• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০২ অপরাহ্ন

চিঠির উত্তর দিল গুহায় আটকা কিশোররা!


প্রকাশের সময় : জুলাই ৭, ২০১৮, ২:৩০ PM / ২৪৬
চিঠির উত্তর দিল গুহায় আটকা কিশোররা!

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : গুহার ভেতর ফোন লাইন স্থাপনে ব্যর্থ হওয়ার পর আটকে পড়া কিশোরদের কাছে চিঠি দিয়েছিল তাদের মা-বাবারা। সেই চিঠির জবাবও দিয়েছে ওই ১২ খুদে ফুটবলার। দুই সপ্তাহ ধরে গুহায় আটকা কিশোররা তাদের মা-বাবার কাছে বলেছে, তারা ভালো আছে, তাদের জন্য উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

হাতে লেখা কাগছে তারা চিকেন ফ্রাইসহ খাবারও চেয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

অন্য এক নোটে খুদে খেলোয়াড়দের মা-বাবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন তাদের ২৫ বছর বয়সী কোচ। তিনিও ওই কিশোরদের সঙ্গে আটকা আছেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ জুন খুদে ওই ফুটবলারদের নিয়ে তার কোচ এক্কাপল চান্তাওয়াং গুহা দেখতে যান। কিন্তু গুহার ভেতরে ঢুকলে হঠাৎ বৃষ্টি আসলে তারা গুহার মুখ থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে চলে যান এবং সেখানেই এখন আটকা আছেন তারা। ইতোমধ্যে তাদের অক্সিজেন দিতে গিয়ে এক ডুবুরীর মৃত্যু হয়েছে।

চিঠিতে কোচ কিশোরদের মা-বাবার কাছে লিখেছেন, ‘সকল কিশোরদের মা-বাবা, আমরা এখন খুব ভালো আছি। উদ্ধারকারীরা আমাদের জন্য খুব চেষ্টা করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি কথা দিচ্ছি, কিশোরদের জন্য আমার পক্ষ থেকে যা যা করা সম্ভব হবে তার সবই করব। আমি বিনীতভাবে সকল অভিভাবকের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।’

উল্লেখ্য, নিখোঁজের ১০ দিন পর গত সোমবার ব্রিটিশ উদ্ধারকারী ডুবুরীরা নিখোঁজদের সন্ধান পান।

খোঁজ পাওয়ার পর থেকে তাদের খাদ্য, অক্সিজেন ও স্বাস্থ্য উপকরণ দেওয়া হচ্ছে। তবে গুহার মধ্যে অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যাওয়ায় উদ্বেগ কাজ করছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, গুহার ভেতরে অক্সিজেনের মাত্রা হ্রাস পেয়ে ১৫ শতাংশ হয়েছে। অথচ স্বাভাবিক অবস্থায় ২১ শতাংশ অক্সিজেন থাকা দরকার।

আটকে পড়াদের অক্সিজেন সরবরাহ করতে গিয়ে শুক্রবার এক অভিজ্ঞ ডুবুরীর মৃত্যুতে উদ্বেগ আরো বেড়েছে। যদিও নিজের অক্সিজেন শেষ হয়ে যাওয়ায় মারা যান ওই ডুবুরী। তবে এর মাধ্যমে ভেতরে অক্সিজেন সংকটের বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

তবে থাই সিল কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আরপাকর্ন ইউকংকাইউ শুক্রবার বলেন, ‘গুহার ভিতরে টিকে থাকা খুব কঠিন। অক্সিজেনের সিলিন্ডার সেট করে দিয়ে ফেরার সময় পেটি অফিসার সামান গুনান অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তার সঙ্গী প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করে, তিনি তাতে সাড়া দেননি। আমরা চেম্বার থ্রিতে তাকে আবার প্রাথমিক চিকিৎসা দেই, কিন্তু তার জ্ঞান ফেরানো সম্ভব হয়নি।’

পিও গুনানের মৃত্যুতে গুহা থেকে বালকদের বের করার বিপদ সম্পর্কে আরও সচেতন সবাই। যেখানে একজন অভিজ্ঞ ডুবুরি গুহা থেকে বের হওয়ার সময় মারা যান, সেখানে ছেলেদের কীভাবে ওই গুহা থেকে বের করা হবে, এই প্রশ্ন করা হলে রিয়ার অ্যাডমিরাল আরপাকর্ন বলেন, শিশুদের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।

অনুসন্ধান অভিযান চলতে থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি যে আমরা আতঙ্কিত হব না। আমরা আমাদের মিশন বন্ধ করব না, আমাদের বন্ধুর আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেব না।’

প্রায় এক হাজার মানুষ উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছে। এদের মধ্যে রয়েছে নেভির ডুবুরি, সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক স্বেচ্ছাসেবী।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/এসডিপি/২:২৮পিএম/৭/৭/২০১৮ইং)