• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৯ অপরাহ্ন

মালিক ও শ্রমিক নেতাদের পার্থক্য কি বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ?


প্রকাশের সময় : মে ১, ২০১৭, ৮:১৬ PM / ১২৭
মালিক ও শ্রমিক নেতাদের পার্থক্য কি বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ?

 

রেজাউল করিম নয়ন : প্রতি বছর মহান শ্রমিক দিবসকে কেন্দ্র করে কিছু প্রতিষ্ঠিত শ্রমিক নেতা ও সমাজ সেবকগণ নানা প্রকার মন ভুলানো বক্তব্যের মাধ্যমে খেটে খাওয়া শ্রমিক সমাজে নিজেকে ব্যাপক আকারে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন।

একটা বিষয় লক্ষনীয় যে- এসকল ব্যাক্তিবর্গ শুধুমাত্র অধীকার আদায়ে যে শ্রমিকরা নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে সেই সংগঠন নিয়েই কেবল বিভিন্ন রকম প্রতিশ্রুতির বুলি আওড়াচ্ছে।

বাংলাদেশের এমনও কিছু শ্রমিক আছে যাদের কর্মস্থলের পরিবেশের বর্ণনা শুনলে সেই ইংরেজ নীল চাষীরাও লজ্জায় মাথা নত করবে। হ্যা, পল্লীবিদ্যুতের শ্রমিকদের কথা বলছি। এরাই অক্লান্ত পরিশ্রম করে বৈরী আবহাওয়ার সাথে যুদ্ধ করে বাংলার ৬৮ হাজার গ্রামে বিদ্যুৎ সেবা দান করছে। দেশকে উন্নত করতে সরকারকে সহযোগীতা করার দৃঢ় সংকল্প বুকে নিয়ে। বিনিময়ে এই বৃহত্তম কর্মীগোষ্ঠি কতৃপক্ষের প্রভুসুলভ আচরনে পিষ্ট হচ্ছে নির্মম নির্যাতনের যাতাকলে।

গত ৫ বছর যাবৎ পল্লীবিদ্যুতের শ্রমিক সমাজ নিজেদের অধীকার প্রতিষ্ঠায় ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের আপ্রাণ চেষ্টা করেও কোন প্রতিষ্ঠিত শ্রমিক নেতাদের কাছ থেকে আশানুরূপ কোনো সহযোগীতা পান নি উপরন্ত তাদের উপর নির্যাতন নিপীড়ন, হয়রানিমূলক বদলী, সাময়িক বরখাস্ত সহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যাবস্থা ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই শ্রমিকগন এখন জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির মুখের কাছে থেকে গ্রাম ও মফস্বল এলাকার জনগনের সেবা দিয়ে আসছে।

সেই প্রতিষ্ঠিত শ্রমিক নেতাদের মানবতা কি এতটাই বিলুপ্তির পথে? তাহলে মালিক ও শ্রমিক নেতাদের পার্থক্য কি শুধুমাত্র বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ? যদি সকল প্রতিষ্ঠিত নেতা একত্রিত হয়ে পল্লীবিদ্যুতের শ্রমিকদের অধীকার রক্ষায় তাদের পাশে এসে দাঁড়াত তাহলে ৪০ হাজার কর্মচারীর মুখে হাসিফুটানোর কারনে এই বাংলাদেশেই “পহেলা মে” এর মতন আরেকটি শ্রমিক ইতিহাস রচিত হত। বাঙ্গালী শ্রমিক জাতীর একটি আফসোস জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবরের মতন একজন নেতা এই সকল ভাগ্য বিদ্ধস্ত শ্রমিকদের জন্য আজও এই বাংলায় জন্ম নেয়নি।

বেশকিছুদিন আগে বিভিন্ন মিডিয়াতে দেখাগেলো টাঙ্গাইলে যমুনা নদীতে ভেসে আসা এক বন্য হাতিকে নিয়ে ব্যাপক ভাবে প্রচার করেছে। মিডিয়ায় যদি ঐ পশুটির থেকে কম গুরুত্ব দিয়ে পল্লীবিদ্যুৎ শ্রমিকদের অর্ধেক গুরুত্ব দিয়ে ৪০ হাজার মানুষের সুখ-দুঃখের বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচার করতো তাহলে কিছু না পেলেও এই মানুষগুলো মিডিয়ার কাছে কৃতজ্ঞ থাকতো।

রেজাউল করিম নয়ন
সহ-সাধারন সম্পাদক
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ শ্রমিক-কর্মচারী লীগ

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/এসডিপি/৮:১০পিএম/১/৫/২০১৭ইং)