

মো. তপন সরকার, হোমনা প্রতিনিধি : নববর্ষকে সামনে রেখে কুমিল্লা হোমনা সদর থেকে ৪ কিঃমি দুরে তিতাস নদীর পাশে অবস্থিত শ্রীমুদ্দি গ্রামে বাঁশি পল্লীতে ব্যস্ততম সময় পার করছেন বাঁশির কারিগরা। ঐতিহ্যবাহী বাঁশের বাঁশির ব্যবহার দিনে দিনে কমে এলেও অত্র গ্রামের ৬৪টি পরিবার এখনও বাঁশি শিল্প ধরে রেখেছে। নতুন বছরের মেলায় বাঁশির যোগান দিতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছে এসব পরিবারের সদস্যরা।
কয়েকদিন পরেই নববর্ষ, পহেলা বৈশাখ। আর নববর্ষ মানেই বৈশাখী মেলা। আর মেলায় বাঁশির কদর একটু বেশিই। তাই কুমিল্লার হোমনার শ্রীমদ্দি গ্রামের বাঁশি পল্লীতে তৈরি হচ্ছে নানান রকমের বাঁশি। মেলায় বাঁশির যোগান দিতে ব্যস্ত পল্লীর সবাই।
তাদের পরিবারের নতুন প্রজন্মের অনেকে বাঁশি তৈরির পেশা থেকে সরে যাচ্ছে। আবার বাঁশি তৈরির কাঁচামালের দাম বাড়তে থাকায় অনেকেই ছেড়ে দিয়েছেন এই পেশা। কালের বিবর্তনে বাঁশির চাহিদাও কমছে বলে মনে করেন করিগররা। কয়েকজন কারিগরের আজকের বিজনেস বাংলাদেশকে জানান, বর্তমানে কয়লার দাম বেশি হওয়ার কারনে এই শিল্প থেকে দিনের পর দিন অনেক সরে দাড়াচ্ছে। আবুল কাশেম দুঃখ নিয়ে জানান, একশ’ থেকে সোয়াশ’ বছর ধরে চলছে বাঁশি তৈরির কাজ। পূর্বসূরিদের দেখানো পথে এখনও অন্তত ৬৪টি পরিবার বাংলার ঐতিহ্য লালন করতে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে বাঁশি তৈরির কাজ। প্রতিটি বাঁশি খুচরা মূল্য ৫ টাকা থেকে শুরু করে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেন। এছাড়া ও ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিশ্বের ২০-২৫টি দেশে এই শিল্পের খ্যাতি রয়েছে।
হোমনার শ্রীমদ্দি গ্রামের বাঁশি পাড়ার ৬০ বছরের বৃদ্ধ নারী-পুরুষ থেকে স্কুলগামী শিশুরাও বাঁশি তৈরির কাজ করে থাকে। বাঁশিতে নকশা তৈরি, ছিদ্র করা, ধোয়া-শুকানো এবং রং করার কাজ নারীরাও বেশ আগ্রহ নিয়ে কাজ করে থাকেন।
বাঁশির কারিগর তিব্বত সরকার (৬৫) বলেন, শ্রীমদ্দিতে ব্রিটিশ আমল থেকে বাঁশি তৈরি হয়ে আসছে। ১০-১২ বছর বয়স থেকেই এ কাজ করছি।

আবুল হাসেম বলেন, আমার তৈরি বাঁশি ফ্রান্স, জার্মানি, কানাডা, স্পেন, ইতালিসহ বেশ কয়েকটি দেশে রফতানি হয়ে থাকে। আমরা প্রায় ১৫ ধরনের বাঁশি তৈরি করে থাকি। এগুলোর মধ্যে তোতা (মুখ) বাঁশি, মোহন বাঁশি, ফেন্সি বাঁশি, খানদানি বাঁশি, আর বাঁশি (ক্ল্যাসিক্যাল সুরের বাঁশি), বীণ বাঁশি, বেলুন বাঁশি রয়েছে। বিদেশের অনেক দেশেই বাঁশির কদর অনেক বেশি। কারণ এ বাঁশি একেবারেই প্রাকৃতিক। আমাদের দেশে বংশীবাদকের কাছে খানদানি বাঁশির কদর অকেন বেশি।
এ বিষয়ে কুমিল্লা-২ (হোমনা -তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ (মেরী) আজকের বিজনেস বাংলাদেশ বলেন, দেশীয় ঐতিহ্য ধরে রাখতে হোমনার শ্রীমদ্দির বাঁশি তৈরিতে উৎসাহ দেওয়া উচিত। এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে তাদের সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরো বলেন, এ গ্রামে বাঁশি তৈরিতে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। বাঁশি যাতে কারিগররা সহজে তৈরি করতে পারে সেইজন্য প্রয়োজনে গ্যাসের ব্যবস্থাও করা হবে।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/৫:৫৩পিএম/৭/৪/২০১৯ইং)
আপনার মতামত লিখুন :