• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন

ঘুরে আসুন শাপলার রাজ্য সাতলা গ্রামে


প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৭, ২০১৮, ১১:৪১ PM / ১৪০
ঘুরে আসুন শাপলার রাজ্য সাতলা গ্রামে

ইমন বালী, ঢাকা : লক্ষ্য লক্ষ্য শাপলার সমারোহ। প্রথম দেখাতেই মনে হয় বিলটিতে যেন শাপলার ছড়াছড়ি। বিলের পানিতে পড়া নতুন সূর্যের আলো বাড়িয়ে দেয় এর সৌন্দর্য। এ যেন এক শাপলার রাজ্য।

বরিশাল সদর উপজেলা থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরের উজিরপুর উপজেলার সাতলা গ্রামের এক এক বিলে দেখা মিলবে চোখজুড়ানো এমন দৃশ্যের। প্রকৃতির বুকে আঁকা এ যেন এক শাপলা (নকশি) কাঁথা। লতা-পাতা গুল্মে ভরা বিলের পানিতে লক্ষাধিক লাল শাপলা হার মানিয়েছে সূর্যের আভাকেও।

আগাছা আর লতা-পাতায় বিলের হাজারো শাপলা চোখ জুড়ায় পথচারিদের। বিলের যত ভেতরে যাওয়া যায়, ততই বাড়তে থাকে লালের আধিক্য। এ যেন এক শাপলার রাজ্য। এ বিলে ঠিক কবে থেকে, শাপলা জন্মাতে শুরু করেছে তা সঠিক জানা নেই স্থানীয়দেরও। তবে, স্থানীয় বয়স্কদের কাছ থেকে জানা যায় জন্মের পর থেকেই, এভাবে শাপলা ফুটতে দেখেছেন তারা। এ বিলে, তিন ধরণের শাপলা জন্মে। লাল, সাদা আর বেগুনি। তবে, লাল শাপলাই বেশি। গোটা গ্রাম জুড়ে শাপলার চাষ হয় এখানে।শাপলা যেন তার আধিপত্য এখান থেকেই বিস্তার করা শুরু করেছিল।
উত্তর সাতলা (Satla) নামে এ গ্রামটির প্রায় ১০ হাজার একর জলাভুমিতে শাপলা(Waterlilly) এর চাষ করা হয়। গ্রামের অধিবাসীদের প্রত্যেকেই শাপলা চাষ এবং বিপণন এর সাথে জড়িত। এ গ্রাম থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে শাপলা সরবরাহ করা হয়।

স্থানীয় যুবক শাওন হাওলাদার ঢাকারনিউজ২৪.কম কে জানান, ‘শাপলা প্রায় ৮ মাস ধরে তার বিস্তার লাভ করে থাকে। আগস্ট থেকে শুরু করে নভেম্বর পর্যন্ত শাপলার পুরো সিজন এখানে। তাই এ সময়ের মধ্যে গেলে শাপলা দেখতে পাবেন। শাপলা দেখার উত্তম সময় হল ভোর বেলা, কেননা সূর্য সম্পূর্ণ ভাবে আপাতিত হলে পরে ফুল বুজে ছোট হয় যায় অথবা শাপলা শিকারিরা শাপলা তুলে নিয়ে বাজারে বিক্রি করতে যায়। এটি হাত-বাজারে বিক্রি করে সচ্ছলতাও এসেছে অনেক পরিবারে।তাই জীবিকা নির্বাহের জন্য অনেকে এই পথ অবলম্বন করে থাকেন।’।
সারা দেশেই জনপ্রিয় সাতলা বিলের শাপলার লাল গালিচায় পা রাখতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এখানে আসছেন। তাই,পর্যটকদের জন্য স্থানীয়রা বিশেষ ধরনের সুবিধার ব্যবস্থা করেছেন। প্রকৃতির এই সৌন্দর্যকে আরও কাছে থেকে উপভোগ করার জন্য এখন সুবিধাজনক বড় আকারের নৌকার ব্যবস্থা করেছে স্থানীয়রা। এক নৌকায় ৫ থেকে ৬ জন ওঠা যায় খুবই সল্প খরচে। এই ঋতূতে এটাই মাঝিদের মূল আয়।

তিনি আরও বলেন ঢাকা থেকে সাতলা যাওয়ার অনেক সহজ পথ বা রুট রয়েছে। যেভাবে যাবেন-
প্রথম রুট-  ঢাকা থেকে বাসে চলে যান গোপালগঞ্জ, কোটালীপাড়া ঘাঘর বাজারে। বাস ভাড়া ৪০০ থেকে সাড়ে ৪৫০ টাকা। এখান থেকে অটোতে বা বাইকে সাতলা গ্রাম।

২য় রুট- ঢাকা থেকে বরিশালের লঞ্চে না উঠে আপনি উঠুন পয়সারহাট বা আগৈলঝরার লঞ্চে। বরিশালের ১০ উপজেলার একটি আগৈলঝরা। এখান থেকে ভ্যানে বা বাইক চলে আসুন সাতলা।

৩য় রুট- ঢাকা থেকে প্রথমেই লঞ্চে বরিশাল। বরিশাল লঞ্চ ঘাট পৌঁছে এবার যেতে পারেন ২ ভাবে। বাসে অথবা মাহিন্দ্রায়। বাসে গেলে অটোতে চলে যান নথুল্লাহবাদ বাস স্ট্যান্ড। সময় লাগবে ২ ঘন্টা। ভাড়া জনপ্রতি ৯০ টাকা। আর মাহিন্দ্রায় গেলে আপনার অন্তত ৩ ঘন্টা লাগবে সাতলা পৌঁছতে। ইচলাদি-উজিরপুর-ডাবেরকুল- ওটরা। এই রাস্তাটি নতুন এবং সুন্দর। এই পথে খুব দ্রুতই চলে যেতে পারবেন আপনি। ৫০ মিনিটের মতো সময় লাগবে। তাহলে আর দেরী কেন? আপনিও ঘুরে আসুন বিখ্যাত এই বিল থেকে। জমা করুন রঙ্গিন কিছু স্মৃতি আপনার ভ্রমণ এলবামে।

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/এসডিপি/১১:৩৮পিএম/৭/৮/২০১৮ইং)