• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০১:০৭ পূর্বাহ্ন

রহস্যময় ইনজুরিতে ভিলেন, জাদুকর হয়ে হিরো


প্রকাশের সময় : মার্চ ৯, ২০১৮, ১১:১৩ AM / ১৩৫
রহস্যময় ইনজুরিতে ভিলেন, জাদুকর হয়ে হিরো

 

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : বিশ্বকাপ কিংবদন্তিদের সেরা ১০০ এর তালিকার ওপরের দিকে রোনাল্ডোর থাকার কারণের অভাব নেই। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে সহজাত স্কোরার। স্ট্রাইকার হিসেবে হেডে খুব দুর্দান্ত ছিলেন না। কিন্তু তার আর সব ক্যারিশমাই ছিল চোখ জুড়ানো, মন ভুলানো। তার খেলাই দেখাই ছিল ভিন্ন আনন্দের উপলক্ষ্য। উপভোগের ভাড়ার উপচে পড়তো। রাশিয়া বিশ্বকাপের ১০০ দিনের কাউন্টডাউনে বিশ্বকাপের ১০০ কিংবদন্তিদের নিয়ে আয়োজনের তালিকায় এবার রোনালদো। গার্ডিয়ানের তালিকা ধরে লিখেছেন খাইরুল আমিন তুহিন।

১৯৯৮ বিশ্বকাপের ফাইনালের আগের রহস্যময় ইনজুরিতে। তবু খেলেছিলেন শিরোপা লড়াইয়ে। নিজের ছায়া হয়ে। ২০০০ সালে হাঁটুর ইনজুরির ভয়াবহতা শুরু। কিন্তু ২০০২ সালে এসে কি ক্যারিশমা দেখিয়ে না ব্রাজিলকে জেতালেন বিশ্বকাপ। ৮টি গোল করেছিলেন। ১৯৭০ বিশ্বকাপের পর কোনো এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। জাপান-কোরিয়া থেকে পঞ্চম বিশ্বকাপ শিরোপা জিতল ব্রাজিল। যেটি এখনো তাদের শেষ বিশ্বকাপ শিরোপা।

রোনাল্ডো লুইজ নাজারিও দে লিমা। সংক্ষেপে রোনাল্ডো। আদুরে নাম ‘দ্য ফেনোমেনো’। যার অর্থ জিনিয়াস বলতে পারেন স্প্যানিশে। পর্তুগিজে খেয়ালী। ইংরেজিতে অতিপ্রাকৃত বললেও ভুল হয় না। যখন ইচ্ছে যা খুশি করে ফেলার অসম্ভব ক্ষমতাই এমন কিম্ভুত ডাকনামের মালিক করেছিল রোনাল্ডোকে। ড্রিবলিং, গতি এবং অসাধারণ ফিনিশিংয়ে ওস্তাদ ফুটবলার বিশ্বকাপেই দেখাতেন আরো বেশি জাদু। খেলেছেন ১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২ ও ২০০৬ বিশ্বকাপ। তার নামে স্মরণীয় ২০০২। ১৯ ম্যাচ খেলে বিশ্বকাপে গোল ১৫টি। ২০০৬ বিশ্বকাপে যেটি ছিল বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করার বিশ্ব রেকর্ড।

স্ট্রাইকার হিসেবে কমপ্লিট প্যাকেজই বলা চলে রোনাল্ডোকে। পেলের পর ব্রাজিলিয়ান হিসেবে তার নামই সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত। সর্বকালের অন্যতম সেরা। ব্রাজিলের হয়ে ৯৭ ম্যাচে যার ৬২ গোল। পিএসভি আইন্দহোফেন, বার্সেলোনা, ইন্তার মিলান, রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ক্লাব বিশ্ব কাঁপিয়েছেন।

ছেলেবেলা থেকেই বল পায়ে পায়ে ঘোরা অভ্যাস ছিল রোনাল্ডোর। ১৯৯৪ বিশ্বকাপের সময় রোনাল্ডোর বয়স মাত্র ১৭। অনেকে বলেছিলেন, বিশ্বকাপের জন্য ছোকরা তৈরি নয়। তবু ছিলেন বিশ্বকাপের দলে। না খেলেও বিশ্বকাপ জেতার অভিজ্ঞতা হয়েছিল টিনএজারের। চার বছর পর ফ্রান্সে কাজে লাগিয়েছিলেন মাঠের বাইরে থেকে নেওয়া অভিজ্ঞতা।

ফরাসিদের মাটিতে ফাইনালের আগে চারটি গোল করে ফেললেন রোনাল্ডো। অ্যাসিস্ট ছিল তিন গোলে। পঞ্চম শিরোপাটা ব্রাজিল জিততেই পারে ২১ বর্ষীয় স্ট্রাইকারের ওপর ভর করে, এমনই ধারণা তখন। কিন্তু ফাইনালের আগে ব্রাজিল একাদশে রোনাল্ডোর নাম নেই। তিনি নাকি ইনজুরিতে। কি ইনজুরি ঠিক মতো কেউ জানে না। কিন্তু ম্যাচ শুরুর ৭২ মিনিট আগে ব্রাজিল একাদশে আবার ফিরে আসে তার নাম। গোটা ফুটবল দুনিয়া এই নাটকে থ। জিনেদিন জিদানদের কাছে ৩-০ গোলে হারে ব্রাজিল।

এই বিতর্ক থেকে মাথা বের করে ২০০২ বিশ্বকাপে রোনাল্ডো ফিরে আসেন মহাকাব্য লিখতে। দলে তাকে রাখা নিয়েই কথা উঠেছিল তখন। কিন্তু একমাসের মধ্যেই আরো দুই আরকে নিয়ে রোনাল্ডো ব্রাজিলকে রেকর্ড পঞ্চম বিশ্বকাপ শিরোপাটা এনে দিলেন। তার প্রশংসা করা ছাড়া সমালোচকদের উপায় থাকেনি। সেমি ফাইনালে বিশ্বের সেরা স্ট্রাইকার একমাত্র গোলটি করলেন। আর ফাইনালে জোড়া গোল। ওজন ও ফিটনেস সমস্যা বয়ে বেড়িয়েই নতুন ইতিহাস লেখেন রোনালদো তার প্রকৃতিপ্রদত্ত ক্ষমতায়। গোল্ডেন বলটাও ছিল তার হাতে।

২০০৬ বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে দক্ষিণ আমেরিকার সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন। ব্রাজিল শীর্ষ দল হিসেবেই জার্মানি গেল। ওখানে রোনালদো শুরু থেকেও ওজন সমস্যা আর ফিটনেসের কারণে সমালোচনার মুখে। খেলার ছন্দ হারিয়েছেন। কিন্তু এই আসরে আরো তিন গোল করে অনেক রেকর্ডই গড়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় ব্রাজিলের। বিদায়ের বিশ্বকাপটা খুব স্মরণীয় হলো না কিংবদন্তি রোনাল্ডোর। (পরিবর্তন)

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/১১:১২এএম/৯/৩/২০১৮ইং)