• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৮ পূর্বাহ্ন

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে লালিত সৈনিকদের শ্রদ্ধাঞ্জলি(ভিডিও)


প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১৫, ২০২১, ৬:৪৮ AM / ১৩৯
বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে লালিত সৈনিকদের শ্রদ্ধাঞ্জলি(ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদক : হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। নিপীড়িত বাঙালী জাতির ভাগ্যাকাশে যখন দুর্যোগের কালোমেঘ, তখনই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গৌরবময় আবির্ভাব ঘটে। শিশুকাল থেকে অসাধারণ দেশপ্রেম, রাজনৈতিক দূরদর্শীতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি দিয়ে তিনি সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছিলেন। যার ফলস্বরুপ বাঙালী জাতি পেয়েছিল স্বাধীনতা। ১৫ই আগস্ট ২০২১, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম প্রয়ান দিবসে আমরা তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। জাতীয় শোক দিবসে আমাদের বিশেষ আয়োজন – ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে লালিত সৈনিকদের শ্রদ্ধাঞ্জলি’।

১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বাবা শেখ লুৎফর রহমান, মা সায়েরা খাতুনের ঘর আলো করে জন্মগ্রহণ করেন শেখ মুজিব। মা-বাবা তাকে আদর করে ডাকতেন ‘খোকা’ বলে। সহপাঠিদের কাছে তিনি ছিলেন নিরঅহংকার একজন সত্যিকারের বন্ধু। ছাত্র জীবন থেকেই শেখ মুজিব ক্রমেই নেতা মুজিবে বিকশিত হতে থাকেন। তার মাঝে নেতৃত্বের গুণাবলি প্রস্ফুটিত হতে থাকে। দেশের মানুষের জন্য তার ভালোবাসা, সহমর্মীতা ও স্বাধীনতা অর্জনের উচ্চাকাঙ্খা তাকে পরিনত করেছে বাঙালীর অবিস্মরণীয় এক নেতা হিসেবে। যা যুগে যুগে বিকশিত হয়েছে তাকে অনুস্মরণ করে তারই রাজনীতি করে চলা নেতাকর্মীদের মাঝে। যারা বরাবরই শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন তাদের প্রিয় নেতাকে।

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৩৯ সালে মিশনারি স্কুলে পড়ার সময়। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রধান ছাত্রনেতায় পরিণত হন তিনি। এভাবেই ছাত্রনেতা থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে দেশপ্রেমকে বুকে লালন করে, দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় একটি দেশের শীর্ষ নেতা তথা একটি দেশের জনক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন তিনি। শেখ মুজিবের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-নেতা মোদের শেখ মুজিব’ এই শ্লোগানকে বুকে ধারন করে এগিয়ে চলেছে ছাত্রলীগের রাজনীতি।

বিভিন্ন সময় অনেক ভূঁইফোর সংগঠনের নাম এলেও মূলত কৃষক লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, তাঁতী লীগ, ছাত্রলীগ সহ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আওয়ামী লীগের স্বীকৃত সহযোগী সংগঠনের সংখ্যা ৭টি। এই সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের নিরলস দেশপ্রেমের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসুরি হিসেবে তার কন্যা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত সমগ্র দেশব্যাপী উন্নয়নের জোয়ার নিয়ে দেশের সর্বস্তরের জনগণের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। বাবার স্বপ্নকে পূরণ করতে তার এই প্রচেষ্টায় নানা দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন আওয়ামী লীগ ও এর স্বীকৃত সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

রাজনীতির পাশাপাশি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে নেতাকর্মীরা জনগণের কল্যাণে বঙ্গবন্ধুকে অনুস্মরণ করে অবদান রেখে চলেছেন তুমুল গতিতে। প্রতি বছর ১৫ই আগস্ট এলে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের নিহত সকল সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ সহ নানাবিধ আয়োজনের মধ্যদিয়ে তারা প্রিয় নেতাকে স্মরণ করেন এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারাকে আরও গতিশীল করতে স্থানীয়ভাবে এগিয়ে চলেছেন দেশপ্রেম ও জনগণের কল্যাণে জীবনকে উৎসর্গ করে।

শুধুমাত্র নামেই নয়, কর্মেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে দেশপ্রেম এর মধ্যদিয়ে রাস্ট্র পরিচালনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতকে আরও অধিক শক্তিশালি করে চলেছেন আওয়ামী লীগ ও স্বীকৃত সহযোগি সংগঠনের ত্যাগি নেতাকর্মীরা।

৭ই মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে স্মরণকালের বৃহত্তম জনসভায় বঙ্গবন্ধুর ভাসনের পর বাঙালীর শরীরে রক্ত টগবগিয়ে উঠে স্বাধীনতার নেশায়। যার ফলে ২৫ মার্চ কালরাতে হঠাৎ পাকবাহিনীর হত্যাযজ্ঞে সারা বাংলাদেশের মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। এমনই অবস্থায় গ্রেফতারের আগ মুহূর্তে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন তা ওয়ারলেসের মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়ে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা এম. এ. হান্নান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে পাঠ করলে সারাদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পূর্ব বাংলা রেজিমেন্টের মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের হয়ে ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রচার করে, ফলে সমগ্র বিশ্ব বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ঘোষণা সম্পর্কে জানতে পারে। ফলে বঙ্গবন্ধুর ডাকে তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্যদিয়ে বাংলার বীর দামাল ছেলেরা দেশকে স্বাধীন করে। ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় বিজয়। এই দিনে পাক হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্যদিয়ে বিশ্বমানচিত্রে জন্ম নেয় নতুন একটি দেশ- বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে যার নাম উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো দীপ্যমান তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর দূরদশী, বিচক্ষণ এবং সঠিক নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল।

তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি এবং স্বাধীন বাঙালি জাতির জনক। জেল-জুলুম ও নির্যাতনের কাছে তিনি কখনো মাথা নত করেননি। বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া, বাঙালি জাতির অস্তিত্বকে অস্বীকার করার শামিল।
তাইতো কবি লিখেছিলেন- যতকাল রবে পদ্মা যমুনা গৌরী মেঘনা বহমান, ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।

রাজনীতি ও দেশপ্রেমের মধ্যদিয়ে সাধারন মানুষের জন্য অকৃত্রিম ভালোবাসা ও বিশেষ নেতৃত্বের গুণাবলি বঙ্গবন্ধুকে ধীরে ধীরে করেছে একটি দেশ তথা একটি জাতির জনক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

আজ বঙ্গবন্ধু নেই, কিন্তু যুগে যুগে কালে কালে প্রতিটি সৃষ্টিশীল কাজের মাঝে, লেখক-কবি-সাহিত্যিকদের লেখনীতে বঙ্গবন্ধু ছিলেন, বঙ্গবন্ধু আছেন, বঙ্গবন্ধু রবেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে তাঁর জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পরে অনেক ধরনের লেখা হয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কবিতা, গল্প, ছড়া, প্রবন্ধ ও উপন্যাসে চিত্রিত হয়েছেন বঙ্গবন্ধু বহুভাবে, বহুবর্ণে। সেসব লেখা তাৎপর্যপূর্ণ মাত্রা যোগ করেছে আমাদের জাতীয় ইতিহাসে। এরই ধারাবাহিকতায় তরুণদের সাহিত্য চর্চায় বঙ্গবন্ধু এক অবিস্মরণীয় নাম।

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট, বাঙালি জাতির জীবনে সবচেয়ে ভয়াল রাত। সামরিক বাহিনীর তৎকালীন কিছু উচ্চাভিলাষী ও বিপথগামী সৈনিকের হাতে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হন। এদিন ২৮ টি ‘গোলাবিহীন’ ট্যাঙ্ক এবং ১৮টি চাইনিজ মেশিনগান নিয়ে হামলাকারী দলে ছিল প্রায় ১ ডজন সামরিক অফিসার ও ১৭০ থেকে ৭০০ জন সাধারণ সৈনিক। এসব নরপিশাচরা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্মিলিতভাবে একযোগে নৃশংসভাবে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে। আত্মস্বীকৃত ওইসব খুনিরা সেই কালরাতে রেহাই দেয়নি মাত্র ১০ বছরের শিশু শেখ রাসেলকেও। “আল্লাহ’র দোহাই আমাকে জানে মেরে ফেলবেন না। আমার হাসু আপা দুলাভাইয়ের সঙ্গে জার্মানীতে আছেন। আমি আপনাদের পায়ে পড়ি, দয়া করে আপনারা আমাকে জার্মানীতে তাদের কাছে পাঠিয়ে দিন” মৃত্যুর আগে খুনীদের কাছে এই আকুতি ছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান শেখ রাসেলের। তবে সেদিন রাসেলের এই আর্তচিৎকারে খোদার আরশ কেঁপে উঠলেও টলাতে পারেনি খুনী পাষাণদের মন। বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যের মত এই নিষ্পাপ শিশুকেও ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছিল। তাই বাঙালি জাতির কাছে প্রতিবছর ১৫ই আগস্ট মানে হৃদয় কাঁপানো এক কষ্টের স্মৃতি, যে কষ্টের ভার আজীবন বাঙালি তার বুকে বহন করে চলেছে।

ভিডিওটি দেখুন-
https://www.youtube.com/watch?v=o2JjUaIRAQA

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/এসডিপি/৬:৪৮এএম/১৫.৮.২০২১ইং)