• ঢাকা
  • বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন

যদি সরকার লক ডাউন নীতি গ্রহণ করে তাহলে আমরা খাব কি?


প্রকাশের সময় : মার্চ ২৪, ২০২০, ১১:১৬ AM / ১০০
যদি সরকার লক ডাউন নীতি গ্রহণ করে তাহলে আমরা খাব কি?

 

নাইম তালুকদার : লক ডাউন শার্ট ডাউন কি? এগুলো খায় না পড়ে? খেলে স্বাদ কেমন? মিষ্টি, তিতে, নাকি টক? এগুলো তে কোন ভিটামিন পাওয়া যায়? ভিটামিন এ /বি /সি নাকি ডি? আমরা সবাই যদি একটু গভীরভাবে চিন্তা করি, আমাদের মত জনবহুল দেশ যদি লক ডাউন / শার্ট ডাউন নীতি গ্রহণ করে তাতে কি লাভ হবে আর কি ক্ষতি হবে? আমি লক ডাউন /শার্ট ডাউনের বিপক্ষে। তাই আমার দৃষ্টিতে ক্ষতি গুলোর কথা তুলে ধরছি। ১.বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হবে। চাহিদার তুলনায় যোগান কমে যাবে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি জায়গায় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়ে গেছে।
২.চাল, ডাল, তেল, আটা, আলু, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন প্রভৃতি নিত্য পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাবে। যার রেশ শুরু হয়ে গেছে।
৩.শিশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাবে। চাহিদার তুলনায় যোগান কমে যাবে। বিভিন্ন দেশের গবেষকরা গবেষণা করে বলছেন শিশুদের নাকি করোনায় মৃত্যু ঝুঁকি কম। কিন্তু শিশু খাদ্যের অভাব হলে শিশুদের মৃত্যু ঝুঁকি যে বাড়বে সেটা নিশ্চিত। ৪.যদি সরকার লক ডাউন শার্ট ডাউন নীতি গ্রহণ করে তাইলে আমরা খাব কি? যাদের হাতে টাকা আছে তারা না হয় বেশি করে খাদ্য পণ্য ক্রয় করে রাখল যাতে মাসখানেক চলা যায়। কিন্তু যাদের দৈনিক আয়ের উপর নির্ভর করে খাদ্য পণ্য ক্রয় করতে হয় তাদের কি হবে?
তারা কি খাবে? করোনায় যে তারা সবাই মারা যাবে সেটা নিশ্চিত না। কিন্তু খাবারের অভাবে তাদের অধিকাংশ মারা যাবে সেটা নিশ্চিত। যুগে যুগে দুর্ভিক্ষের সময় মানুষ খাবারের অভাবেই মারা গেছে।
৫.কানাডার মতো আমাদের সরকার যদি খাবার বাসায় পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দেয় তাতেও কি সমস্যার সমাধান হবে?
ধরুন আপনার এলাকার জন্য ৫ বস্তা চাউল বরাদ্দ করা হয়েছে। এগুলো জনপ্রতিনিধি (মেম্বার, চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর, মেয়র, এমপি) দের দ্বারা বিতরণ করা হবে। তাইলে কি আপনি আপনার অংশ পাবেন?
আমার তো মনে হয় পাবেন না?
কারণ ৫ বস্তার মধ্যে পারলে দায়িত্ব প্রাপ্তরা ৬ বস্তাই মেরে খাবে। কারণ উনারা বাংলাদেশের জনপ্রতিনিধি।
সরকারি কর্মকর্তাদের অবস্থাও জনপ্রতিনিধিদের মতোই।
একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ।
৬.এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছে তারা সবাই বিদেশে থেকে এসেছেন অথবা কারোর সংস্পর্শে থেকে আক্রান্ত হয়েছেন। আমরা একটু সচেতন হইলেই করোনা থেকে মুক্তি পেতে পারি। কিন্তু দেশ যদি লক ডাউন শার্ট ডাউন হয়ে যায়, তাইলে কিভাবে মুক্তি পাব?
খাদ্য সংকটে তো পড়তেই হবে? করোনায় নাকি মৃত্যু ঝুঁকি কম (যদি অন্য কোন রোগ না থেকে থাকে, যেমন উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি সমস্যা)।
কিন্তু খাদ্যের অভাবে তো ঝাঁকে ঝাঁকে মানুষ মরবে।
অতীতে দুর্ভিক্ষের সময় তাই হয়েছে।
৭.লোকমুখে শুনলাম গার্মেন্টস নাকি ছুটি দিয়ে দিবে। গার্মেন্টস মালিকরা কি কর্মীদের বেতন পরিশোধ করে দেবে? নিশ্চয়ই না। কারণ যে দেশে ঈদের বেতন বোনাস পাওয়ার জন্য শ্রমিকদের রাস্তায় নামতে হয় সেই দেশের গার্মেন্টস মালিকরা যে বেতন পরিশোধ করে দেবে তা আশা করাও পাপ। বিপুল সংখ্যক গার্মেন্টস কর্মীদের খাবার কে দেবে?
৮.স্কুল কলেজ বন্ধ হয়েছে। কি লাভ হয়েছে?
কোচিং তো ঠিকই চলছে (যদিও অভিযান চলছে)। অনেকেই আনন্দ ভ্রমণে বের হয়েছে। হোম কোয়ারান্টাইনে কয়জন আছে? হোম কোয়ারান্টাইনের পরিবর্তে উপজেলা ভিত্তিক একটি করে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইনের ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। লক ডাউন শার্ট ডাউন করলেও তাই হবে। কেউ কি ঘরে বসে থাকবে?
৯.করোনায় মৃত্যু ঝুঁকি কম। যদি ধরেও নি মৃত্যু ঝুঁকি শতকরা ৩০ ভাগ। তাইলে মোট আক্রান্তের মাত্র ৩০ ভাগ মারা যাবে ( যদিও তা কাম্য নয়)। কিন্তু লক ডাউন শার্ট ডাউন হলে তো খাদ্যের অভাবে ৫০-৬০ ভাগ মানুষ মারা যাবে। অতীতে দুর্ভিক্ষের সময় তাই হয়েছে।
১০.ইউরোপ আমেরিকার নীতি আমাদের মতো জনবহুল দেশে অসম্ভব। কারণ ইউরোপ আমেরিকার একটি দেশে যে জনসমষ্টি আমাদের একটি শহরে তার চেয়ে বেশি।
লক ডাউন শার্ট ডাউন হলে কেউ মাস্ক, হ্যান্ডওয়াশ এগুলো কিনতে আগ্রহী হবে না তখন সবাই চাল, ডাল, তেল ,ইত্যাদি খাদ্য পণ্য কিনতে হাওকাও শুরু করবে। কারণ আগে পেটের খোরাক তারপর অন্য কিছু।
লক ডাউন শার্ট ডাউন হলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
যাই হোক তারপরও কিছু কিছু বুদ্ধিজীবীদের মতে লক ডাউন শার্ট ডাউন নীতি হয়তো দেশের জন্য উপকারই বয়ে আনতে পারে। কিন্তু কি যে সে উপকার তা আমার জানা নেই।
তাই আমার মতে লক ডাউন শার্ট ডাউন নীতি গ্রহণ না করে সবাইকে করোনা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সচেতন হতে হবে। শুধু সরকারের উপর নির্ভর না করে আমাদের নিজেদেরও সচেতন হতে হবে। শিষ্টাচার মেনে চলতে হবে।
সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ। সর্বোপরি মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে। আল্লাহ প্রদত্ত জীবন বিধান মেনে চলতে হবে।শুধু মাস্ক পড়ে আর বারবার হাত ধুয়েই যদি সম্পূর্ণ বিপদমুক্ত থাকা যেত তবে শহরের পর শহর লক ডাউন করা হত না। জীবন ধ্বংস করা বাতাসে ভেসে বেড়ান মারাত্মক শক্তিশালি ভাইরাস কোন পথে কিভাবে শরীরে ঢুকবে তা ধারণা বা রোধ করা অসম্ভব। এটাই বিজ্ঞান।
আপনি মরার আগেও আল্লাহ আছেন, থাকবেন। কবরে গেলেও তিনি ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। আমাদের প্রধান কাজ হচ্ছে নিজেকে রক্ষা করার কতটুকু চেষ্ঠা বা কাজ আমরা করেছি।
সবাই বাসায়। একজন শুধু প্রতিদিন বাইরে যাচ্ছে আর আসছে। কাপড়চোপড়, শরীরের যে কোন অংশের মাধ্যমে ভাইরাস সে বাসায় ঢুকে পরিবারের যে কাউকে আক্রান্ত করতে পারে।
হে আমাদের প্রতিপালক, যদি আমরা ভুল করি বা ভুলে যাই, তবে আমাদের অপরাধী করবেন না। আমাদের পাকড়াও করবেন না। আমরা বড় অসহায় এবং আবেগী এক জাতি। আমাদের আশ্রয় দিন আপনার ছায়াতলে। মহান আরশে আযীমের মালিক আপনি। আপনি ছাড়া আমাদের রক্ষা করার কেউ নেই।
আমাদের চেষ্ঠা, পরিশ্রম, আশা ভরসা আপনি কবুল করুন। আমাদের সন্তানদের সকল প্রকার অকল্যাণ এবং বিপদ থেকে রক্ষা করুন।
আমিন ছুম্মা আমিন!

লেখক : সংবাদকর্মী

(ঢাকানিউজ২৪.কম/আরএম/১১:১৩এএম/২৪/৩/২০২০ইং)