• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন

ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত যুগান্তকারী : মোহাম্মদ হাতেম


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৮, ২০২৬, ৮:৫৮ PM / ৪৭
ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত যুগান্তকারী : মোহাম্মদ হাতেম

ঢাকারনিউজ : দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) অপারেশনের দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে চুক্তি। সরকারের এ সিদ্ধান্ত ইতিবাচক বলে মনে করছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।

পাশাপাশি এই চুক্তি নিয়ে যারা আন্দোলন করছেন, তাদের দাবি আলোচনার টেবিলে সমাধান হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি পরবর্তী প্রতিক্রিয়া জানান।

ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিতে চট্টগ্রাম বন্দর কীভাবে লাভবান হবে- এমন প্রশ্নে হাতেম বলেন, ইতোপূর্বে আরও একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে (রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল-আরএসজিটি) বন্দরের পিসিটি (পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল) টার্মিনাল অপারেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তারা (আরএসজিটি) কিন্তু সাকসেসফুলি, খুব চমৎকারভাবে, ইফিসিয়েন্সি দিয়ে টার্মিনালটি অপারেশন করছে।’

বিদেশি অপারেটরদের কাছ থেকে কিছু শেখার আছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘ওখানে শেখার কিছু আছে। ডিপি ওয়ার্ল্ডকে যেটা দেওয়া হয়েছে, আমরা মনে করি, বর্তমানে আমাদের অন্য জেটিগুলো দেশি অপারেটররা পরিচালনা করছে, তাদেরও বিদেশিদের কাছ থেকে শেখার সুযোগ তৈরি হবে।’

ডিপি ওয়ার্ল্ড বিশ্বের অনেক টার্মিনাল সফলতার সঙ্গে অপারেশন করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড আন্তর্জাতিক অনেক বন্দর অপারেশনে যুক্ত। এরই মধ্যে তারা এসব বন্দর অপারেশনে সফলতা দেখিয়েছে। এতে এনসিটি অপারেশন নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত খুবই পারফেক্ট বলে আমরা মনে করি।’

সরকারের সিদ্ধান্তকে যুগান্তকারী উল্লেখ করে বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, ‘নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা নিয়ে সরকার একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে দেশের অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারিত হবে। বন্দরের কার্যক্রমেও গতি আসবে। আমদানি-রপ্তানিতে দেশ লাভবান হবে। সরকারের সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই।’

আন্দোলনকারীদের আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ডিপি ওয়ার্ল্ডের চুক্তি নিয়ে যারা বিরোধিতা করছে, তাদের আমরা বিনীত অনুরোধ করবো আপনারা বিরোধিতা না করে, এদের (অপারেটর) কাছ থেকে কিছু শেখার সুযোগ নেন। আর কোনো যুক্তিসঙ্গত দাবি যদি থাকে, অবশ্যই সরকারের সঙ্গে সেই যুক্তিসঙ্গত দাবি নিয়ে আলোচনায় বসুন। প্রয়োজনে ট্রেড বডি থেকেও আন্দোলনকারীদের সে সব যুক্তিসঙ্গত দাবি সরকারের সঙ্গে কথা বলবো।

অযথা বিরোধিতা না করে সরকারের ভালো উদ্যোগকে ব্যাহত না করার জন্য আন্দোলনকারীদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

তথ্য অনুযায়ী, এনসিটি চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে আধুনিক টার্মিনাল। বন্দরের প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই টার্মিনালে পাঁচটি বার্থ রয়েছে। এখানে একসঙ্গে পাঁচটি কনটেইনারবাহী জাহাজ বার্থিং করতে পারে। এর ব্যাকআপ অপারেশনের জন্য দুই লাখ ৯২ হাজার ২৮৭ বর্গমিটারের একটি বিশাল কনটেইনার স্টোরেজ ইয়ার্ড রয়েছে।

এনসিটিতে ১৪টি অত্যাধুনিক গ্যান্ট্রি ক্রেন রয়েছে। এসব ক্রেন বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে কেনা হলেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাইফ পাওয়ারটেক টার্মিনালটি পরিচালনা করে আসছিল।

অভিযোগ আছে, রাজনৈতিক অনেক রাঘববোয়ালরা সাইফ পাওয়ারটেক থেকে মাসোহারা পেতেন। ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পরেও সাইফ পাওয়ারটেক এনসিটি পরিচালনা করছিল। ২০২৫ সালের ৭ জুলাই সাইফ পাওয়ার টেকের সঙ্গে বন্দরের চুক্তি শেষ হওয়ার পর থেকে চিটাগাং ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) ২০২৫ সালের ৭ জুলাই থেকে এনসিটি অপারেশন করে আসছিল।

চুক্তি অনুযায়ী- ডিপি ওয়ার্ল্ড থেকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রায় ৬০০ কোটি টাকা অগ্রিম ফি পাবে। এর ২৫ শতাংশ চুক্তি সইয়ের সময় এবং বাকি ৭৫ শতাংশ কার্যক্রম শুরুর আগে পরিশোধ করার কথা রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ২০ ফুট সমপরিমাণ কনটেইনারের বিপরীতে টার্মিনালের গড় রাজস্বের ওপর নির্ভর করে প্রায় ৪০ থেকে ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত রাজস্ব অংশ বা রয়্যালটি পাবে চট্টগ্রাম বন্দর। এর বাইরে বছরে প্রায় ১০ কোটি টাকা নির্ধারিত ফি দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।

চুক্তিতে বছরে কমপক্ষে ১২ লাখ ৩০ হাজার টিইইউ কনটেইনার পরিচালনার নিশ্চয়তা রাখা হয়েছে। নতুন কোনো টার্মিনাল চালু হলে এ ন্যূনতম পরিমাণ ১০ লাখ টিইইউতে সমন্বয়ের সুযোগ থাকবে। (জাগোনিউজ)