• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ন

ধর্মগুরু বাবার পর ছেলেও ধর্ষণে অভিযুক্ত!


প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৬, ২০১৯, ৮:৪৩ PM / ২৩৮
ধর্মগুরু বাবার পর ছেলেও ধর্ষণে অভিযুক্ত!

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : যেমন বাপ, তেমন ছেলে- কথাটির যথার্থতা প্রমাণ করলেন নারায়ণ সাই। তার বিরুদ্ধেও ধর্ষণের অভিযোগ এসেছে।

এর আগে নিজের আশ্রমের সেবকদের ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন কারাভোগ করছেন নারায়ণের বাবা ভারতের কথিত আধ্যাত্মিক গুরু আসারাম বাপু।

ইন্ডিয়া টুডে’র খবরে বলা হয়েছে, ধর্ষণের মামলায় যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া বিতর্কিত ধর্মগুরু আসারাম বাপুর ছেলেও এবার একই অভিযোগে অভিযুক্ত হলেন।

ভারতের সুরাটের একটি আদালতে নারায়ণ সাইয়ের বিরুদ্ধে আগামী ৩০ এপ্রিল নারী ধর্ষণে কি সাজা হবে, তা ঘোষণা করা হবে।

এই রায় ঘিরে ফিরে এসেছে ২০১৩ সালের আরেকটি ঘটনা। যখন সুরাটের আশ্রমের দুই তরুণী পুলিশের কাছে স্বঘোষিত দেবতা আসারাম বাপুর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছিলেন।

এরপর সারা দেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে আসারাম বাপুকে গ্রেফতার করা হয়। ২০১৮ সালে যোদপুরের কারাগারের ভেতরেই বিশেষ আদালত বসিয়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।

উত্তরাঞ্চলীয় যোধপুরের আদালত রায়ে বলেছিলেন, আসারাম বাপু ২০১৩ সালে ওই শহরের একটি আশ্রমে ১৬ বছর বয়সী একটি মেয়েকে ধর্ষণ করেন।

এক নারী সহকর্মীসহ আসারাম বাপুর আরও চার সহকারী এই ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত হন। ৭৭ বছর বয়সী এই ধর্মগুরুর চার শতাধিক আশ্রম রয়েছে, যেখানে তিনি মেডিটেশন ও যোগ ব্যায়াম সম্পর্কে তার অনুসারিদের শিক্ষা দিতেন।

ছয় বছর পর ঠিক একই অভিযোগে আসারাম বাপুর ছেলে নারায়ণ সাইয়ের বিরুদ্ধে রায় হতে যাচ্ছে। আশ্রমের এক সেবকের অভিযোগ, ২০০২ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত নারায়ণ সাই তাকে ধর্ষণ করেছেন। তখন তিনি ওই আশ্রমে ছিলেন।

বাবার ঘটনার সময়েই, ২০১৩ সালে দেশব্যাপী বিক্ষোভের মুখে নারায়ণ সাইও গ্রেফতার হয়েছিল।

নারায়ণ সাইয়ের বাবা আসারাম বাপু বর্তমান পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশে ১৯৪১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার আসল নাম অসুমল হরপলানি। দেশভাগের পর তার পরিবার ভারতে চলে আসে।

৬০-এর দশকে দীক্ষা নিয়ে অসুমল থেকে আসারাম হন তিনি। ১৯৭২ সালে গুজরাটের আহমেদাবাদের সবরমতি নদীর তীরে নিজের প্রথম আশ্রম গড়ে তোলেন। ধীরে ধীরে গুজরাটের নানা জায়গায়, পরে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে আশ্রম গড়ে তোলেন আসারাম।

তার ভক্তদের মধ্যে অটল বিহারী বাজপেয়ী, লালকৃষ্ণ আদভানী, কংগ্রেসের দিগ্বিজয় সিং, কমলনাথ, মোতিলাল ভোরা যেমন ছিলেন, তেমনই সব থেকে নামকরা দর্শনার্থীদের মধ্যে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও রয়েছেন।

তবে, ২০০৮ সালে আসারামের এক আশ্রমে দুই নাবালকের হত্যার ঘটনা সামনে আসার পর থেকে সব রাজনৈতিক দলের নেতা-মন্ত্রীরাই ধীরে ধীরে দূরে সরে যান। বিশ্বে আসারামের ভক্তের সংখ্যা চার কোটির কাছাকাছি। সারা ভারতে তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/৮:৪৪পিএম/২৬/৪/২০১৯ইং)