• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ন

মায়ের প্রাণ বাঁচাল ৪ বছরের মেয়ে!


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৩, ২০১৮, ১২:২৫ PM / ১০৮
মায়ের প্রাণ বাঁচাল ৪ বছরের মেয়ে!

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : যুক্তরাজ্যে সম্প্রতি একটি শিশুর বুদ্ধিমত্তার কারণে বেঁচে গেছে তার মায়ের জীবন। কেইটলিন রাইট নামের ওই ছোট্ট মেয়েটির বয়স চার বছর।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের ডোরসেট অঞ্চলের আসকার্সওয়েলে বসবাস করে কেইটলিন ও তার পরিবার। গত মাসে হঠাৎ শিশুটির মা অসুস্থ হয়ে যান। ঘটনার দিন কেইটলিন তার মা শার্লিনের সঙ্গে বাড়িতেই ছিল। এক পর্যায়ে মা শার্লিন ভীষণ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান। কিন্তু ঘাবড়ে যায়নি চার বছরের শিশু কেইটলিন। জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে নেয় সে।

এত কম বয়সে এমন বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেওয়ায় কেইটলিনের প্রশংসা এখন সবার মুখে মুখে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সাউথ ওয়েস্টার্ন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস- সোয়াস কর্তৃপক্ষ জানান, ‘এই বয়সে এই মেয়েটি যে বিজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছে, সেটা তুলনাহীন। সে যেভাবে ফোনের অপর-প্রান্তে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছে, তার মায়ের অবস্থা ব্যাখ্যা করেছে সেটা আশ্চর্য হওয়ার মতোই।’

পরে প্যারামেডিক্সরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটির মা শার্লিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ওই অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসটি শিশুটির সঙ্গে তাদের টেলিফোনের কথোপকথনের অডিও রেকর্ড প্রকাশ করেছে। সেখানে কেইটলিনকে বলতে শোনা যায়, ‘মা অজ্ঞান হয়ে পড়েছে এবং তার দেখাশোনা করা প্রয়োজন।’

এ বিষয়ে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসটির মুখপাত্র জানান, ‘চার বছরের শিশু আমাদের ফোন করে তার উপস্থিত বুদ্ধি, প্রজ্ঞা আর ভীষণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে।’

এ বিষয়ে শার্লিন তার মেয়ে কেইটলিনকে ‘লিটল গার্ডিয়ান এঞ্জেল’ বা ‘খুদে অভিভাবক পরী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

শার্লিন বলেন, ‘সেই দিনটার কথা আমার এতোটুকুই মনে আছে যে, কেইটলিনের বাবা কেইটলিনকে বাসায় নিয়ে এসেছেন আর আমার কাছে জানতে চেয়েছেন বাজার করার প্রয়োজন আছে কিনা। তারপর কেইটলিনের বাবা চলে গেলেন। পরে শুধু এটাই মনে আছে যে একজন প্যারামেডিক আমার দিকে তাকিয়ে আছেন।’

কেইটলিনের বাবা সায়মন রাইট বলেছেন, ‘আমরা কেইটলিনকে এটুকুই শিখিয়েছি যে, টেলিফোনের একটি ছোট বোতাম তিনবার চেপে এবং এরপর একটি সবুজ বোতাম চেপে, কীভাবে সাহায্য চাইতে হয়। এই ছোট শিক্ষাটাই আজ শার্লিনকে মৃত্যুর হাত থেকে ফিরিয়ে এনেছে।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কেইটলিনের সেই জরুরি ফোন কলটির জবাব দিয়েছিলেন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের কর্মকর্তা জেস হডকিনসন। তিনি জানান, ঘটনার দিন তিনি এই ছোট্ট শিশুর বুদ্ধিমত্তা দেখে অভিভূত হয়েছিলেন।

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/১২:২৫পিএম/৩/১২/২০১৮ইং)