• ঢাকা
  • বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন

ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত সুদের ক্ষেত্রে করণীয়


প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ১৪, ২০১৮, ১১:১৭ PM / ১৫২
ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত সুদের ক্ষেত্রে করণীয়

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : ব্যাংকে টাকা রাখলে যে লভ্যাংশ পাওয়া যায়, সেই টাকা কী করণীয়? আর আমরা যদি মুনাফার টাকাটা ব্যাংকওয়ালাদের কাছে রেখে না দিয়ে কোনো গরিবকে দিয়ে দিই। তাহলে কি আমরা গুনাহগার হবো? আর গরিবকে দেওয়া কি শরিয়াহসম্মতভাবে বৈধ?

সুদি ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসাব খোলা মানে সুদি চুক্তির অন্তর্ভুক্ত হওয়া। আর ‘সুদ গ্রহণ’ যেমনিভাবে হারাম, তেমনিভাবে সুদী ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসাব খোলাও সম্পূর্ণ হারাম।

হাদিসে শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.)- সুদখোর, সুদদাতা, সুদের লেখক এবং তার সাক্ষীদ্বয়কে অভিশাপ করেছেন, আর বলেছেন, ওরা সকলেই সমান।` (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৩৮০৯)

সুতরাং কর্তব্য হলো, অনতিবিলম্বে ওই সুদি হিসাব বন্ধ করে মূল টাকা উঠিয়ে নেওয়া।

তবে যদি এ জাতীয় হিসাব খোলার বিষয়টি কোন কারণে বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে, তাহলে সেক্ষেত্রে সুদের টাকাটা কী করা হবে, এব্যাপারে ওলামায়ে কেরামের দুটি মতামত পাওয়া যায়–

(১) ব্যাংক থেকে কেবল মূল টাকা উত্তোলন করবে। সুদ তুলবে না। ব্যাংকওয়ালাদের কাছেই রেখে দিবে। এ মতের যুক্তি হলো, সুদ তুলে নিলে তো সুদ হস্তগত করা হবে। সুদ হস্তগত করা গুনাহ। সুতরাং গুনাহ করে সুদ দান করার তুলনায় গুনাহে না জড়ানোই ভালো।

(২) সুদের অংশটা কোন প্রকার সাওয়াবের নিয়ত ছাড়া গরিবদের মধ্যে অথবা জনকল্যাণমূলক কাজে দিয়ে দিবে। ব্যাংকে রেখে দিবে না। এ মতের যুক্তি হলো, অ্যাকাউন্টে সুদ জমা হওয়ার অর্থই হলো সুদ হস্তগত হওয়া। কারণ ওই টাকা ব্যাংকের মালিকানা থেকে বের হয়ে গেছে। অ্যাকাউন্ট হোল্ডার যা খুশি তা করতে পারে।

বাস্তবে হাতে হস্তগত করা আর অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। উভয় ক্ষেত্রেই মালিকানা স্থানান্তর হয়ে যায়। হস্তগত যেহেতু প্রমাণিত হলো, এখন মাসআলা হলো, মূল মালিককে তা ফিরিয়ে দিবে। কিন্তু এখানে মূল মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ মালিক তো অগণিত লোনগ্রহীতা।

অতএব এটি হারানো বস্তু (মালে লুকতা)-র পর্যায়ভুক্ত। সুতরাং এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উক্ত টাকা সওয়াবের নিয়ত ছাড়া গরিবকে দিয়ে দিতে হবে।। কেননা রেখে দিলে এক সময় তা সেন্ট্রাল ব্যাংকে জমা হবে। এরপর এ টাকা কোথায় ব্যয় হবে, তা অনিশ্চিত। হতে পারে খোদ ব্যাংকই তা খেয়ে ফেলবে।

দ্বিতীয় মতটিই অগ্রগণ্য। এটিই বেশির ভাগ মুফতির মতামত।

প্রমানঃ সুরা বাকারা-২৭৫ তাফসিরে কুরতুরি ৩/২২৫-২৩৭, বজলুল মাজহূদ ১/৩, মাআরিফুস সুনান ১/৩৪, ফাতওয়ায়ে উসমানি-৩/২৬৯, কিফায়াতুল মুফতি-৭/১০৫

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/১১:১০পিএম/১৪/২/২০১৮ইং)