• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:১০ অপরাহ্ন

চাঁদাবাজ জাকির বাহিনীর হাত থেকে রেহাই চায় নৌযান শ্রমিকরা


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৭, ২০২৪, ৭:৫০ PM / ৬৫০
চাঁদাবাজ জাকির বাহিনীর হাত থেকে রেহাই চায় নৌযান শ্রমিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মেঘনা ব্রিজের ফ্রেশ কোম্পানির সামনে থেকে শুরু করে বৈদ্যের বাজারে নৌপথে চাঁদাবাজির আখরা গড়ে তুলেছে জাকির বাহিনী। সোনারগাঁ উপজেলায় নৌপথের চাঁদাবাজির একচ্ছত্র অধিপতি বনে গেছেন জাকির ওরফে পলিথিন জাকির।

সোনাওগাঁওয়ের পিরোজপুর ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি চাঁদাবাজ জাকির হোসেনের নেতৃত্বে মেঘনা নদীতে চলাচলরত বিভিন্ন নৌযান থেকে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপের প্রতিবাদে এলাকাবাসী কয়েকবার মানববন্ধন করলেও কোনো প্রতিকার পায়নি। নৌযান থেকে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করে জাকিরের সন্ত্রাসী বাহিনীর যাওচরের মৃত. আক্কেল আলীর ছেলে আরিফ, উত্তর উল্লাপাড়ার আনারের ছেলে রাকিব, মনারবাগের মৃত নাজিরের ছেলে ফাহিম, উত্তর ষোলপাড়ার মৃত. আহাদের ছেলে জুয়েল, যাওচড়ের মৃত. খালেকের ছেলে শাহীন, সাহাপুরের মৃত. আর্জন আলীর ছেলে গাজী শওকত সহ ২০-২৫ জনের একটি দল। যারা তিন থেকে চারটি স্পিড বোটের মাধ্যমে এ কাজ করে থাকে। প্রতিটি স্পিড বোটে ৬ থেকে ৮ জন করে থাকে। তাদের রয়েছে গজারির লাঠি থেকে শুরু করে আধুনিক অস্ত্র। এছাড়া জাকিরের ছোট ভাই আল-আমিন নৌ-চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

সোনারগাঁ উপজেলার কান্দারগাঁও গ্রামের মোজাফ্ফর আলীর ছেলে জাকির হোসেন। জীবিকা নির্বাহের তাগিদে একসময় মাছ বাজারে পলিথিন ব্যাগ বিক্রি করত বলে এলাকায় তাকে ‘পলিথিন জাকির’ নামেই চেনে। পরে মেঘনা ঘাটে হকারির পাশাপাশি এলাকায় বালু ভরাট ও জমি বিক্রির দালালিও চালিয়ে যান সমান তালে।

অভিযোগে জানা গেছে, পলিথিন জাকির প্রথম দিকে বৈদ্যের বাজার এলাকার খেয়াঘাটে ‘মেসার্স পিয়াল এন্টারপ্রাইজ’ নামে বৈদ্যের বাজার থেকে মেঘনা ঘাট পর্যন্ত ইজারা নেন। অতিরিক্ত চাঁদাবাজির কারণে তার ইজারা বাতিল করা হলে ‘কান্দারগাঁও যুব কল্যাণ সমিতি’র নামে আবারও ইজারা নেন। একই অভিযোগে তা বাতিল হলে পুনরায় ইজারা পায় কান্দারগাঁও গ্রামের একতা সংঘের সভাপতি আমজাদ হোসেন। কিন্তু ইজারার নিয়ন্ত্রণ থাকে জাকিরের হাতেই। ইজারা বাতিল হলেও জোরপূর্বক নৌপথে চাঁদাবাজি করতেই থাকে পলিথিন জাকির। সোনারগাঁ উপজেলায় নৌপথের চাঁদাবাজির একচ্ছত্র অধিপতি বনে যান জাকির ওরফে পলিথিন জাকির।

‘সোনারগাঁ রিসোর্ট সিটি’ নামে একটি আবাসন প্রকল্পের জমি ক্রয় ও বালু ভরাটের দায়িত্ব পেয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন জাকির। সাধারণ মানুষের জমি দখল, ভুয়া দলিলে জমি বিক্রি এবং বালু ভরাটের টেন্ডারবাজি করার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।

অভিযোগ রয়েছে, পলিথিন জাকির বিপুল সম্পদের মালিক এখন। উপজেলার কান্দারগাঁও এলাকায় বিশাল বহুতল ভবন করেছেন পলিথিন জাকির। তার পাশেই আট থেকে দশ বিঘা জমির উপর সেন্তুশাহ নামে একটি রিসোর্ট করেছেন। এ ছাড়া কান্দারগাঁও এলাকায় নামে বেনামে বিঘায় বিঘায় জমি রয়েছে তার। ঢাকার বনশ্রীতে আলিশান বাড়ি, নীলা সুপারশপ নামে বনশ্রীতে বিশাল সুপারশপসহ ঢাকার আবাসিক এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে তার। বর্তমানে তিনি অর্ধশত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।

জাকিরের নামে দুটি হত্যা ও নৌ-চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী ও মারামারিসহ প্রায় ডজনখানেক মামলা রয়েছে। পলিথিন জাকির ২০১২ সালে রিপন হত্যা, ২০১৪ সালে সাধন হত্যা ও ২০১৫ সালে গোলজার হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। ২০১৮ সালের ৩ জানুয়ারি খুন হয় জাকিরের সব অপকর্মের সাক্ষী ভাগিনা মোহাম্মদ আলী।

উপজেলার কান্দারগাঁও এলাকায় গড়ে তোলা সেন্তুশাহ রিসোর্টে কয়েকটি কক্ষ নির্মাণ করে সেখানে অসামাজিক কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

উঠতি বয়সের শিক্ষার্থী, যুবক, যুবতীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা এই রিসোর্টের কক্ষে সময় কাটাচ্ছেন। এতে ওই এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, চতুর জাকির তার সেকেন্ড ইন কমান্ড সাধন এবং ভাগিনা মোহাম্মদ আলীকে হত্যার আগে পরিকল্পিতভাবে অন্যকে ফাঁসিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের জন্য খুন হওয়ার দু-এক দিন আগে সোনারগাঁ থানায় তাদের নিরাপত্তা চেয়ে সে নিজে বাদী হয়ে সাধারণ ডায়েরি করেন। ডায়েরি করার দুদিন পর সাধন এবং এক দিন পর মোহাম্মদ আলী নৃশংসভাবে খুন হন।

নৌ চাঁদাবাজ জাকির ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের থেকে মুক্তি পেতে তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে ভুক্তভোগি এলাকাবাসী ও নৌযান শ্রমিকরা নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কাছে একান্ত সহযোগিতা কামনা করেছেন।