• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৪ পূর্বাহ্ন

যে ৭টি ক্যান্সার সময়মত শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব!


প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৬, ২০১৮, ২:০০ PM / ১৪০
যে ৭টি ক্যান্সার সময়মত শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব!

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : ক্যান্সারে মৃত্যুর হাত থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা খুবই জরুরী। যত দ্রুত শনাক্ত করা হয়, সুস্থতার সম্ভাবনা তত বেশি হয়। কিন্তু কিছু কিছু ক্যান্সার রয়েছে যেগুলো প্রাথমিক পর্যায় শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব। এ কারণে এসব ক্যান্সার বেশিরভাগ সময়েই মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। জেনে নিন তেমনই ৭টি ক্যান্সারের কথা-

১) প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সার

যুক্তরাষ্ট্রের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, সারা দেশে ক্যান্সার আক্রান্তদের মাঝে মাত্র ২ শতাংশ এতে আক্রান্ত হন। কিন্তু ব্রেস্ট ক্যান্সারের তুলনায় এতেই মানুষ বেশি মারা যায়। প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারটি শনাক্ত করা খুবই কঠিন। কারণ তা শরীরের ভেতরে হয়, প্রাথমিকভাবে ব্যথা হয় না, আর এর তেমন কোনো উপসর্গও দেখা যায় না।  সাধারণ জন্ডিসের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

২) কিডনির ক্যান্সার

সাধারণত উপসর্গ দেখা না দেওয়ার আগে এই ক্যান্সারের টেস্ট করানো হয় না। এর উপসর্গগুলো হলো, পিঠের নিচের দিকে ব্যথা, সার্বক্ষণিক ক্লান্তি, অকারণে ওজন হারানো এবং মূত্রের সাথে রক্তপাত। কিডনি শরীরের অনেক ভেতরে বলে এতে টিউমার হলেও সাধারণ শারীরিক পরীক্ষায় ধরা পড়ে না। আর কিডনি ক্যান্সারের জন্য নিয়মিত করানো যায় এমন কোনো পরীক্ষাঅ নেই।

৩) নন স্মল সেল লাং ক্যান্সার

বেশিরভাগ লাং ক্যান্সার ছড়িয়ে যাবার পড়েই ধরা পড়ে। কাশি, নিউমোনিয়া, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, রক্ত এবং লিম্ফ সিস্টেমে ছড়িয়ে পড়ে ততদিনে। নন স্মল সেল লাং ক্যান্সার হলো ফুসফুস ক্যান্সারের সবচেয়ে পরিচিত প্রকরণ। কিন্তু তা প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে না কারণ এর তেমন কোনো উপসর্গ থাকে না এমনকি চেস্ট এক্সরেতেও ধরা পড়ে না।  পিইটি অথবা সিটি স্ক্যানে তা ধরা পড়তে পারে।  শেষ দিকে ধরা পড়লে ফুসফুস ক্যান্সারে বাঁচার সম্ভাবনা কম। এ কারণে যারা ধূমপানে অভ্যস্ত তাদের ডাক্তারের সাথে কথা বলা উচিৎ সিটি স্ক্যান করার ব্যাপারে।
মাথাব্যথা যে ব্রেইন ক্যান্সারের উপসর্গ হতে পারে তা অনেকেই ভাবেন না। ছবি: প্রিয়.কম

৪) ওভারিয়ান ক্যান্সার

যত ক্যান্সারে নারীরা আক্রান্ত হন তার মাঝে মাত্র ৩ শতাংশ হলো জরায়ু বা ওভারিয়ান ক্যান্সার। কিন্তু নারী প্রজননতন্ত্রের অন্য কোনো ক্যান্সারের তুলনায় ওভারিয়ান ক্যান্সারে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। প্রাথমিক পর্যায়ে মাত্র ২০ শতাংশ ওভারিয়ান ক্যান্সার শনাক্ত করা যায়।  মূলত পেটের ভেতরে থাকার কারণে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনো উপসর্গ না থাকায় তা শনাক্ত করা কঠিন।  সাধারণত তৃতীয় বা চতুর্থ স্টেজের পর তা শনাক্ত হয়।

৫) সার্কোমা

শরীরের বিভিন্ন টিস্যু যেমন চর্বি, পেশী, ত্বকের গভীরের কোষ, হাড় বা তরুনাস্থিতে হয় সার্কোমা ধরণের ক্যান্সার। এগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো উপসর্গ দেখায় না। সাধারণত শিশুদের মাঝেই এ ক্যান্সারটি বেশি দেখা যায়, প্রাপ্তবয়স্কদের মাঝে অতটা দেখা যায় না।  এই ক্যান্সার বেশ কিছুদূর অগ্রসর হবার পর বায়োপসির মাধ্যমে তা শনাক্ত করা যায়। কিন্তু অন্য কোনো পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা যায় না।

৬) ব্রেইন ক্যান্সার

মস্তিষ্ক এবং সুষুম্নাকাণ্ডের টিউমার শনাক্ত করা যায় তখনই যখন এর উপসর্গগুলো প্রকাশ পায়। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ে এসব উপসর্গ এতই সাধারণ যে তাকে তেমন একটা পাত্তা দেন না রোগী।  যেমন হাত কাঁপা, কথা জড়িয়ে যাওয়া, ব্যক্তিত্বে সূক্ষ্ম পরিবর্তন ইত্যাদি। ব্রেইন ক্যান্সারের আরেকটি উপসর্গ হলো মাথাব্যথা, যা কিনা এতই সাধারণ যে তার পেছনে গুরুতর কারণ থাকতে পারে তা কেউ চিন্তাই করেন না।  সাধারণত এমআরআই বা মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যান ছাড়া ব্রেইন ক্যান্সার ধরতে পারা যায় না।

৭) লিভার ক্যান্সার

শেষের দিকে উপসর্গ বোঝা যায় বলে লিভার ক্যান্সার শনাক্ত করা কঠিন। টিউমারটি যদি ছোট হয় তাহলে ভালোভাবে বোঝা যায় না, কারণ লিভারের বেশিরভাগটাই পাঁজরের নিচে ঢাকা থাকে। পরিবারে কারও এইচপিভি (হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস) আক্রান্ত হবার ইতিহাস থাকলে কিছু টেস্ট দিতে পারেন ডাক্তার। যাদের মদ্যপানের অভ্যাস রয়েছে বা লিভার সিরোসিস রয়েছে, তাদের লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি।

প্রতিনিয়ত বাড়ছে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। তাই সতর্ক থাকা ও নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ নেয়াটা খুবই জরুরী। সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট, প্রিয়.কম

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/১:৫৫পিএম/২৬/৮/২০১৮ইং)