• ঢাকা
  • শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ন

বিলুপ্তির পথে ঝালকাঠির খেজুর গাছ


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১২, ২০১৮, ১১:০৮ AM / ১৩৬
বিলুপ্তির পথে ঝালকাঠির খেজুর গাছ

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : কালের বির্বতনে প্রতিনিয়ত হারিয়ে যাচ্ছে ঝালকাঠির খেজুর গাছ। এক সময় দিগন্তজুড়ে মাঠ কিংবা সড়কের দু’পাশে সারি সারি অসংখ্য খেজুর গাছ চোখে পড়ত। শীতের দিনে খেজুর গাছ কেটে রস সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন গাছিরা। খেজুরের রস বিক্রি করে সংসার চালাতেন অনেকেই।

কিন্তু এখন আর আগের অবস্থা নেই। দিনে দিনে খেজুর গাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। সড়কের দুই ধারে আগের মতো খেজুর গাছ আর দেখা যায় না।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রেন্ট্রি, চাম্বল ও মেহেগনি গাছসহ বনজ গাছ বেশি করে লাগানোর ফলে দিন দিন খেজুর গাছ কমে যাচ্ছে। এসব গাছের ছায়ায় খেজুরগাছ মরে যায়।

ধাঁনসিড়ি ইউনিয়নের বৈদারাপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান হাবিল বলেন, কয়েক বছর আগেও এই অঞ্চলে ব্যাপক খেজুর গাছ দেখা যেত। আমাদেরই প্রায় অর্ধশত খেজুর গাছ ছিল। একটি খেজুর গাছে দুই থেকে তিন হাড়ি রস হত প্রতিদিন। কিন্তু এখন খেজুর গাছের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে । এর কারণ হলো রেন্ট্রি, চাম্বল ও মেহেগনি গাছ বেশি করে চাষ করা। এখন আমাদের ১০ থেকে ১২টি খেজুর গাছ আছে।

জেলার ঝালকাঠি-রাজাপুর সড়কের ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ছত্তরকান্দা অংশে কিছু খেজুর গাছ রয়েছে। এ ছাড়াও জেলাজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বেশ কিছু খেজুর গাছ চোখে পড়েছে। এখন শীতের মৌসুম। গাছিরা খেজুর গাছ কেটে রস সংগ্রহ ও বিক্রি করতে ব্যস্ত। শীতের সকালে লোকজন খেজুরের রস খেতে মজা পায়। এ ছাড়া শীতের দিনে রান্না করা বিভিন্ন রকমের পিঠা পায়েস সুস্বাদু করতে খেজুরের রসের কদর রয়েছে।

এই মৌসুমে খেজুর রসের পর্যাপ্ত চাহিদা রয়েছে। তবে সেই তুলনায় জোগান সিমিত। গাছিদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, অগ্রহায়ণ মাসের শেষে দিকে খেজুর গাছ কাটা শুরু হয়। আর মাঘ মাসের শেষ পর্যন্ত রস সংগ্রহ করা হয়। একটি খেজুর গাছ সপ্তাহে চার দিন কাটা যায়। বাকি তিন দিন বিশ্রাম দিতে হয়। গাছিরা মাটির তৈরি হাড়িতে করে রস সংগ্রহ করেন। প্রতি হাড়ি খেজুরের রস ৭৫ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হয়।

ছত্রকান্দা গ্রামের গাছি জালাল আকন বলেন, ‘আমি প্রতিদিন ৩০টি গাছ কাটি। তাতে ১২ থেকে ১৫ হাড়ি রস পাই। প্রতি হাড়ি রস ৭৫ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি করি। শীত মৌসুমে এই আয় দিয়েই আমার সংসার চলে। রসের অনেক চাহিদা আছে। আমরা সেই অনুযায়ে সরবরাহ করতে পারি না। আগের মত খেজুর গাছও নেই, তাই রসও অনেক কম হয়। নতুন করে খেজুর গাছ লাগানো দরকার।’

ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শেখ আবু বক্কর সিদ্দিকি বলেন, ‘খোলা আকাশের নিচে পরিষ্কার উঁচু জমিতে খেজুর গাছ চাষের জন্য উপযোগী। বিভিন্ন গাছের ছায়া পড়ার কারণে খেজুর গাছ মরে যায়। একটি গাছ লাগানোর ৭/৮ বছরের মধ্যে রস পাওয়া যায়। খেজুর গাছ চাষের ব্যাপারে কৃষকদের উৎসাহিত করা প্রয়োজন।’

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/১১:০৫এএম/১২/১/২০১৮ইং)