• ঢাকা
  • শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন

সম্বোধনটা হোক্ সম্মানজনক


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১৫, ২০১৭, ১০:৪৩ PM / ১২১
সম্বোধনটা হোক্ সম্মানজনক

 

সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি : একজন সহকর্মী যখন পেশাগত দিক থেকে আপনার সিনিয়র কিংবা সম-সাময়িক, তখন তার প্রতি যথেষ্ট সম্মান রেখেই তাকে যথোপযুক্ত শব্দদ্বারা সম্বোধন করা আপনার জন্য শুধুই ভদ্রতা নয়, পেশাগত শৃঙ্খলা রক্ষা ও দায়িত্ববোধের মধ্যেই পরে। কিন্তু কোনো কোনো পুরুষ সহকর্মীদের ভেতরে তাদের নারী সহকর্মীর প্রতি এই ধরনের দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও ভদ্রতার বড়ই অভাব। এখানে প্রশ্ন নারী কিংবা পুরুষ ভেদে নয়, প্রশ্নটা হচ্ছে- আপনি আপনার সিনিয়রের প্রতি কতটা ভদ্রতা জ্ঞান রাখেন। পুরুষ শাসিত সমাজ ব্যবস্থা হওয়ার কারণেই হয়ত কিছু কিছু অজ্ঞানী লোকের ভেতরে একটি প্রচলিত ধারনা আছে যে- “সে একজন নারী তাই তাকে নাম ধরে এবং আপনি/তুমি যা ইচ্ছে তাই ডাকা যেতে পারে।” আবার “পেশাগত দিক থেকে যতই সিনিয়র হোক্ না কেনো সে একজন নারী, তার উপর বয়সে জুনিয়র, সুতরাং তাকে ‘তুমি’ বলাই যেতে পারে।” না, পারেনা। আপনি তার ভাই/দোলাভাই কিংবা পরিবারের কোনো সদস্য বা খুব কাছের আত্মীয় না। আপনি শুধুই একজন সহকর্মী কিংবা একই পেশার পরিচয় বহন করা সদস্য মাত্র। আপনার ভাষার ব্যবহার এবং আপনার আচরণই প্রথমত আপনার বংশীয় এবং পারিবারিক পরিচয় বহন করে। সুতরাং নিজেকে সম্মানের জায়গাটাতে রাখতে চাইলে অন্যের প্রাপ্য সম্মানের জায়গাটাকে মেনে নিতেই হবে। নয়ত আপনি ১০০% পেশাদারিত্ব রক্ষা করার মতো যোগ্যতা বহন করেন না। ভেবে দেখুন, যে নারীটা আজ পেশাগত দিক থেকে আপনার বস্ কিংবা মোস্ট সিনিয়র। অথচ বয়স তার মাত্র ২৫ কিংবা ৩০, কিংবা তার চেয়ে কিছুটা কম বা বেশি। আর এদিকে ৩৫/৪০ বছর বয়স হলেও আপনি পেশাগত দিক থেকে তার অতি জুনিয়র। কেনো? আপনি ২৫ কিংবা ৩০ এ এসে জব শুরু করলেও ওই নারী কিন্তু টিনএইজ বয়স থেকেই লড়াই করে, যুদ্ধ করে এরপর এই বয়সে এসে আজকের অবস্থানে পৌছেছে। অর্থাৎ রণক্ষেত্রে সে আপনার বহু আগেই নেমেছে। সুতরাং একই রণক্ষেত্রে নেমে বয়স না মেপে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার পরিমাপ করুন। এরপর চোখ-কান খোলা রেখে কাউকে সম্বোধন করুন। সহকর্মীদের যে কাউকে সরাসরি নাম ধরে ‘তুমি’ না বলে ‘ভাই’ কিংবা ‘আপা’ এবং ’আপনি’ বলে সম্বোধন করুন। শুধু পেশাগত পরিচিতই হবে কেনো? যে কোনো প্রাপ্ত বয়স্ক নারী-পুরুষকে সম্মানজনক সম্বোধন করা উচিত। এটি একটি ছোটখাটো ভদ্রতা। এই সামান্য ভদ্রতাটুকুই যদি রক্ষা করে চলতে না পারেন তাহলে আপনারা সমাজের দর্পণ হবার যোগ্যতা রাখেন না। যদি তা না ই পারেন, তাহলে বলব- পেশা ত্যাগ করেন। ফুটপাতে গিয়ে ঝাল মুড়ি কিংবা লাল-নীল-বেগুনী রঙের ফ্রক পড়ে চানাচুর বিক্রি শুরু করুন। ভাল করতে পারবেন। কারণ, এই ধরনের আনস্মার্ট লোকেদের জন্য স্মার্ট জব বেমানান। স্মার্ট হোন্, নিজের স্মার্টনেস দিয়ে ঘরে-বাইরের প্রতিটি সম্পর্ককে জয় করুন। মাফ করবেন, যদি কারো ব্যক্তিগত বিষয়ের সাথে আমার এই কথাগুলো মিলে যায়।

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/এসডিপি/১০:৪০পিএম/১৫/১/২০১৭ইং)