• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন

‘গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি মরার ওপর খাড়ার ঘাঁ’


প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০১৭, ২:২১ PM / ১১০
‘গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি মরার ওপর খাড়ার ঘাঁ’

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ঢাকা : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি মরার ওপর খাড়ার ঘাঁ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়; তাই তাদের মানুষের ওপর দরদ নেই।’ রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শুক্রবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
রাজধানীর কারওয়ানবাজারে বাংলাদেশ অ্যানার্জি রেগুলেটরি কমিশন কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে গ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। ১ মার্চ ও ১ জুন দুই ধাপে এ মূল্য বাড়ানো হবে। আবাসিকে ১ মার্চ থেকে এক চুলার মূল্য হবে ৭৫০ টাকা এবং জুন থেকে সেটি হবে ৯০০ টাকা। এ ছাড়া ১ মার্চ থেকে দুই চুলার মূল্য হবে ৮০০ টাকা এবং ১ জুন থেকে সেটি ৯৫০ টাকা হবে।
রিজভী বলেন, ‘গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির খড়্গ পড়বে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে। এর প্রভাব পড়বে সকল সেক্টরে। এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। অন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যও আকাশছোঁয়া। মানুষের বাড়ি ভাড়া বেড়েছে। এর ওপর গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি মরার ওপর খাড়ার ঘাঁ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান সরকার যেহেতু জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়; তাই তাদের মানুষের ওপর দরদ নেই। তারা মনে করে, বাংলাদেশের সবকিছুতে রয়েছে আওয়ামী লীগের মালিকানা। সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্রহীন দেশে বন্দুকের জোরে যেন জুলুমের শাসন চলছে।’
বিএনপি চেয়ারপারসনসহ বিরোধী দলের নেতাদের মিথ্যা মামলা জিইয়ে রাখা হয়েছে শুধু প্রধানমন্ত্রীকে খুশি রাখার জন্যও বলে দাবি করেন বিএনপির এ নেতা।
গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি গণবিরোধী পদক্ষেপ দাবি করে রিজভী বলেন, ‘আমি বিএনপির পক্ষ থেকে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী পদক্ষেপ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে সাধারণ জনগণকে সরকারের ভয়াবহ জুলুম নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
পিলখানার বিডিয়ার বিদ্রোহের দিনকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারিতে হত্যা করা হয়েছে চৌকস ও মেধাবি ৫৭ জন কর্মকর্তাকে। পৃথিবীর ইতিহাসে এমনকি অনেক যুদ্ধেও এতো সেনা কর্মকর্তা এক সঙ্গে নিহত হননি। পূর্বপরিকল্পিত পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অনেকের সাজা হয়েছে, আবার অনেকেই অধরায় থেকে গেছেন। এ মর্মান্তিক ঘটনার সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের অনেকের জড়িত থাকার কথা শোনা গেলেও সেগুলোকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি এখনও রহস্যের কুয়াশায় ঢাকা।’ একটি জাতির স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার প্রতীক সেনাবাহিনীকে এভাবে দুর্বল করার আন্তর্জাতিক চক্রান্ত থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
কানাডার আদালতের রায় প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘এটা শুধু মিথ্যাই নয়, অসত্য বানোয়াট এবং জালিয়াতি। যারা এ জালিয়াতি তৈরি করছেন, তারাই কানাডার ইমিগ্রেশনের জন্য এক ব্যক্তিকে বিএনপির নেতা সাজিয়ে দরখাস্ত করেছে, বোগাস ইমিগ্রেশন অফিসারের মুখ দিয়ে বিএনপি সন্ত্রাসী কার্যকালাপ করছে এমন কথা যারা বের করেছে তারাই মহাসচিবের সই নকল করেছে।’
বিভ্রান্ত তৈরি করার জন্য এ কাজ করা হয়েছে দাবি করে রিজভী বলেন, ‘মহাসচিবের নামে বা বিএনপি চেয়ারপারসনের নামে যে বিবৃতি যায় সেগুলো আমি অথবা যারা সহ-দফতর সম্পাদক আছেন তারা স্বাক্ষর করেন। মহাসচিবের বিবৃতি তিনি নিজেই স্বাক্ষর করেন এটা কখনো হয়নি, এটা জালিয়াতি। এটা একটা বিভ্রান্ত তৈরি করার জন্য এবং আমার মনে হয় নিশ্চয় সরকার ও সরকারের বিভিন্ন সংস্থা এর মধ্যে জড়িত রয়েছে।’
এ সময় তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে এ জালিয়াতির সাথে যারা জড়িত তাদের বের করে এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি নেতা আহমেদ আজম খান, মাহাবুব উদ্দিন খোকন, ছানাউল্লাহ মিয়া প্রমুখ।

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/২:১৬পিএম/২৪/২/২০১৭ইং)