• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩১ অপরাহ্ন

প্রবাস যেন মৃত্যুর মিছিল


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ২৬, ২০১৯, ১:০৬ AM / ৬৬৬
প্রবাস যেন মৃত্যুর মিছিল

সৌদি থেকে সবুজ আহমেদ : প্রবাসে স্বাভাবিক মৃত্যুর চাইতে অকাল মৃত্যুতে ঝরে যাচ্ছে তাজা তরুণ প্রাণ।বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি হতে প্রতিদিনই আসছে কোন না কোন লাশ।সরকারী হিসাব মতে প্রতিদিন তিনটি বিমানবন্দ দিয়ে গড়ে আট হতে দশটি মৃতদেহ দেশে আসছে।

বাংলাদেশ দূতাবাস সৌদি লেবার কাউন্সিলের পরিসংখ্যান মতে ২০০৫ সালে ১হাজার দুইশত ৪৮জন।দশ বছর শেষে মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুন হারে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১হাজার ৪৬৭ জন।২০১৫ সালে তিন হাজার তিনশ সাতজন। ২০১৬সালে আটশত ৫৫০জন প্রবাসীর লাশ তারা দেশে পাঠিয়েছে। বেসরকারী সংস্থার তথ্যে ২০১৭ ও ১৮ সালে উপরের সব সংখ্যা ছাড়িয়ে যাবে।

প্রায় এক কোটি বাংলাদেশী ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিশ্বব্যাপি।সরকারী হিসাবে ৩৩ লাখ বেসরকারী হিসাবে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী সৌদি আরবে ৩৫ লাখেরও উপর শ্রমিক কর্মরত আছেন। আবর আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, ওমেন, সিঙ্গাপুর যথাক্রমে ১৬ হতে চার লাখ করে বাংলাদেশী মানুষ অভিবাসী শ্রমিক হিসাবে বসবাস করে।পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর মধ্য যুক্তরাজ্যে বেশি বাংলাদেশীর বসবাস। তাছাড়া ইটালি স্পেন ফ্রান্স জার্মানি অষ্ট্রেলিয়া, রাজিল যুক্তরাষ্টসহ নানান দেশে বাংলাদেশীরা কমবেশি রয়েছে। বেসরকারী হিসাবে আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে সাউথ আফ্রিকায় বেশসংখ্যক প্রায় ৬ লাখ বাংলাদেশীর দেখা মেলে।

জীবন জীবিকার তাগিদে প্রিয় স্বদেশের বাহিরে থাকা মানুষ গুলো জীবদ্দশায় রেমিটেন্স যোদ্ধা, দেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরায় আর মারা গেলে খবর নেয়ার কেউ থাকেনা, না রাষ্ট্র না পরিবার! পরিচয় তখন একটাই লাশ। এই লাশ রাষ্ট্রিয় খরচে দেশে আসেনা, কোম্পানী বা কফিল অথবা সপন্সরম্যান নয়তো পারিবারিক খরচে দেশে পাঠানোর আর্থিক আহবান জানালে দায়িত্বশীলেরা ব্যবস্থা করতে সক্ষম হলে তারপর দেশে পাঠায় কর্তৃপক্ষ নয় তো নয়। অনেকের দাফন সারা হয় কর্মকরা দেশে, নিজ জন্মভূমিতে অনেক হতভাগার কপালে এক মুঠো মাটিও জুটেনা কবরে।

কেন দিনকে দিন প্রবাসীদের অনাহত অনাকাঙ্খিত মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে জানতে চাওয়া হলো অভিবাসন নিয়ে কাজ করা রিয়াদে অবস্থিত সাফা মক্কা পলি ক্লিনিকে বাংলাদেশী ডাক্তার কামালের সাথে। তিনি জানালেন মাত্রারিক্ত ঋণের বোঝা,অনিয়ন্ত্রিত খাবার,স্টোক,হার্ড এ্যাটাক,সড়ক বা কর্মস্থলে দূর্ঘটনা, ভীন্ন পরিবেশে ভয়ে ভয়ে থাকা,পরিবার পরিজন হতে দূরে অবস্থান, বেশি চিন্তায় মগ্ন মানে ভার বহনে অক্ষমতা,অস্থির মানসিক চাপ,কর্মের শর্ত সাপেক্ষ সম্পর্কে সচেতন না হওয়া, সর্বপুরী মালিক পক্ষ হতে প্রহার, প্রবাসী শ্রমিকদের অস্বাভাবিক মৃত্যুর মূল কারণ।যদিও লাশের সাথে ডেথ সার্টিফিকেটে উল্লেখ থাকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঘুরেফিরে একই কারন দেখায় দূর্ঘটনা স্টোক,হার্ড এ্যাটাক।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/কেএস/১:০২এএম/২৬/১/২০১৯ইং)