• ঢাকা
  • শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন

বেকারত্ব : একটি নিঃশব্দ হাহাকার


প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৭, ৫:১৫ PM / ১৩২
বেকারত্ব : একটি নিঃশব্দ হাহাকার

মো. সাদ্দাম হোসেইন : বেকারত্ব একটা মিশ্র শব্দ। এক আকাশ হতাশা আর এক পৃথিবী টেনশান মিশ্রিত শব্দ এটা। বেকারত্ব একটি নিঃশব্দ হাহাকার। না যায় বলা; না যায় বোঝানো!
.
হিউম্যান সাইকোলজি বলে, তোমার মনের হাহাকার গুলি তুমি কাউকে খুলে বলে ফেল। কষ্ট শেয়ার করলে এর তীব্রতা কমে। খুজে বের কর এমন একজনকে যার কাছে সব বলা যায়! শেয়ার করা যায়! মানুষ খুজে না পেলে একা একা ফাঁকা ছাদে গিয়ে বিড়বিড় করে বলে ফেল। প্রয়োজনে নির্জন নদীর ধারে গিয়ে হতাশার কথাগুলি বলে ফেল। তাও সম্ভব না হলে মসজিদ মন্দিরে যাও! স্রষ্টার কাছে খুলে বল। বলতে তোমাকে হবেই।
.
পাখিদের মধ্যেও এই প্রবনতা আছে। মাঝে মাঝে দেখবেন, নির্জন দুপুরে জারুল গাছের শাখায় একটি পাখি ডাকছে। কেউ থাকুক আর না থাকুক। একা একা সে ডাকছে। কিছু কিছু সাইকোলজিস্ট বলেন, পাখিরা এভাবে কষ্টের কথা বলে ফেলে।
.
কিন্তু সমস্যা হল, বেকারত্ব নামক পেশায় যাদের বাস, তারা কাউকে খুলে বলতে পারে না। কাকে বলবে? বাবা? মা? বাসায় মাসে দুইবার ফোন করলে দুইবার-ই টাকা চাইতে হয়! বাবা, প্রিলির পরীক্ষা আছে! ঢাকায় যেতে হবে। হাতে তো টাকা পয়সা নেই! কি যে করি!! তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। ফোনের ওপারে বাবা সব বুঝে যান। সন্তানের নিঃশ্বাস বাবার পরিচিত। ছোট বেলা থেকে সন্তানরা মা-বাবার কাধে নিঃশ্বাস ফেলতে ফেলতে ঘুমায়! নিশ্বাসগুলি তাদের মুখস্ত হয়ে যায়!
.
তারপর থেকে ফোনের ওপারে ফেলা সন্তানের নিঃশ্বাসের অর্থ তারা বোঝে। বাবা টাকা পাঠিয়ে দেয়। বেকাররা টাকা চাইতে গিয়ে মনের হাহাকার গুলি বাবার সাথে শেয়ার করতে পারে না। মায়ের কাছে অজানাই থেকে যায় বেকার সন্তানের অব্যক্ত হতাশা।
.
টেনশানে এদের রাতে ঘুম হয় না। রাত জাগা পাখির সাথে জেগে থাকা একদিন অভ্যাসে পরিনত হয়! মাঝেমধ্যে রাত তিনটায় পেটের নাড়ি-ভূড়ি মোচর দিয়ে কান্না আসে। হুটহাট করে রাত বিরাতে এরা হলের ছাদে চলে যায়! চারদিক ভয়ংকর মিহি কালো অন্ধকার। কখনো কখনো পূর্ণিমা থাকে। রাতের আকাশে ঝুলে থাকে একটা চাঁদ। চাঁদের পাশে অসংখ্য তারা। হাজার! লক্ষ!! কোটি!! জ্বলজ্বল করে জ্বলে! নিভে! আর বেকার ছেলেটার দিকে তাকিয়ে মিটমিট করে হাসে!
.
বেকারদের একটি যন্ত্রনার নাম আত্মীয়-স্বজন! ফোন করে বলে, কি খবর বাবা! চাকরি বাকরি পাইছো? অদ্ভুত এক যন্ত্রনা! বাবা মাকেও প্রশ্ন শুনতে হয়, ভাবি, এখনো আপনার ছেলের একটা চাকরি হয় নি?
.
আমার কেন জানি মনে হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ডিবক্সে হুট করে একজন বড় ভাইয়ার সাথে দেখা হলে “ভাইয়া, চাকরি বাকরির কি খবর” প্রশ্নটা করা অনুচিত। আরে পাগলা, চাকরি পেলে তো খবর পাবিই! আমরা মনের অজান্তেই কাঁটা ঘায়ে একটা আঁচড় বসিয়ে দেই!
.
এই প্রাণিদের টেবিলে সাইফুরস এর পাহাড় থাকে। এমপিথ্রির পর্বত থাকে। পেপার কাটিং এর পাশে পড়ে থাকে লাল কলমের আঁচড়ে রক্তাক্ত হওয়া কারেন্ট এ্যাফেয়ার্স! চাকরির পরীক্ষা হয়; বেকাররা পরীক্ষা দেয়! একদিন ভাইভার রেজাল্ট হয়; চাকরিটা আর হয় না। চাকরি হল মরীচিকার মত! তাকিয়ে দেখবেন এই বুঝি পেলাম। কাছে গিয়ে দেখবেন নাই!
.
তবুও এরা স্বপ্ন দেখে! একটা চাকরি হবে! বাবার চোখের চিকিৎসাটা প্রথম মাসের বেতনের টাকাটা দিয়েই করাব! মায়ের জন্য একটা শাড়ি কিনবো! সামনের ঈদে ছোট বোনটাকে পছন্দের থ্রিপিস কিনে দিয়ে তাক লাগিয়ে দিব! এরা স্বপ্ন দেখে; অফিসে যাচ্ছে! বেতন তুলছে! বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সে ঢুকছে!!
.
হঠাৎ বাস্তবতা কামড় বসায়! আহত পাখির মত থমকে উঠে বেকাররা! হাহাকারগুলি বের হবার জন্য বুকের ভিতর ডানা ঝাপটায়! তবু বের হতে পারে না। অজানা থেকে যায় বেকারদের দিনলিপি!
….থাক না অজানা; পৃথিবীতে সব অজানাকে জানানোর দরকার নেই!!

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/এসডিপি/৫:১২পিএম/২১/২/২০১৭ইং)