• ঢাকা
  • শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন

রোহিঙ্গা সংকটকে ‘আন্তর্জাতিক ইস্যু’ না বানানোর আহ্বান চীনের


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৮, ১২:১২ PM / ১১৩
রোহিঙ্গা সংকটকে ‘আন্তর্জাতিক ইস্যু’ না বানানোর আহ্বান চীনের

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : রোহিঙ্গা ইস্যুকে জটিল, বড় ও আন্তর্জাতিকীকরণ করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন চীনের শীর্ষ কূটনীতিক। দেশটির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা ওয়াং ই বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুটি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ইস্যু। একে এত বড় করে দেখা বা আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করাকে চীন সমর্থন করে না।

রোহিঙ্গা নিপীড়নের দায়ে মিয়ানমারকে বিচারের মুখোমুখি করতে আনা একটি প্রস্তাব ভোটাভুটির পর বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে গৃহীত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশনের (ওআইসি) আনা প্রস্তাবে মিয়ানমারকে ভবিষ্যতে বিচারের মুখোমুখি করতে সম্ভাব্য গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ সংগ্রহ করতে একটি তদন্ত দল গঠনের কথা বলা হয়েছে। ৪৭ সদস্যের কাউন্সিলে ৩৫-৩ ভোটে প্রস্তাবটি পাস হয়। সাত সদস্য দেশ ভোটদানে বিরত ছিল।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে রোহিঙ্গা বিরোধী অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনা বাহিনী। অভিযানের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা সাত লাখ রোহিঙ্গা দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ করে আসলেও তা অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার।  গত ৬ সেপ্টেম্বর এক ঐতিহাসিক রায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইসিসি দেশটির বিরুদ্ধে প্রাক বিচারিক তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেয়। জাতিসংঘের চলমান সাধারণ অধিবেশনে মিয়ানমারের ওপর চাপ তৈরির দাবিও জোরালো হয়ে ওঠে। এমন প্রেক্ষাপটেই জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনে প্রস্তাব আনে ইইউ ও ওআইসি।

চীন, ফিলিপাইন ও বুরুন্দি প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। তবে প্রস্তাবের সমর্থনকারীরা বলছেন, একশোরও বেশি দেশ তাদের সমর্থন করছে। গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী নতুন দলটি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) যেকোনও সম্ভাব্য বিচারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।

মিয়ানমারের রাখাইনে সেনা অভিযানকে জাতিসংঘ ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ বলে অভিহিত করেছে। চীন মিয়ানমারের মিত্র। তারাও মিয়ানমারের মতো রাখাইনে সামরিক অভিযানকে সমর্থন করে। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদেও তারা মিয়ানমারের সমর্থনে কথা বলে।

নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলি ও মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কিয়াও তিন্ত সোয়ের সঙ্গে কথা বলার পর ওয়াং ই বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুটি জটিল ও ঐতিহাসিক। তিনি আশা করেন, আলোচনার মাধ্যম বাংলাদেশ ও মিয়ানমার এই সংকটের সমাধান করবে।

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/১২:১২পিএম/২৮/৯/২০১৮ইং)