• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:১৩ অপরাহ্ন

২ হৃৎপিণ্ড জোড়া লাগিয়ে রোগীর জীবন বাঁচালো চিকিৎসক!


প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২২, ২০১৮, ১১:১২ AM / ১৩৬
২ হৃৎপিণ্ড জোড়া লাগিয়ে রোগীর জীবন বাঁচালো চিকিৎসক!

 

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : ৫৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তি হৃদরোগে মৃত্যুর মুখোমুখি। প্রয়োজন হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপনের। ভাগ্যক্রমে হৃৎপিণ্ড দেবেন এমন এক একজন ডোনারও পাওয়া যায়। কিন্তু সমস্যা হলো অস্ত্রোপচারের সময় দেখা গেলো ১৭ বছর বয়সী ডোনারের হৃৎপিণ্ডটি আকারে অতিরিক্ত ছোট, যা ওই ব্যক্তির শরীরে যথেষ্ট রক্ত সরবরাহ করতে পারবে না। কিন্তু রোগীকে বাঁচাতে হবে। তাৎক্ষণিক চিকিৎসকরা নিলেন বিরল এক চিকিৎসার সিদ্ধান্ত। রোগীর হৃৎপিণ্ডের সাথে তারা জুড়ে দেন ডোনারের হৃৎপিণ্ড। সফলও হন তারা।

১০ ফেব্রুয়ারি, শনিবার ভারতের হায়দরাবাদে বিরল এই অস্ত্রোপচার করা হয়।

এই ব্যাপারে ভারতীয় গণমাধ্যম দি হিন্দুকে অ্যাপোলো হাসপাতালের চিকিৎসক ড গোপাল কৃষ্ণ গোখালে জানান, ৫৬ বছর বয়সী ওই রোগী হৃদরোগে মৃত্যুর কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। হঠাৎ করেই ১৭ বছর বয়সী ব্রেইন-ডেড এক ডোনারের হৃৎপিণ্ড পেয়ে যান ডাক্তাররা। ৫৬ বছর বয়সী রোগীর হৃৎপিণ্ড বাদ দিয়ে সেখানে ১৭ বছর বয়সীর হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন করার কথা। কিন্তু অপারেশনের সময় দেখা যায়, দান করা এই হৃৎপিণ্ড অতিরিক্ত ছোট।

‘ডোনারের হৃৎপিণ্ড ছিল হাতের মুঠো আকৃতির। আর যার শরীরে প্রতিস্থাপন করার কথা তার হৃৎপিণ্ড ছোটখাটো একটা ফুটবলের মত বড়,’ ড. গোখালে দি হিন্দুকে বলেন।

তিনি জানান, এত ছোট হৃৎপিণ্ড রোগীর তুলনামূলক বড় শরীরটায় যথেষ্ট রক্ত সরবরাহ করতে পারবে না। আবার প্রতিস্থাপন না করলেও তিনি মারা যাবেন। এ অবস্থায় বিরল এক চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা মিলে ঠিক করেন, রোগীর হৃৎপিণ্ডের সাথে জুড়ে দেবেন ডোনারের হৃৎপিণ্ড।

‘হেটেরোটপিক’ বা ‘পিগিব্যাক’ ট্রান্সপ্লান্টেশন নামের এই অস্ত্রোপচারের ফলে রোগীর হৃৎপিণ্ডের ডানদিকে বসিয়ে দেওয়া হয় ডোনারের ছোট হৃৎপিণ্ড। দুটো হৃৎপিণ্ডের আর্টিয়া (যে দুটি অংশে ফুসফুস থেকে অক্সিজেন-পূর্ণ রক্ত এসে জমা হয়) জুড়ে দেওয়া হয়। দুই হৃৎপিণ্ডের অ্যাওর্টা ধমনী এবং পালমোনারী ধমনীগুলোও একসাথে জুড়ে দেওয়া হয়। ফলে দুইটি হৃৎপিণ্ড একই সাথে কাজ করতে থাকে।

বিরল চিকিৎসা পদ্ধতি

দক্ষিণ আফ্রিকার কার্ডিয়াক সার্জন ক্রিস্টান বারনার্ডের ১৯৭৪ সালের উদ্ভাবন ছিল এই হেটেরোটপিক অস্ত্রোপচার। ড. গোখালে জানান, এ পর্যন্ত সারা পৃথিবীতে মাত্র ১৫০ বার এমন অস্ত্রোপচার করা হয়, যেখানে রোগীর শরীরে একই সাথে দুইটি হৃৎপিণ্ড কাজ করতে থাকে।

সাধারণত একটি হৃৎপিণ্ড অপসারণ করে আরেকটি হৃৎপিণ্ড বসিয়ে দেওয়া হয় রোগীর শরীরে, যাকে বলা হয় অরথোটপিক ট্রান্সপ্লান্ট। এটা প্রায় ১০ বছরের মত রোগীকে বাঁচিয়ে রাখতে সক্ষম। অনেকে মত দেন, হেটেরোটপিক ট্রান্সপ্লান্টেও রোগী ১০ বছর সুস্থ থাকেন। কিন্তু এই অস্ত্রোপচার এত কম পরিমাণে করা হয়েছে যাতে নিশ্চিত করে বলা যায় না কিছুই।

ভারতের এই রোগী অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ আছেন বলে জানান তার ডাক্তাররা। সূত্র: IFLScience

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরেএম/১১:০৭এএম/২২/২/২০১৮ইং)