• ঢাকা
  • বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ন

থমথমে উত্তরপ্রদেশের স্কুল কলেজ বন্ধ ঘোষণা


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৯, ২০১৯, ১০:৫০ AM / ১৭৫
থমথমে উত্তরপ্রদেশের স্কুল কলেজ বন্ধ ঘোষণা

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : ভারতের উত্তরপ্রদেশের ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদের ভূমির মালিকানা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। রায় ঘোষণার আগে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টার অভিযোগে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেছে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন স্থান থেকে পাঁচ শতাধিক মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট কয়েক দশকের পুরোনো এই মামলার রায় ঘোষণা করবেন।

শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে ভারতের শীর্ষ এই আদালত জানান, শনিবার সকালের দিকে বিতর্কিত বাবরি মসজিদ ভূমির মালিকানা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। অযোদ্ধার ঐতিহাসিক এই মসজিদের স্থানকে দেশটির হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা রাম মন্দিরের ভূমি দাবি করে সেখানে একটি মন্দির নির্মাণ করতে চান।

অযোদ্ধার বিতর্কিত এই ভূমি মালিকানাকে কেন্দ্র করে ১৯৯২ সালে হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় প্রায় ২ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ষোড়শ শতকের ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ গুঁড়িয়ে দিয়ে দেশটির কট্টরপন্থী হিন্দুরা অযোদ্ধায় মন্দির নির্মাণ করতে গেলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়।

হিন্দুরা মনে করেন, তাদের দেবতা রামের জন্মভূমিতে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু মুসলিমরা বলছেন, বাবরি মসজিদের স্থানে রামের জন্মের কোনো আলামত নেই। সুপ্রিম কোর্টের এই রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজধানী নয়াদিল্লির পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, মধ্যপ্রদেশ ও জম্মু-কাশ্মীরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব রাজ্যের স্কুল-কলেজও শনিবার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

উত্তরপ্রদেশ পুলিশের প্রধান ও পি সিং ইকোনমিক টাইমসকে বলেন, এখন পর্যন্ত ৫০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের প্রধান বার্তা হচ্ছে যেকোনো উপায়ে শান্তি রক্ষা করা। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৭০ জনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবরি মসজিদ মামলার রায় নিয়ে উসকানিমূলক বার্তা ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে।

রাজ্য পুলিশের শীর্ষ এই কর্মকর্তা বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় প্রয়োজনে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হতে পারে। সমাজবিরোধী হিসেবে উত্তরপ্রদেশে অন্তত ১০ হাজার মানুষকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ও পি সিং।
গত কয়েকবছর ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় জনতা পার্টির প্রচারণার অন্যতম হাতিয়ার ছিল উত্তরপ্রদেশের অযোদ্ধা মসজিদ-মন্দির। ১৯৯২ সালে যখন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধিয়ে ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা হয়; তখন বিজেপির বর্তমানের জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতা পৃথকভাবে সেই ধ্বংসযজ্ঞে ভূমিকা রেখেছিলেন।

২০১০ সালে উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড, নির্মোহী আখাড়া, রামলালার মধ্যে জমি সমান ভাগে করে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। এর ফলে হিন্দুরা পায় জমির তিন ভাগের দু’ভাগ। মুসলিমরা এক ভাগ। কিন্তু এই রায়ের বিরুদ্ধে সব পক্ষই সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন।

উত্তেজনা ছড়াতে পারে এমন কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে বিজেপির নেতা ও মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১৩০ কোটি মানুষের দেশ ভারতে মুসলিম জনগোষ্ঠী রয়েছে প্রায় ২০ কোটি। সূত্র : এএফপি।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/১০:৫০এএম/৯/১১/২০১৯ইং)