• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ন

যৌনকর্মীর জীবনের গল্প শুনে কেঁদেছিলেন বিল গেটস!


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২, ২০১৮, ২:০৪ PM / ১১৫
যৌনকর্মীর জীবনের গল্প শুনে কেঁদেছিলেন বিল গেটস!

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী বিল গেটস ভারতে গিয়ে সে দেশের এক যৌনকর্মীর জীবনের গল্প শুনে প্রকাশ্যে কেঁদে ফেলেছিলেন। মা যৌনকর্মী হওয়ায় অন্যদের কাছে ক্রমাগত মানসিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন সেই যৌনকর্মীর একমাত্র মেয়ে।

সম্প্রতি একটি বইতে প্রকাশিত হয়েছে সেই গল্প।

২০০০ সালে নিজের ও স্ত্রীর নাম জুড়ে দিয়ে বিল গেটস প্রতিষ্ঠা করেন বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। সেই বছরের প্রথম দিকেই গেটস ফাউন্ডেশনের কাজে ভারতে এসেছিলেন বিল গেটস। সে সময় এক যৌনকর্মী বিল গেটসকে শুনিয়েছিলেন তার মর্মান্তিক জীবনের গল্প। সেই কাহিনি শুনে নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি বিল।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে গেটস ফাউন্ডেশনের এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধ কর্মসূচির প্রধান অশোক আলেকজান্ডার তার ‘এ স্ট্রেঞ্জার ট্রুথ: লেসনস ইন লাভ, লিডারশিপ এন্ড কারেজ ফ্রম ইন্ডিয়া’স সেক্স ওয়ার্কার্স’ বইটিতে এই কথা লিখেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের যৌনকর্মীদের সম্পর্কে কথা বলেছেন আলেকজান্ডার। কীভাবে এই কর্মীদের জীবন থেকে নেতৃত্ব, সাফল্যের কাহিনি ও দক্ষতা শেখা যায়, কীভাবে ভারত এইডসের মহামারী রুখতে উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাও লিখেছেন আলেকজান্ডার তার বইতে।

ভারতে গিয়ে বিল গেটস ও তার স্ত্রী মেলিন্ডা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দেখা করেছিলেন তার ফাউন্ডেশনের কমিউনিটি সদস্যাদের সঙ্গে। তাদের মুখ থেকে শুনেছিলেন তাদের জীবনের গল্প।

সে রকমের একটি ঘটনার উল্লেখ করে আলেকজান্ডার লিখেন, ‘বিল গেটস এবং মেলিন্ডা ভারতে এলে যৌনকর্মীদের বিষয়ে শুধু কাজ করে যেতেন। বিল ও মেলিন্ডা যৌনকর্মীদের সামনেই মাটিতে বসে তাদের গল্প শুনতে চাইতেন। বেশির ভাগ গল্পই ছিল পরিত্যাগ, দারিদ্র্য ও সমাজের অবহেলা নিয়ে। প্রতিটি গল্পই ছিল সত্য।’

২০০০ সালে শোনা একটি গল্পের উল্লেখ নিজের বইতে করেছেন অশোক আলেকজান্ডার। সে গল্প শুনে বিল গেটসের অনবরত চোখের পানি পড়তে থাকে।

বিল গেটসকে এক নারী জানিয়েছিলেন, কীভাবে তিনি তার স্কুলে পড়া মেয়ের কাছ থেকে নিজের যৌনকর্মী পরিচয় লুকিয়ে রেখেছিলেন। যখন মেয়ের সহপাঠীরা জানতে পারে ওই মেয়ের মায়ের আসল পরিচয়, তখন থেকেই মেয়েটিকে মানসিকভাবে অত্যাচার করতে থাকে তারা। একপর্যায়ে স্কুল পড়ুয়া ওই মেয়ে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। একদিন মা দেখলেন, তার মেয়ে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

ভারতের যৌনকর্মীদের জীবন নিয়ে এই রকম কিছু মর্মান্তিক সত্যি ঘটনা ফুটে উঠেছে ওই বইতে।

২০০৩ সালে হাই প্রোফাইল চাকরি ছেড়ে অশোক আলেকজান্ডার ভারতবর্ষে কাজে নেমে পড়েন। সেখানে সুখ নেই হয়তো। কিন্তু উত্তরণের গল্প কোথাও না কোথাও গড়ে ওঠে প্রতিদিন।

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/২:০৫পিএম/২/১২/২০১৮ইং)