

নিজস্ব সংবাদদাতা : নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মাসদাইর সিটি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মোয়াজ্জিন, সিটি কেন্দ্রীয় কবরস্থানের হুজুর ও তাহমিদ হজ্ব কাফেলা এর মোয়াল্লিম এবং নূরে মদিনা তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসার পরিচালক ও তাহ্ মিদ হজ্ব কাফেলা এর উপ-নির্বাহী পরিচালক হাফেজ ক্বারী মাওলানা মুফতী জাকারিয়া মোমেন (৪২) এর বিরুদ্ধে মাসদাইর সিটি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও সিটি কেন্দ্রীয় কবরস্থানের দান-অনুদানের অর্থে নিজস্ব তহবিলের পাহাড় গড়ে তুলছেন বলে অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে।
এছাড়াও ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের শিশুদের ফ্রিতে কোরআন শিক্ষা ও ইসলামিক শিক্ষা কার্যক্রম পাঠদানের মাসিক ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা পাঠদান না করেই দীর্ঘ বছর আত্মসাৎ করেছেন বলে অনেকের অভিযোগ। তার এ-ই অনিয়ম, আত্মসাৎ ও দুর্নীতির বিষয়ে চারদিকে গুঞ্জন চলছে।
স্থানীয় মুসল্লীদের পক্ষ থেকে মুফতী জাকারিয়া মোমেন’র বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় তুলে বলেন- বিভিন্নস্থান থেকে দানশীল ব্যক্তি যারাই মসজিদের জন্য দান-অনুদান করতে আসলে, তিনি তাদেরকে ভুল বুজিয়ে ফুসলিয়ে নিজের মাদ্রাসার জন্য সে-ই দান-অনুদানের অর্থ নিয়ে থাকেন। মাসদাইর সিটি কবরস্থানের মৃত ব্যক্তিদের সনদপত্রের জন্য ৫ শত টাকা নিয়ে থাকেন। কবরস্থানের বিভিন্ন কবরে বেড়া দিয়ে দখল করে রাখেন, যা মৃত্যু ব্যক্তির পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করেন বলেও যানা যায়। এসমস্ত নানা ধরনের দুর্নীতি করে কাশিপুরে ৫ শতাংশ জমি ক্রয় করে নূরে মদিনা তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসা গড়ে তুলতে যাচ্ছেন। বিভিন্ন মুসল্লীদের সাথে প্রাযই অশোচনীয় আচরণ করে থাকেন।
মোঃ জাকারিয়া মোমেন ২০১৭ সালে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে এভাবেই নানা কৌশলে অর্থ আত্মসাৎ করে নিজে টাকার কুমির হয়ে বিলাশীতার জীবন-যাপন করে যাচ্ছেন। প্রায় সময়ই তাকে মসজিদ বা কবরস্থানের কাছে খুঁজে পাওয়া যায় না। মসজিদ ও কবরস্থানে তার কর্মরত দ্বায়িত্ব পালন না করে নিজের মাদ্রাসা ও হজ্জ্ব এজেন্সি নিয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। তার এ-ই অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললে তাকে সে নানা ধরনের হুমকি-ধামকি দিয়ে থাকেন। এমনকি উচ্চ গলায় বলে আমার বিরুদ্ধে কিছু করতে পারলে করেন আমি কারও ধার ধারী না।
ইতোপূর্বে মুফতী জাকারিয়া মোমেন’র মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ছিলেন তারই ছোট ভাই হাফেজ আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনি সহ তার ছোট ভাই ও-ই মাদ্রাসার ১১ বছর বয়সী এক ছাত্রকে বলৎকারের অভিযোগে গ্রেফতার হন। তারপরও মাদ্রাসাটি বন্ধ না হয়ে কিভাবে এখনও চলমান আছে? তা নিয়ে মাসদাইর এলাকার স্থানীয়রা দিশেহারা।
স্থানীয় মুসল্লীদের দাবী এধরনের দ্বায়িত্বহীন ও দূর্ণীতিবাজ ব্যক্তির চাকুরী হতে অব্যাহতীর। এ ছাড়াও সকল দূর্নীতি ও অনিয়মের তদন্ত করে সিটি কর্পোরেশন ও গোয়েন্দা সংস্থা সহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের।
আপনার মতামত লিখুন :