• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:০৭ অপরাহ্ন

এক এগারোর কুশীলবদের বিচার হবে : গয়েশ্বর


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১১, ২০১৭, ৪:১৩ PM / ১২৫
এক এগারোর কুশীলবদের বিচার হবে : গয়েশ্বর

 

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ঢাকা : বর্তমান সরকারকে ওয়ান ইলেভেন সরকারের বেনিফিসিয়ারি আখ্যা দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘সেই সরকারের আমলে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থা শূন্য করার ষড়যন্ত্র ছিল।’ বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘ষড়যন্ত্র ও ওয়ান ইলেভেনের সরকার’শীর্ষক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভাটির আয়োজন করে ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট।

গয়েশ্বর বলেন, ‘ওয়ান ইলেভেনের মতো আরেকটি ষড়যন্ত্র বাংলাদেশের চারদিকে ঘুরছে। এই ষড়যন্ত্র কিন্তু অনেক শক্তিশালী।’
এই ষড়যন্ত্র থেকে তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘কোনো ষড়যন্ত্রই বিএনপিকে নির্মূল করতে পারবে না। আপনারা সোচ্চার থাকুন।’

১/১১’র সরকারের কুশীলবদের বিচার একদিন হবেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার হচ্ছে তাদের বেনিফিসিয়ারি। তারা তাদের বিচার করবে না। কিন্তু এর মানে এই নয় বিচার হবে না। বাংলার মাটিতে তাদের বিচার একদিন হবেই।’

তিনি বলেন, ‘এক এগারোর সরকার ক্ষমতায় এসেই বাংলাদেশের দুই নেত্রীকে মাইনাস করতে চেয়েছিল। দুই নেত্রী কারাবরণও করেছেন। একপর্যায়ে তথাকথিত সেনাসমর্থিত সরকার পালানোর পথ পাচ্ছিল না, তখন আওয়ামী লীগের সাথে সমঝোতা করে পালিয়ে যায়। এরপরই শেখ হাসিনা তখন গর্ব করে বলতেন যে, ওয়ান ইলেভেনের সরকার ছিল তাদের আন্দোলনের ফসল। তাই আওয়ামী লীগ তাদের দ্বার বেনিফিসিয়ারি।’

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, জনগণের আদালতে নাকি খালেদা জিয়ার বিচার হবে। তাহলে জনগণতো উল্টো তাদের বিচার করতে পারে। এজন্য তারা প্রস্তুত।

তিনি বলেন, বিচার বিভাগ যদি নিয়ন্ত্রিত হয় তাহলে তো আইনের শাসন পাওয়া যাবেনা। আর আইনের শাসন না থাকলে গণতন্ত্র বিকশিত হয়না। বিএনপি জনগণের অধিকার আদায়ের জন্যই লড়াই করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন দরকার আছে ঠিকই। কিন্তু কমিশনে যারা থাকবেন তাদের যোগ্যতা, দক্ষতা এবং গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।

এসময় তিনি বর্তমান সরকারকে অনির্বাচিত মন্তব্য সরকারের কর্মকাণ্ডের নানা সমালোচনা করেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, আপনারা পিরোজপুর জেলার জিয়ানগর উপজেলার নাম পরিবর্তন করে ইন্দুরকানী করেছেন। ইন্দুরকানী কি জিয়াউর রহমানের চেয়ে বেশি সন্মানিত ব্যক্তি? আপনারা গোপালগঞ্জের নাম পরিবর্তন করে মুজিবনগর করছেন না কেন?

তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে গোপালগঞ্জের নাম পরিবর্তন করে মুজিবনগর করবো। তবে আপনাদের সাথে আলোচনা করেই করবো। কারণ গোপালের চেয়ে মুজিবুর রহমান অনেক সন্মিনিত ব্যক্তি।

তিনি আরও বলেন, আপনারা শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেন। অথচ তার জন্মস্থানের নাম রাখলেন গোপালের নামে। গোপালগঞ্জের নাম পরিবর্তন করে মুজিবনগর করার জন্য আপনাদেরকে আমরা প্রস্তাব দিবো। আলোচনা করে নাম পরিবর্তন করবো।

ঢাকার নাম পরিবর্তন করে জিয়া সিটি করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ইন্দুরকানী কি জিয়াউর রহমান থেকে বড়। আপনাদের এত ছোট মন মানষিকতা কেন। যেসব স্থানে জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলা হয়েছে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে এসব নাম যথাযথভাবে প্রতিস্থাপন করা হবে।

মঙ্গলবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপনি বলেছেন আগুন যারা দিয়েছে তাদের বিচার হবে গণআদালতে। এই বক্তব্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ দিবো। গণআদালত মানে স্বচ্ছ নির্বাচন, ওখানে বিচার হবে। আমরা সঠিক নাকি আপনারা সঠিক।

সংগঠনের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সেলিমের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দিন আহমদ। আরো বক্তব্য দেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার এহসানুল হুদা, ইসলামিক ঐক্যজোটের চেয়াম্যান মাওলানা আব্দুল করিম প্রমুখ।

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/৪:০৮পিএম/১১/১/২০১৭ইং)