• ঢাকা
  • বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৬ অপরাহ্ন

ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ নয়, মানুষকেও ছোট নয়


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৬, ২০১৮, ৩:৫২ PM / ১২১
ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ নয়, মানুষকেও ছোট নয়

গৌতম রায় : অনেকেই হয়তো এতদিন তার নাম শুনেছেন কিন্তু এতটা চিনতেন না। তিনি দেশে আজ ব্যাপক পরিচিত। বলা যায়, চারিদিকে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র কেনার পর থেকেই তিনি মিডিয়ায় আলোচনার বিষয়বস্তুতে চলে আসেন। দেশের প্রায় প্রতিটি টেলিভিশনেই চলছে তাকে নিয়ে কাড়াকাড়ি। আর কাউকে নিয়ে এ পর্যন্ত মিডিয়া এত কভারেজ দেয়নি যা তাকে দেয়া হয়েছে। টক শো, সাক্ষাৎকার সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতেই এখন হিরো আলম৷ এবারের নির্বাচনে মূল চমকটাই- হিরো আলম। তাকে নিয়ে কত তামাশা, বিদ্রুপ, উপহাস হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে এমপি হবার যোগ্যতা নিয়ে। কিন্তু আমি অকপটে শিকার করবো, মনোনয়ন বাছাইয়ে যারাই টিকে থাকবে তাদের প্রত্যেকেরই এমপি হবার যোগ্যতা রয়েছে। এরপর স্থানীয় জনগনের অধিকার রয়েছে তাদের নেতা নির্বাচনে।
হিরো আলম আমাদের ঘুনে ধরা রাজনীতির বিপরীতে একটি সহজ সরল চরিত্রমাত্র। যে দেশে খুনী, মাদক সম্রাট, চোর-ডাকাত, সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ, অশিক্ষিতরা এমপি হতে পারে সেদেশে অবশ্যই হিরো আলমরা এমপি হবার অধিকার রাখে। অবশ্যই ঐ সমস্ত কুলাঙ্গার এমপিদের চাইতে হিরো আলমরা হাজার গুন সৎ। রাজনীতির মঞ্চে মিথ্যাচার, চাপাবাজি, জাতীয় সংসদে নিকৃষ্ট মানুষের পদচারনা থামাতে হিরো আলমদেরই উঠে আসা দরকার। অন্তত অসুস্থ্য ধারার রাজনীতিকে চাপটেঘাত করে সুস্থ্য ধারার রাজনীতি চালু করতে একজন হিরো আলমকে সংসদে যাওয়া প্রয়োজন। না হলে লজ্জা হবে না ওদের।
মানুষ হিসাবে কাউকেই ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। তার সরল স্বীকারোক্তিই বলে দেয়, সুযোগ পেলে আমাদের এই তরুন প্রজন্ম অবশ্যই মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে। আর এই যুব সমাজের হাতেই প্রস্ফুটিত হতে পারে সোনার বাংলাদেশ। স্বাধীনতার ৪৭ বছরে আমরা দেখেছি কোন রাজনীতিবিদরা আমাদের কে কি দিয়েছেন।
জিরো থেকে হিরো বনে যাওয়া হিরো আলম শুধু আক্ষরিক অর্থেই হিরো নয়। নির্বাচনের আগেই হিরো বনে গেলেন। আসল হিরো বানাবেন ভোটাররা। আজ যাকে নিয়ে এত হৈ চৈ তার উঠে আসার গল্পটিও এত সহজ ছিল না। আজকের অবস্থানে উঠে আসার পেছনে তার কর্ম, তার ইচ্ছাশক্তিকে আমি অবশ্যই অবনত মস্তকে শ্রদ্ধা না জানিয়ে পারি না। দেশে হতাশাগ্রস্থ প্রতিটি যুবকের কাছেই হিরো আলম হতে পারেন- অনুপ্রেরনার উৎস। মানুষের এত তুচ্ছ তাচ্ছিল্যকে উপেক্ষা করে ইস্পাতদৃঢ় চিত্তে যিনি এখনো অবিচল রয়েছেন অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌছার তাগিদে তা নিঃসন্দেহে এক অনুকরনীয় বিরল দৃষ্টান্ত মনে করছি।
সুযোগ আর মানুষের ভালোবাসা পেলে আমাদের এই যুবসমাজ অবশ্যই মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে। এই যুব সমাজকে নিয়েই আমরা গর্ব করতে পারি। অন্ততঃ এটা বলতে পারি- পঁচা কুৎসিত কাদাকার সেই চেহারাগুলোর চাইতেও হিরো আলমদের চেহারাগুলো অনেক নিষ্পাপ। সুদ ঘুষ খেয়ে পাপিষ্ঠদের চেহারাগুলো যখন তুলতুলে টমেটোর মতো টাটকা দেখায়, তখন আমাদের হিরো আলমরা অপুষ্টিতা, অনাদরে, অবহেলায় ভাঙ্গাচোরা চেহারায় না হয় সংসদে যাবে৷ জাতি অন্ততঃ পাপ থেকে তো কিঞ্চিৎ দায়মুক্ত হবে। পাপিষ্ঠদের চেহারাগুলো আমরা আর দেখতে চাই না। ব্যাঙ্গ করুন ওদের- যারা আমার দেশটাকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, নাটক করছে। হিরো আলমদের নিয়ে ব্যাঙ্গ নয়- ভালোবাসা দিন। উপহাস সবাই করতে জানে, ভালোবাসতে পারে ক’জন?
লেখক : গৌতম রায়
প্রবাসী সাংবাদিক