

ঢাকারনিউজ২৪.কম, প্রেস বিজ্ঞপ্তি : শুধু শারীরিক নয় মানসিক সুস্থতা পারে নারীকে এগিয়ে নিতে। একজন নারী কর্মক্ষেত্রে মানসিক প্রশান্তি ফেলে উৎফুল্লভাবে কাজ করতে পারে। সেজন্য কর্মক্ষেত্রে উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার প্রধান অন্তরায় নারীকে মানসিকভাবে সুস্থ রাখা। নারী মানসিকভাবে সুস্থ থাকলে কর্মক্ষেত্রে উদ্দীপনা পাবে। প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে বেশি অবদান রাখতে পারবে। সেজন্য নারীকে উন্নয়নের স্রোতধারায় আনতে হলে নারীর মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গতককাল ১ মে(মঙ্গলবার) বিকেলে রাজধানীর আইবিএ অ্যালামনাই ক্লাবে এক ঝাঁক প্রকৃত শ্রমজীবী নারীদের নিয়ে ‘কর্ম পরিবেশ ও নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য: প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ’-শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এমন পরামর্শ দিয়েছেন। উইমেন এন্ট্রাপ্রিনিওয়ার্স নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (ওয়েন্ড) এ সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে জনাব এইচএম রাসেল, এসিস্টেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট, জি-৪ সিকিউর সল্যুয়েশন বাংলাদেশ, ডা. সোহেলা আহমেদ, মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ, জাতীয় মানসিক হাসপাতাল, ঢাকা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ওয়েন্ড এর প্রেসিডেন্ট ড. নাদিয়া বিনতে আমিন। কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ডা. সোহেলা আহমেদ।
এইচএম রাসেল বলেন, উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারলে নারী থেকে বেশি কিছু আশা করা যায় না। গ্রুপ-৪ একটি আন্তর্জাতিক সিকিউরিটিজ কোম্পানি। বাংলাদেশসহ বিশ্বেও ১২৫টি দেশে এ কোম্পানি সেবা দিয়ে আসছে। কর্মপরিবেশ নারীর অনুকূলে না হলে আমরা কোন নারীকে পদায়ন করি না। আমাদের কোম্পানি নারীর মানসিক স্বাস্থ্যের সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়। কারণ কোন নারী মানসিকভাবে সুস্থ ও প্রশান্তি না ফেলে চাকরিতে মন দিতে পারে। সর্বপরি সে কোম্পানির উন্নতি হয় না। আমাদের কোম্পানি নারী কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে যেকোন হয়রানির বিষয়ে জিরো টলারেন্স দেখায়। এছাড়া নারী কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে বিশেষ আয়োজন করে থাকে।
ডা. সোহেলা আহমেদ বলেন, একজন কর্মজীবী নারী পরিবারের চেয়ে বেশি সময় ব্যয় করে তার কর্মক্ষেত্রে। কর্মক্ষেত্রে নারী উৎফুল্ল থাকলে প্রতিষ্ঠানকে সে বেশি কাজ দিতে পারবে। এতে প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। সেক্ষেত্রে শুধু প্রতিষ্ঠান নয় নারীকেও ইতিবাচক চিন্তা করতে হবে। তবে প্রতিষ্ঠানকে ভাবতে হবে অতিরিক্ত কাজ করানোর ফলে নারীর স্বাস্থ্যের ওপর বেশি প্রভাব পড়ে। নারীর মানসিক স্বাস্থ্য খারাপ হলে হার্টসহ অন্যান্য রোগ দেখা দিতে পারে। দেশে ১৮ বছরের ওপরে প্রতি ১০০ জনে ১৬ জন, ১৮ বছরের নিচে প্রতি ১০০ জনে ১৬ দশমিক ৪ জন মানসিক রোগী। কিন্তু দেশে চিকিৎসক রয়েছে মাত্র ২২০ জন। তবে কর্মক্ষেত্রে নারীকে হয়রানি না করলে সে অসুস্থ হবে না।
ড. নাদিয়া বিনতে আমিন বলেন, এক সময় কর্মীদের ১৬ ঘণ্টা কাজ করতো। অনেক আন্দোলনের ফলে আজ আমরা তা ৮ ঘণ্টায় নিয়ে আসতে পেরেছি। সচেতনতা বেড়েছে। বেড়েছে কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ ও অবদান। এখন সময় এসেছে নারীদের কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা। দেশের ছোট বড় যে প্রতিষ্ঠান হোক নারী থেকে ভালো কাজ আদায় করে নিতে হলে, নারীদের অর্থনীতিতে অবদান রাখার সুযোগ দিতে হলে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি নজর দিতে হবে। কর্মক্ষেত্রে নারীর মানসিক শান্তি এখন অধিকার। অনুষ্ঠানে শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে আইবিএ অ্যালামনাই ক্লাবের নারী সদস্য, ওয়েন্ড এর সদস্যসহ বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রের নারীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য; নারীকে উন্নয়নের মূল ¯্রােতধারায় সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি, উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী, প্রকৃত শ্রমজীবী নারীদের সহায়তা ও আর্থিকভাবে সক্ষম এবং নারীর ক্ষমতায়নে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কাজ করে ওয়েন্ড। প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবারের মতো কর্মক্ষেত্রে নারীর মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরিতে কাজ শুরু করেছে। এর আগে বিশ্ব নারী দিবসে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ৬ জন নারীকে সম্মাননা প্রদান করে ওয়েন্ড। নারীদের উন্নয়নের কাজ করার ক্ষেত্রে ওয়েন্ড সরকার থেকে ট্রেড বডি হিসেবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত। নারী উদ্যোক্তাদের সার্পোট ও প্রমোট করার উদ্দেশ্য নিয়ে এ সংগঠনের যাত্রা।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/এসডিপি/৮:১৫পিএম/২/৫/২০১৮ইং)
আপনার মতামত লিখুন :