• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন

“কেউ মরতে চায় না-আত্মহত্যা করায় পরিবেশ ও পরিস্থিতি”


প্রকাশের সময় : মে ১০, ২০১৮, ১০:৪৪ AM / ১৩৩
“কেউ মরতে চায় না-আত্মহত্যা করায় পরিবেশ ও পরিস্থিতি”

ইখতিয়ার উদ্দীন আজাদ : একটা মানুষ মরে যেতে চায়। কারণ, সে আসলে বেঁচে থাকতে চায়। সুইসাইড করবো, মরে যাবো যতবার মানুষটা বলে ঠিক ততবার তার ভিতরের মানুষটা বলে উঠে আমি বাঁচতে চাই। আমাকে বাঁচাও, আমাকে মরতে দিও না… প্রচন্ড অসহায় আর সহ্য সীমার শেষে পৌঁছে যাওয়া একটা মানুষ কাঁদতে ভুলে যায়, অভিযোগ করতে ভুলে যায়, গুছিয়ে মনের অবস্থাটা বলতে পারে না। হীনমন্যতা, একাকীত্বতা, অসহায়ত্ব তাকে ধীরেধীরে নিজের মধ্যে গুটিয়ে ফেলে! মানুষটা মনে মনে চাইলেও মুখে বলতে পারে না আমাকে সাহায্য করো, আমার কাউকে দরকার, আমার একটা রাস্তা দরকার। আমার একটা গাইড দরকার! অনেকে তাদের এসব দিশেহারা অবস্থাকে বয়স, আবেগ, সময়, ছেলেমানুষি এসব বলে উড়িয়ে দেয়! “আরে সব ঠিক হয়ে যাবে” “এই বয়সে এগুলা হয়” “আবেগের বয়স, এই বয়সে আমারও এমন হয়েছিলো” এড়িয়ে যায় মানুষ, কেউ গিয়ে ওই মানুষটার মনে উঁকি দিয়ে দেখে আসার চেষ্টা করে না যে আসলেই ওই মানুষটার ভিতরে কি চলছে! আসলেই ওই মানুষটা কতটা বেরিয়ে আসতে চাইছে এই অবস্থা থেকে। অসহ্য এই অবস্থা থেকে হয়তো সে বেড়িয়ে আসতে পারতো যদি তার চাওয়াটার সাথে তাল মিলিয়ে আশপাশের মানুষগুলো তাকে একটু সাহায্য করতো। একটু সময় নিয়ে তার সমস্যাটা শুনতো, একটু তার মানসিক অস্থিরতার দাম দিতো। শরীর খারাপ দেখানো যায়, মানসিক খারাপ লাগা দেখানো যায় না, বুঝতে হয়। এই বুঝার অভাবে, কাউকে বুঝাতে পারার অভাবে গলার রগ উঁচিয়ে সুইসাইড বিরোধীতা করা মানুষটা কিংবা আত্মহত্যা মহাপাপ বলা মানুষগুলা কিভাবে নিজে নিজে মরে যায় এই হিসাব খুব বেশি কেউ রাখে না! একদম ঠিকঠাক, হাসি খুশি, প্রাণোচ্ছল কিছু মানুষ তাই হুট করেই একদিন ‘আই কুইট’ বলে সরে পরে। ছিটকে যায় প্রতিযোগিতা আর টিকে থাকার পৃথিবী থেকে….. এই মানুষগুলোকে একটু বুঝুন, একটু বুঝান, একটু সময় দিন।একটু বেঁচে থাকার লোভ দেখান, বিশ্বাস করুন মানুষটাও এটাই চায়। কেউ মরে যেতে চায় না, সবাই বাঁচতে চায়।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট, পত্নীতলা, নওগাঁ।

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/এসডিপি/১০:৪৫এএম/১০/৫/২০১৮ইং)