• ঢাকা
  • শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১০ পূর্বাহ্ন

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চাকরি করা মানে নিজেকে আত্তাহুতি দেয়া


প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ১৭, ২০১৭, ১১:৫৫ PM / ১৮৭
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চাকরি করা মানে নিজেকে আত্তাহুতি দেয়া

 

মোঃ রেজাউল করিম : দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব বরণ করে মানবেতর ও দুর্বিষহ জীবনযাপন এবং শ্রম আইন অনুযায়ী ঝুঁকি ভাতা ও ওভার টাইম দেয়া হয় না বলে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) চাকরি। কারণ দুর্বিষহ জীবন ও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী সমিতির নিম্নমানের মালামাল এবং কর্তৃপক্ষের দেয়া নিয়ম বহির্ভূত কাজের চাপ।
গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য ১৯৭৭ সালে গ্রামীণ জনপদে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনা করাহয়। সেই মোতাবেক ১৯৭৮ সালে গঠন করা হয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এর মাধ্যমে শুরু হয় গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ। তখন যৎসামান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকলেও ধীরে ধীরে বর্তমানে ৭৭টি সমিতিতে এদের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১৫শ কর্মকর্তা এবং ৩৮ হাজার কর্মচারীতে। কিন্তু এখন এই ১৫শ কর্মকর্তাই নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য জিম্মি করে রেখেছে ৩২ হাজার কর্মচারীকে। আর এদের মধ্যে লাইনম্যানের সংখ্যা হচ্ছে প্রায় ১৭ হাজার। সমিতিগুলো সাধারণ সেবা, সদস্য সেবা, অর্থ এবং নির্মাণ পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ (নিপর) এই চারটি দফতরে বিভক্ত। চারটি ভাগ হওয়ার কারণে কর্মচারীদেরও যথানিয়মে চারটি দফতরে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ফলে কোন কোন কর্মচারীর স্থান কর্মকর্তাদের বুকে আর কারো কারো স্থান পিঠে। আবার কোন কর্মচারী যদি কর্মকর্তাদের মন জয় করতে না পারে তাহলে তার স্থান পায়ের কাছে। এরই কারণে একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে নিম্নশ্রেণীর কর্মচারীরা হচ্ছেন বৈষম্যের শিকার। পাচ্ছেন না কোন সুযোগ-সুবিধা, হারাচ্ছেন তাদের অধিকার। এমনকি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন শ্রম আইন থেকেও। যারা সমিতির হাতিয়ার তাদেরকে করে রাখা হয়েছে একঘরে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, রোদ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে, গ্রামীণ জনপদ মানুষের জানমালের হেফাজত করলেও নেই নিজের জীবনের নিরাপত্তা। অতিরিক্ত সময় ডিউটি করলেও দীর্ঘদিন বঞ্চিত রাখার পরে দেয়া হচ্ছে নামমাত্র ওভার টাইম ও ঝুঁকি ভাতা। সরকারি ছুটির দিনে অন্য বিভাগের কর্মচারীরা ছুটি ভোগ করলেও নিপর বিভাগের কর্মচারীদের নেই কোন ছুটি। জি.এমগণেরা নামমাত্র একটি দপ্তরাদেশ জারি করে বাধ্যতামূলক কর্মচারীদের কাজ করান। বিভিন্ন সমিতিতে ঈদ, পূজা, শোক দিবস এমনকি মে দিবসেও দপ্তরাদেশ দিয়ে তাদেরকে খাটানো হচ্ছে যাতে লঙ্ঘিত হচ্ছে শ্রম আইন ও হারাচ্ছে মানবাধিকার। একই ব্যাপারে জি.এমগণের মন্তব্য জানতে চাইলে তারা বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বি.আর.ই.বি)-এর দোহাই দিচ্ছেন। বিভিন্ন সমিতিতে দেখা গেছে, সমিতির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১৫৪ জন লাইন ক্রু মারাগেছেন এবং পঙ্গুত্বের শীকার হয়েছেন প্রায় ৩০০ এর উর্ধে কর্মচারী, যারা মারা গিয়েছেন তাদেরকে মৃত্যুকালীন কোনো ভাতা দেয়া হয়নি। উপরোন্ত নামমাত্র তদন্ত করে মৃত্যুটি চাপিয়ে দেয়া হয়েছে মৃত ব্যক্তির ঘাড়েই, বঞ্চিত করা হয়েছে তার ন্যায্য অধিকার হতে,পঙ্গুদের পুরো পরিবারটাই পঙ্গু হয়েযায় খোজ নেওয়ার কেউ থাকেনা। ফলে দুর্ঘটনাজনিত কারণে লাইন ক্রু মারা গেলে বা পঙ্গুহলে কর্মকর্তাদের কোনো দোষ খুঁজে পাওয়া ভার। সার্বিক বিষয়গুলো নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষ তুঙ্গে উঠলে ২০১২ সালের ১৮ অক্টোবর আর.ই.বি বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর সমিতির কর্মচারীরা বৈষম্য দূরীকরণের জন্য লিখিত আবেদন করেন। এরই প্রেক্ষিতে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান সমিতির ৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত টিম গঠন করেন। উক্ত তদন্ত টিম যে ২০টি সুপারিশ করেছেন অদৃশ্য কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি আজও। কর্মচারীদের নৈমিত্তিক ছুটির বিধান রয়েছে ৩৩ দিন, ঐচ্ছিক ছুটির বিধান ২০ দিন। শত অসুবিধা থাকলেও সার্ভিস কোডের বিধান অনুসারে তারা ছুটি অধিকার হিসাবে দাবি করতে পারবে না। ২-৪ দিন ছুটি মিলতে পারে কর্মকর্তাদের দয়ার উপর। বছরে ৩৩ দিনের ছুটির স্থানে মাত্র ১৬ দিনের বেতনের সমপরিমাণ বিল করে দেয়া হয়। বাকি ছুটিটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস)-এর তহবিল হতে হারিয়ে যায়। চাকরির শেষে নেই কোন এল.পি.আর। ফলে কর্মচারীরা হারাচ্ছে তাদের ন্যায্য অধিকার।

লেখক :
মোঃ রেজাউল করিম, একজন পল্লীবিদ্যুৎ কর্মচারী
মোবাইল : ০১৭১০২২১২১০, ০১৭১২৯৬৬৩২৪
mdtohin178@gmail.com, karim966324@gmail.com
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/১১:৫৫পিএম/১৭/২/২০১৭ইং)