• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৩ অপরাহ্ন

রিয়ালের সর্বনাশ চেয়ে বিপদই ডেকে এনেছে পিএসজি!


প্রকাশের সময় : মার্চ ৯, ২০১৮, ৭:১২ PM / ১২৩
রিয়ালের সর্বনাশ চেয়ে বিপদই ডেকে এনেছে পিএসজি!

 

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : একেই বুঝি বলে পরের সর্বনাশ চেয়ে নিজের বিপদ ডেকে আনা। পিএসজি এখন ব্যাপারটা বুঝতে পারছে হাড়ে হাড়ে। প্রতিপক্ষ রিয়াল মাদ্রিদের জন্য সর্বনাশের গর্ত খুড়তে গিয়ে ফরাসি ক্লাবটি এখন নিজেরাই এখন সেই গর্তে। গত মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোল’র ফিরতি লেগে রিয়াল মাদ্রিদকে জ্বালাতন করার জন্য উগ্রপন্থী সমর্থকদের দায়িত্ব দিয়েছিল পিএসজি। উগ্রপন্থী সেই সমর্থকদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে পিএসজিই এখন উয়েফার কাঠগড়ায়। যেকোনো মুহূর্তে নেমে আসতে পারে শাস্তির খড়্গ!
প্রথম লেগে ৩-১ গোলে হেরে আসার পর নিজেদের মাঠের দ্বিতীয় লেগটাকে পিএসজি ঘোষণা করেছিল যুদ্ধ। আর সেই যুদ্ধে শত্রু রিয়ালকে ঘায়েল করতে পিএসজি শুধু মাঠের ১১ জন ফুটবলারের উপরই নির্ভর করেনি, তাদের সঙ্গে যুদ্ধে নামিয়ে দিয়েছিল ক্লাবটির উগ্রপন্থী সমর্থকদেরও। চরমপন্থী ওই সমর্থকদের স্টেডিয়ামে প্রবেশের অনুমতিও দিয়েছিল পিএসজি।

উদ্দেশ্য ছিল, নানা রকম স্লোগান, চিৎকার-চেচামেচির মাধ্যমে প্রতিপক্ষ রিয়ালের খেলোয়াড়দের কান ঝালাপালা করে তাদের মাঠের খেলায় বিঘ্ন ঘটানো। সমর্থকদের ক্রমাগত জ্বালাতনে তিতিবিরক্ত হয়ে রিয়ালের খেলোয়াড়েরা মনোযোগ হারিয়ে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারবে না। সেই সুযোগে পিএসজির মাঠের সৈনিকেরা একের পর এক গোল আদায় করে দলকে তুলে দেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের স্বপ্নের কোয়ার্টার ফাইনালে। উদ্দেশ্য ছিল এটাই।

কিন্তু পিএসজির সেই আশা পূরণ হয়নি। না, দায়িত্ব পেয়ে পিএসজির উগ্রপন্থী সমর্থকরা নিজেদের কর্তব্যকর্মে অবহেলা করেনি। তারা বরং ক্লাব কর্তাদের প্রত্যাশার চেয়েও রিয়ালের খেলোয়াড়দের বেশি জ্বালাতান করেছে।

রিয়ালের কোচ-খেলোয়াড়েরা প্যারিসের যে হোটেলে উঠেছিল, ম্যাচের আগের দিন রাতেই সেই হোটেলের কাঠে সমবেতন হয় পিএসজির উগ্রপন্থী ওই সমর্থকরা। ফ্লেয়ার পুড়িয়ে ধোয়া তৈরির পাশাপাশি রিয়ালের খেলোয়াড়দের আরামের ঘুম হারাম করতে বাদ্য-বাজনা, উচ্চ স্বরে স্লোগান, চিৎকার-চেচামেচি সবকিছুই করেছে। ঘুম হারাম করার পাশাপাশি স্বাভাবিক প্রস্তুতি নিতেই বিঘ্ন ঘটিয়েছে।

শুধু তাই নয়। হোটেল থেকে স্টেডিয়ামে যাওয়ার পথেও রিয়ালের খেলোয়াড়দের বিরক্ত করেছে ওই সমর্থকরা। এরপর আসল খেলাটা তারা খেলেছে স্টেডিয়ামের ভেতরে। ম্যাচ শুরুর আগেই ফ্লেয়ার পুড়িয়ে পুরো স্টেডিয়ামকে আগুন আর ধোয়ার নগরী বানিয়ে ফেলেন তারা। গ্যালারিতে তারা আগুন জ্বালিয়ে ম্যাচ চলাকালেও। যে কারণে দুদুবার বন্ধ রাখতে হয়েছে মাঠের খেলা।

এতো এতো কাণ্ডের পরও পিএসজির আসল উদ্দেশ্য সফল হয়নি। রিয়ালকে হারাতে পারেননি তারা। উল্টো নিজেরাই হেরে গেছে ২-১ গোলে। দুই লেগ মিলিয়ে ৫-২ অগ্রগামিতায় রিয়াল মাদ্রিদ টানা অষ্টম বারের মতো উঠে গেছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে। আর বিলিয়ন ডলার খরচ করে দল গঠন করেও পিএসজিকে পুরতে হয়েছে স্বপ্নভঙ্গের বেদনায়।

সেই বেদনা-হতাশার সঙ্গে এবার যোগ হতে যাচ্ছে শাস্তিও। ম্যাচ শেষেই সমর্থকদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য পিএসজির বিরুদ্ধে উয়েফার কাছে নালিশ করে রিয়াল মাদ্রিদ। রিয়ালের অভিযোগ আমলে নিয়ে ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এরই মধ্যে তদন্তে নেমেও পড়েছে।

সঙ্গে দলবদলের বাজারে দেদারছে টাকা খরচ করায় পিএসজির বিরুদ্ধে উয়েফার ফ্লেয়ার প্লে নীতি ভঙ্গের অভিযোগও করেছে রিয়াল। এই অভিযোগ অবশ্য গত আগস্টের পরই ইউরোপের একাধিক ক্লাব করেছিল। কিন্তু তদন্তের পর উয়েফা পিএসজিকে ‘সঠিক পথে থাকা’র সার্টিফিকেটই দিয়েছে। এবারও হয়তো ফ্লেয়ার প্লে নীতি ভঙ্গের অভিযোগে পিএসজির তেমন কিছু হবে না। কিন্তু উগ্রপন্থী সমর্থকদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য পিএসজির শাস্তি অবধারিত।

কারণ, কোনো কিছুই পিএসজি কর্তারা গোপন করতে পারবেন না। উগ্রপন্থী সমর্থকরা সবকিছুই করেছেন প্রকাশ্যে। তাদের সেই অপকর্ম দেখেছে পুরো দুনিয়া। গণমাধ্যমের খবর, প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের পরিকল্পিতভাবে নাজেহাল করার চেষ্টায় কড়া শাস্তিই নেমে আসবে ক্লাব পিএসজির ঘাড়ে। কারণ, পিএসজিই পরিকল্পনা করেই উগ্রপন্থী ওই সমর্থকদের লেলিয়ে দিয়েছিল রিয়ালের পেছনে।

শাস্বিটা বড় হবে, এটা নিশ্চিতই। সেই শাস্তিটা কি, সেটাই এখন দেখার।

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/কেএস/৭:১২পিএম/৯/৩/২০১৮ইং)