• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ন

বিলুপ্তির পথে প্রাচীন ঐতিহ্য ‘শ্যামনগরের জমিদার বাড়ী’


প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৯, ২০১৮, ৫:০৮ PM / ২৭১
বিলুপ্তির পথে প্রাচীন ঐতিহ্য ‘শ্যামনগরের জমিদার বাড়ী’

স.ম ওসমান গনী সোহাগ, সাতক্ষীরা : বার বার পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলেও কর্তৃপক্ষের নিরব ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে? দেড় শতাধিক বছর পূর্বে জমিদার হরিচারণ রায় চৌধুরী একচল্লিশ কক্ষের তিনতলা বিশিষ্ট এল প্যার্টানের যে বাড়িটি নির্মাণ করেছিল আজ তা ধ্বংসের শেষ সীমায় পৌঁছেছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠির লালসা আর প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের অবজ্ঞার কারণে জমিদার বাড়ির দক্ষিণ অংশের ভবনের অর্ধেকই ইতিমধ্যে নিঃশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। স্থানীয় প্রভাবশালিরা রাতের অাঁধারে ভবন থেকে মূল্যবান কাঠের কড়ে এবং বরগাসমূহ খুলে নিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া দিনের বেলায় জেলে পল্লীর নারী ও শিশুরা প্রকাশ্যে ইট খুলে নিয়ে গেলেও দেখার কেউ নেই।
সরেজমিনে নকিপুর জমিদার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় ৭/৮ জন মহিলা ছাদ খুলে যাওয়া অংশের ইট ছাড়ানোর কাজ করছে আর তাদের ছয় থেকে দশ বছর বয়সী শিশুরা মাথা ও ঝুড়িতে করে সেসব ইট ও সুরকী নিয়ে যাচ্ছে। সুরকী ও ইট সরানোর কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে মহিলারা জানায়, স্থানীয় প্রত্যেকেইতো ইট ও সুরকী নিয়ে যায়। আর সেজন্য অন্যান্যদের দেখা দেখি আমরাও নিয়ে যাচ্ছি। এগুলো কোন কাজে ব্যবহার করা হবে জিজ্ঞাসা করতেই তারা জানায়, ইটগুলো বাড়িতে নিয়ে খোয়া তৈরি করে বিক্রি করা হবে। স্থানীয় বিভিন্ন লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিগত কয়েক বছর যাবত স্থানীয়রা গোপনে কিংবা লুকিয়ে মুল্যবান লোহার কড়ে, সেগুন কাঠের বরগা এবং ইট ও সুরকী সরানোর কাজে লিপ্ত থাকলেও গত কয়েক মাস যাবত তা একেবারে উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন ভ্যান যোগে ইট ও সুরকী পাচার করে স্থানীয়রা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি মুছে ফেলছে দেড় শতাধিক বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন আক্ষেপ করে বলেন, ভবনটি ভেঙে জায়গাটি অবমুক্ত করা হচ্ছে স্থানীয় কতিপয় স্বার্থান্বেষীর স্বার্থে। কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেন, ইতিপূর্বেকার মত অবমুক্ত হওয়ার পর উন্মুক্ত জায়গা প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কখনও এ সংক্রান্ত বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। বিভিন্ন সময় ধ্বংস হতে থাকা জমিদার বাড়ির অবশিষ্টাংশ রক্ষার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও তাদের মনযোগ আকর্ষণ করা যায়নি।
ইতিমধ্যে ভবনের দক্ষিণ অংশ পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হওয়ার পর এখন চলছে মধ্যভাগের ভাঙ্গন কাজ। যে গতিতে ইট সুরকী সরানোর কাজ চলছে তাতে করে আশঙ্কা করা হচ্ছে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে জমিদার বাড়ির পরিবর্তে সেখানে একটি বড় মাঠের ঠিকানা খুঁজে পাবে সবাই।

নজর কাড়া নির্মাণ শ্রেণীতে গড়ে তোলা নকিপুর জমিদার বাড়িটির স্মৃতিচিহ্ন রক্ষায় কোন পক্ষকেই উদ্যোগী হতে দেখা যায়নি বলেই মাত্র দেড়শত বছরের মধ্যে তা ধ্বংস হয়ে যাওয়া ইতিহাসে পরিণত হয়েছে। সচেতন মহলের ধারনা যেটুকু অবশিষ্ট আছে সেটুকু ধরে রাখার জন্য প্রশাসনের আন্তরিক স্বদিচ্ছাই যথেষ্ট।

প্রত্নতত্ব বিভাগসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টির দিকে নজর দেয়ার আহবান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/৫:০৭পিএম/৯/৪/২০১৮ইং)