

ইমন বালী: ‘মাকাল ফল’ এটি । এর প্রাচিন নাম ছিল মহাকাল।বই পুস্তকে ‘মাকাল ফল’ প্রবাদটি কমবেশি আমরা সবাই পড়েছি। কিন্তু অনেকে এই ফলের নাম ও শোনেননি জীবনে। কিন্তু না জানা সত্বেও অকর্মণ্য মানুষকে ‘মাকাল ফল’ বলে গালি অনেকেই দিলেও মাকাল ফল কিন্তু অতটা খারাপ নয়! খাওয়া না গেলেও এ ফল একটি উপকারী ভেষজ এবং পরিবেশবান্ধব।পাখিদের অন্যতম প্রিয় খাবার মাকাল ফল। বাইরে সুন্দর, ভিতরে কিছুই নেই। যে মানুষগুলো দেখতে সুন্দর কিন্তু তাদেরকে দিয়ে কোনো কাজের কাজ হয় না, তাদেরকেই মাকাল ফলের সঙ্গে তুলনা করা হয়ে থাকে। এক সময় মাকাল ফল গ্রামে-গঞ্জে দেখা গেলেও এটি এখন বিলুপ্তপ্রায়। মাকাল ফলের ইংরেজি নাম Colocynth, bitter cucumber, Redball snakegourd। এর বৈজ্ঞানিক নাম Citrullus colocynthis। ফলটিকে আরবিতে হানজাল বলা হয়।মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার রাধানগর এলাকায় নিসর্গ নীরব ইকো-কটেজের আশপাশে বিপুল মাকাল গাছের সমাহার রয়েছে। মাকাল ফলের গাছ একটি বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। এটি জঙ্গল বা বাড়ির বড় বড় গাছকে আশ্রায় করে ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠে। মাকাল গাছ লম্বায় ৩০ থেক ৪০ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। এর পাতায় থাকে অনেকগুলো খাঁজ। মাকাল ফল কাঁচা অবস্থায় গাঢ় সবুজ, কিছুদিন পর হলুদ ও পাকলে লাল বর্ণ ধারণ করে। সাধারণত বর্ষাকালে মাকাল ফলের ফুল ও ফল হয়। মাকাল ফলের আদি নিবাস তুর্কি। তুর্কি থেকে এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশে গাছটি বিস্তার লাভ করে। সারা পৃথিবীতে এর ৪২টি প্রজাতি দেখতে পাওয়া যায়। এর মধ্যে বাংলাদেশে দেখতে পাওয়া যায় প্রায় ১২টি প্রজাতি। মাকাল ফল ও গাছের বেশ কিছু ভেষজ গুণও আছে। আধুনিক ওষুধশিল্পে এ ফলের নির্যাস থেকে তৈরি ওষুধ ল্যাক্সেটিভ হিসেবে ব্যাপক ব্যবহৃত হয়। মাকাল গাছের শিকড় কোষ্ঠকাঠিন্য ও বদহজমের ওষুধ তৈরিতে কাজে লাগে। নাক ও কানের ক্ষত উপশমে মাকাল গাছ ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কফ ও শ্বাসকষ্ট নিরাময়ে,জন্ডিস, দেহে পানি জমা (শোথ রোগে), স্তনের প্রদাহ, প্রস্রাবের সমস্যা, বাত ব্যথা, পেট ফুলা এবং শিশুদের অ্যাজমা নিরাময়ে মাকাল গাছের বিশেষ ভূমিকা আছে। মাকাল ফলের বীজের তেল সাপের কামড়, বিছার কামড়,দীর্ঘ দিনের মাথা ব্যাথা, পেটের সমস্যা (আমাশয়, ডায়রিয়া), মৃগীরোগ এবং সাবান উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা যায়। এ ছাড়া মাকাল ফলের বীজের তেল চুলের বৃদ্ধি ও চুল কালো করতে কার্যকর। গাছে ধরা অবস্থায় মাকাল ফলের মতো সুন্দর ফল সত্যি খুব কম দেখা যায়, তবে এর ভেতরটা খুবই কদর্য।
তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া। ছবিঃ সংগৃহীত
আপনার মতামত লিখুন :