• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন

দেশের ২৩ শতাংশ শিশুর জন্ম কম ওজন নিয়ে


প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০১৭, ১২:৪৬ PM / ১৬৬
দেশের ২৩ শতাংশ শিশুর জন্ম কম ওজন নিয়ে

 
ঢাকারনিউজ২৪.ক, ঢাকা : জন্মের সময় নবজাতকের যে ওজন থাকার কথা তার চেয়ে কম ওজন নিয়ে দেশে জন্ম হচ্ছে ২৩ শতাংশ শিশুর। এছাড়া দেশের ১৮ শতাংশ অন্তঃসত্ত্বা নারী অপুষ্টির শিকার। শিশু পরিচর্যাকারী, এমনকি মাও ৭৩ শতাংশ স্বাস্থ্যবিধি মানেন না।

দ্বিতীয় জাতীয় পুষ্টি কর্মপরিকল্পনার (২০১৬-২০২৫) চূড়ান্ত খসড়ায় দেশের পুষ্টি পরিস্থিতির এ ভয়াবহ চিত্র পাওয়া গেছে।

এতে বলা হয়েছে, ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে উচ্চমাত্রায় অপুষ্টি আছে। বয়সের তুলনায় এদের ৩৬ শতাংশের উচ্চতা কম, ১৪ শতাংশ কৃশকায় ও ৩২ শতাংশের ওজন কম। অবশ্য দলিলে দাবি করা হয়েছে, গত তিন দশকে পরিস্থিতির অগ্রগতি হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় পুষ্টি কর্মপরিকল্পনার এই চূড়ান্ত খসড়া তৈরি করেছে । গত মাসে খসড়াটি চূড়ান্ত হয়। বিশেষজ্ঞ কমিটির তৈরি এই দলিল জাতীয় পুষ্টি পরিষদের পরবর্তী সভায় উপস্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী এই পরিষদের সভাপতি।

এদিকে, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যে (এসডিজি) ২০২৫ সালের মধ্যে অপুষ্টির হার ২৭ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি এই খসড়া দলিলে বলা হয়েছে, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ওই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে। পুষ্টিসেবার ব্যাপ্তি, মান ও পুষ্টি আচরণে উন্নতি প্রয়োজন।

কর্মপরিকল্পনার ওই দলিলে বলা হয়েছে, অপুষ্টির প্রকোপে অঞ্চলভেদে ব্যাপক পার্থক্য আছে। উপকূলের জেলাগুলো ও হাওর অঞ্চল তুলনামূলকভাবে খাদ্য নিরাপত্তা ও অপুষ্টির নিরিখে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। শহরের তুলনায় গ্রাম বেশি সুবিধাবঞ্চিত। সবচেয়ে কম সম্পদের অধিকারী এমন পরিবারে খর্বকায় শিশুর হার বেশি। আবার জাতীয় গড়ের চেয়ে যেসব জেলায় খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা বেশি, সেসব জেলায় খর্বকায় শিশুর হার বেশি। পরিস্থিতি আরও খারাপ চেহারা নেয় খাদ্যের মৌসুমী টানাপোড়েনে, খাদ্যের দাম বাড়লে ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে।

খসড়া অনুযায়ী, শহর বা নগরের বস্তির পুষ্টি পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়া্বহ। বস্তির শিশুদের ৫০ শতাংশ খর্বকায়। বস্তির ৬-২৩ মাস বয়সী ৭৫ শতাংশ শিশুকেই নিয়ম মেনে খাওয়ানো হয় না। এছাড়া বস্তিতে কিশোরী গর্ভধারণ তুলনামূলক বেশি।

এতে আরও বলা হয়েছে, দেশে অতি ওজন, স্থূলতা ও অসংক্রামক ব্যাধির (এনসিডি) প্রকোপ ব্যাপকহারে বাড়ছে। প্রজনন বয়সী ৩৯ শতাংশ নারীর ওজন প্রয়োজনের তুলনায় বেশি। প্রায় ৩২ শতাংশ পুরুষ ও ১৯ শতাংশ নারী উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন বা রক্তচাপ কমাতে ওষুধ সেবন করছেন। আনুমানিক ১১ শতাংশ নারী ও পুরুষ ডায়াবেটিসে ভুগছেন।

১০ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা দলিলে বলা হয়েছে, প্রাক্ বিদ্যালয়ের শিশুদের ২০ শতাংশ ভিটামিন-এ ও ৪৬ শতাংশ জিঙ্ক স্বল্পতায় ভুগছে। প্রায় ৪০ শতাংশ বিদ্যালয় বয়সী শিশু ও ৪২ শতাংশ নারী আয়োডিন স্বল্পতায় ভুগছে। ৩৩ শতাংশ প্রাক্‌ বিদ্যালয় শিশু ও ৫০ শতাংশ গর্ভবতী নারীর রক্তস্বল্পতা আছে।

অন্যদিকে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশির যে পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন এবং বাস্তবে যে পরিমাণ শক্তি গ্রহণ করে, এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য গড়ে ৮২ কিলোক্যালরি (২,৪০০ কিলোক্যালরি বনাম ২,৩১৮ কিলোক্যালরি)। ১৯৯১-৯২ সাল থেকে মাথাপিছু দৈনিক ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ বাড়ছে। একইভাবে আমিষ গ্রহণের পরিমাণও বাড়ছে, বিশেষ করে মাছ খাওয়ার পরিমাণ।

দলিল অনুযায়ী, দেশের ৪৫ শতাংশ খানার মানসম্পন্ন পায়খানা আছে। অর্থাৎ ৫৫ শতাংশের নেই। প্রায় ৪ শতাংশ মানুষ এখনো খোলা আকাশের নিচে মলত্যাগ করে। মা, নিকটাত্মীয়সহ সরাসরি শিশু পরিচর্যাকারীদের ৭৩ শতাংশ স্বাস্থ্যবিধি মানেন না।

এছাড়া দেশে শিশুদের খাওয়ানোর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত চর্চা ঠিকমতো হচ্ছে না। এই চর্চায় জন্মের পরই শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করা হয় এবং ছয় মাস শুধু বুকের দুধ খাওয়ানো হয়। ২০০৭ সালের পর থেকে শুধু বুকের দুধ খাওয়ানোর পরিমাণ বাড়লেও এখন পর্যন্ত তা ৫৫ শতাংশ।

চূড়ান্ত খসড়ায় বলা হয়েছে, অপুষ্টি দূর করা শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ আরও ১৪টি মন্ত্রণালয়কে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এজন্য ভিটামিন এ-এর স্বল্পতা দূর করতে যেমন বড়ি খাওয়ানো এবং পরিপূরক ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে এ অবস্থা থেকে উত্তরণে কাজ সম্পাদনে মাঠকর্মী দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মানুষকে সচেতন করত, পুষ্টির কিছু বিষয় হাতেকলমে শেখাতে মাঠপর্যায়ে পৃথক কর্মী বাহিনী না থাকলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয় বলে তাদের মত।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/১২:৪৪পিএম/২৬/২/২০১৭ইং)