানাভাবে সংগ্রহ করে যশোর অঞ্চলের চাষীরা ফুল উৎপাদন করে থাকে। এ সকল জারবেরা ফুলের চারার গুণগত মান নিম্নমানের। সুতরাং দেশে ফুলের টিস্যু কালচার ল্যাব স্থাপন করে এক দিকে যেমন রোগমুক্ত সুস্থ্য সবল চারা উৎপাদন করা সম্ভব তেমনি বিদেশ থেকে সংগৃহিত জারবেরা ফুলের চারার চেয়ে কম মূল্যে (প্রতিটি চারার মূল্য প্রায় ৩৫ টাকা) দেশ ব্যাপী সম্প্রসারণ করা যাবে। এ প্রেক্ষাপটে পল্লী-কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং ইফাদ-এর আর্থিক সহায়তায় রুরাল রিকনস্ট্রাশন ফাউন্ডেশন (আরআরএফ) যশোর সদরের রামনগরে একটি টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি স্থাপন করেছে। টিস্যু কালচার ল্যাবে ভারত থেকে জারবেরা ফুলের মাতৃগাছ ও চায়না থেকে উন্নতমানের যন্ত্রপাতি ও রাসায়নিক পদার্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ল্যাব থেকে আরও উন্নত মানের বিভিন্ন ফুলের চারা (ইউস্টোমা, লিলিয়াম, অর্কিড, কার্নেশন এবং অ্যান্থোরিয়াম) টিস্যু কালচারের মাধ্যমে উৎপাদন করে কৃষকদের মাঝে সুলভ মূল্যে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। টিস্যু কালচার ল্যাব থেকে চারা উৎপাদিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ ল্যাব থেকে দেশের মোট চাহিদার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চারা উৎপাদন ও যোগান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এছাড়া গুণগতমান সম্পন্ন, রোগমুক্ত জারবেরা ফুলের চারা সরবরাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে ফুলের উৎপাদন খরচ কমানো এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আয় বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা ও ফুল চাষের লাভজনক ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রকল্প এলাকায় দরিদ্র ও অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠির মজুরি ভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদেও কর্মসংস্থানের পথ উন্মুক্ত হবে। পল্লী-কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) প্রকল্প হতে প্যাকেজিং কোল্ড স্টোরেজ এবং কুলিং ভ্যান চালু করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এর ফলে বিদেশে ফুল রপ্তানির পথ সুগম হবে। আলোচনা শেষে গদখালীর ৪০ জন ফুল চাষীদের মাঝে নিজস্ব টিস্যু কালচার ল্যাব থেকে উৎপাদনকৃত চারা বিতরণ করেন পিকেএসএফ-এর সিনিয়র মহাব্যবস্থাপক ড. আকন্দ মো: রফিকুল ইসলাম। তিনি ফুল চাষীদের সমস্যার কথা ধৈর্য সহকারে শোনেন এবং সমাধানের আশ্বাস দেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রুরাল রিকনস্ট্রাশন ফাউন্ডেশন (আরআরএফ)-এর নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ বিশ্বাস, পিকেএসএফ-এর ভ্যালু চেইন স্পেশালিস্ট মো: রাফিজুল ইসলাম মন্ডল, মো: খোরশেদ আলম, যুগ্ম পরিচালক, বিএডিসি (উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্র) ঝুমঝুমপুর, যশোর এবং মো: রাশেদুল ইসলাম, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, যশোর। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গ্রীণ বায়োটেক টিস্যু কালচার ল্যাবের ল্যাব টেকনিক্যাল ম্যানেজার
মো: হুসাইন আহমেদ (নান্নু)।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/১২:০৫পিএম/১১/১২/২০১৯ইং)
আপনার মতামত লিখুন :