• ঢাকা
  • শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন

না’গঞ্জ প্রিপারেটরী স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন!


প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২২, ২০২২, ৭:৫৯ PM / ১১৪
না’গঞ্জ প্রিপারেটরী স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন!

মোহাম্মদ সাইমুন ইসলাম, নারায়নগঞ্জ : আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে দেশের উন্নত মান নির্দেশিত হয়। দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীর প্রাচীন নারায়াণগঞ্জ প্রিপারেটরী স্কুল আদর্শনিষ্ঠ বিদ্যার্থী তৈরি করে তার ঐতিহ্যকে গৌরবান্বিত করে ধরে রেখেছে । প্রাইমারি শ্রেণি থেকে শুরু করে মাধ্যমিক শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষাদানের গুরু দায়িত্ব একনিষ্ঠভাবে পালন করে চলেছে এ বিদ্যাপিঠ। গত এক দশকে এই স্কুল মাধ্যমিক শিক্ষা দানে বিশেষ উৎকর্ষতা লাভ করেছে। বিজ্ঞান,মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা শাখা চালু রয়েছে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।
তাই এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের জন্য সময়োপযোগী পরিচালন কার্যক্রম পরিচালনা করা এখন সময়ের দাবি। ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে নৈতিক, মানবিক, সাংস্কৃতিক, বৈজ্ঞানিক ও সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় শিক্ষার্থীদের মননশীল ক্রিয়া ও ব্যবহারিক জীবনকে দক্ষ ও উদ্দীপিত করা অতীব গুরুত্বপূর্ণ।

নারায়াণগঞ্জ ঐতিহাসিক প্রাচীন প্রিপারেটরী স্কুল একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যার মধ্য থেকে বেরিয়ে এসেছে এ জেলায় অনেক সৎ সাহসী রাজনীতিবিধ,ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার সহ অনেকে।

অথচ এই ঐতিহাসিক প্রিপারেটরী স্কুল আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে, দূর্নীতি কড়াল থাবা,শিক্ষকদের অদক্ষতা ও অদূরদশীতার ফলে স্কুলটি আজ নিমজ্জিত হতে চলছে। সবচেয়ে বেশি ধ্বংস করেছে কোচিং বাণিজ্য।

সূত্রমতে জানা গেছে, যে সকল শিক্ষকদের ম্যাথ ও ইংরেজিতে কোন দক্ষতাই নেই তারা সে সকল বিষয়ে ক্লাস নিচ্ছে সংঘবদ্ধ শিক্ষক সিন্ডিকেটের ও শিক্ষক প্রতিনিধির মাধ্যমে, অথচ যে শিক্ষক যে বিষয়ে দক্ষ সে সেই ক্লাস নিতে পারছেন না।

এ ঐতিহাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জনমনে ও শিক্ষকদের মাঝে।

সূত্র মতে আরো জানা গেছে, একজন অদক্ষ অনভিজ্ঞ এবং বিএড/এমএড বিহীন শিক্ষক কিভাবে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। যা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নীতিমালার বর্হিভূত।
জেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তথ্যমতে, একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের কিছু বৈধ নীতিমালা রয়েছে, যা সকল প্রধান শিক্ষক নিয়োগে শিক্ষা মন্ত্রনালয় নীতিমালা প্রনয়ন করে দিয়েছে।
অথচ এই ঐতিহাসিক প্রিপারেটরী স্কুলে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বৈধতা নিয়ে নানান ধরনের প্রশ্ন এখন জনমনে।

সম্প্রতিক সময়ে বর্তমান প্রধান শিক্ষক নিয়োগে সরকারী কিছু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বয়স থেকে শুরু করে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে সিথিল করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে এবং বহু সিনিয়র বিএড/এমএড অভিজ্ঞ প্রার্থীদের বাতিল ঘোষণা করে বর্তমান নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যার শিক্ষকতার পূর্ব কোনো ধরনের অভিজ্ঞতাই নেই বলে জানা গেছে।

আরো জানান গেছে, যোগদানের পর থেকে তার বিরুদ্ধে নানান অনভিজ্ঞতাসহ বিভিন্ন ধরনের হেরেজমেন্টের অভিযোগ উঠেছে, যার কিছু নমূনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। তিনি যাকে তাকে শোকজ করছেন নিজেকে জাহিল তরিয়ত করার জন্য। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষত্রী তার কাছে কাছে কোন ধরনের কাজে গেলে তাকে দরজার বাহিরে দাড় করিয়ে রাখেন। এমনকি ইউনিফর্ম চেক করার নামে বোরখা, হিজাব উঠিয়ে চেক করার দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়েছে। যা অনেকেই জেনেছে, দেখেছে এবং অভিযোগ তুলেছেন। স্কুলে ঘন্টার পর ঘন্টা মিটিংয়ে নামে সকলকে প্রায়শই হেরেজমেন্ট করে থাকেন এ শিক্ষক।

অনেকেই জানিয়েছেন, একজন অবিবাহিত ও অনভিজ্ঞ যুবক,যার শিক্ষকতায় কোন অভিজ্ঞতাই নাই তিনি কিভাবে একটা স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পান? নিশ্চিত এর পিছনে কোন অপশক্তি রহস্যজনক ভূমিকা পালন করছেন।

সূত্র আরো জানিয়েছে, যিনি শুরুর দিকে সকলকে জানিয়েছিলেন, তিনি বিবাহিত তার স্ত্রী বিসিএস ক্যাডার,অথচ তিনি এখন মাত্র বিয়ে করছেন। অথচ কিছুদিন আগে তাকে এই নারীকে নিয়ে স্কুলে আপ্যায়নসহ একাধিকবার গেটটুগেদার করতে দেখা গেছে, এমনকি রাত্রি জাপন করেছেন। এছাড়াও স্কুলের কিছু নারী শিক্ষকদের সাথে নানান রেস্টুরেন্টে একাধিকবার দেখা গেছে যা অনেকের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

একটা স্কুলের প্রধান শিক্ষক কিভাবে এমনটা করতে পারেন তা কারো বোধগম্য নয়।
তার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিসহ কিছু তথ্য উপাত্ত সকলের সামনে তুলে ধরা হল।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, জেলা শিক্ষা ও শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের বৈধ নীতিমালা অনুযায়ী একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে কমপক্ষে বিএড/এমএড এবং ১০/১৫ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা বাধ্যবাদকতা রয়েছে। যার কোনোটাই অদৃশ্য অপশক্তির কারণে এ ক্ষেত্রে মানা হয়নি।
অপরদিকে একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তার কিছুদিন আগে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বিএড সহ ৮ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতাসহ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশসহ নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

সুত্রমতে আরও জানা গেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয় জেলা প্রশাসন কর্তৃক,এডহক কমিটির মাধ্যমে যার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন জেলা প্রশাসক। সে নিয়োগের
দায়িত্ব থাকা দু’জেলা প্রশাসকের সদ্য বদলী হলেও এখানো অদৃশ্য কিছু কর্মকর্তা দায়িত্ব রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক ও অভিভাবক সুশীল সমাজ।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষক ও অভিভাবক জানিয়েছেন, যাদের যে বিষয়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছে মূলত তাদের সে বিষয়ে কোনো ক্লাসই দেয়া হয় না।

আইটি শিক্ষক নেয়া হয়েছে, আইটির ব্যাপারে যাদের কোন ধরনের বিশেষ শিক্ষা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার লেসমাত্র বিরাজমান নেই।

এছাড়াও স্কুল শিক্ষক প্রতিনিধি নিয়োগে রয়েছে নানান অনিয়মিত। শিক্ষক প্রতিনিধিরা নিজেরা ক্লাসতো নেনই না, উল্টো নিজেদের কোচিং বাণিজ্য এবং নানান ধরনের বই পুস্তক, সিলেবাস ও ডাইরী তৈরির নামে নিজেদের নামে প্রতিষ্ঠান বানিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ।
এক্ষেত্রে নিজের কাজের বিল তরিত গতিতে উঠিয়ে নিচ্ছেন তাঁরা , যেখানে শিক্ষকদের বেতন দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে,সেক্ষেত্রে দেখা গেছে বেতনের কোন ফান্ডই থাকে ।

সুত্র আরো জানিয়েছেন, কোন এক শিক্ষক প্রতিনিধি নিজের কোচিং বাণিজ্য ও স্কুলের নানান বই পুস্তক ও ডাইরি তৈরির টেন্ডার এমনকি নিজ ইচ্ছেমত ক্লাস বিভাজন করছেন ইচ্ছে মত।

একজন ১৮/২০ হাজার টাকা বেতনের শিক্ষক এবং দায়িত্বে থাকা শিক্ষক প্রতিনিধি কিভাবে নিজ ফ্লাট ভাড়াই ২০ হাজার টাকা দিয়ে থাকেন? এটা কারো বোধগম্য নয়। শিক্ষরা প্রশ্ন তৈরি করেন, সে শিক্ষকই পাশের নিশ্চয়তা দিয়ে কোচিং বাণিজ্য করে ছাত্র-ছাত্রীদের মেধা মনন বিকাশে বিঘ্নিত ঘটাচ্ছেন।

জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জ প্রিপারেটরী স্কুলে নিয়োগ প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আরও এক অভিভাবকের সাথে অশোভন ও বিরূপ আচরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা জেলা প্রশাসক অফিস পর্যন্ত গরিয়েছে।

সদ্য এ নিয়োগ প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশের কারনে কাউকে কোন তোয়াক্কাই করেন না। ইচ্ছেমত স্কুল পরিচালনা করেন। যখন যাকে খুশী সময় অসময়ে স্কুলে ডেকে আনেন।

তার বিরুদ্ধে এই ক’মাসে অভিযোগের অন্ত নেই, আরও কয়েকজন শিক্ষক নাম না প্রকাশ করার শর্তে আরো জানিয়েছেন, তার নানান অপকর্মের সন্দেহবসত প্রায় সময়ই তিনি শিক্ষকদের ব্যবহৃত পারসনাল মোবাইল ফোন তল্লাশী করে থাকেন, যা একজন শিক্ষের জন্য মানবাধিকার লঙ্ঘন সহ ইজ্জতহানীর শামিল।

তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, তিনি জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ছবি সামান্য ত্রুটির কারণে দুমড়ে মুচড়ে ফেলে দিয়েছেন, যা রাস্ট্র দ্রোহীতার সামিল,তার সে ঘটনা সকল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক স্ট্যাটাসে সকলে দেখেছেন।

একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমন একজন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ আদো কারো কাম্য নয়। এখন সকলের দাবি অতি দ্রুত সুষ্ট তদন্তের মাধ্যমে এর বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে ঐতিহাসিক এই প্রিপারেটরী স্কুলের প্রাচীন ঐতিহ্যে ধরে রাখতে জেলা প্রশাসকের আশু হস্তক্ষেপ কামনাসহ সূক্ষ দৃষ্টি কামনা করছেন সকল অভিভাবক শিক্ষকগন ও সুশীল সমাজ।