• ঢাকা
  • বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন

ঊর্ধ্বগতির নিম্নগতি


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৯, ১:০১ PM / ১১৭
ঊর্ধ্বগতির নিম্নগতি

সাব্বির আহমেদ : স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশের দিকে যাত্রা শুরু করবে বাংলাদেশ।উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশ নামক ভূখন্ডটির উর্ধ্বগতিকে লাগাম টেনে নিম্নগতিতে টেনে নিয়ে আসছে কতিপয় মহল।

যখন প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের সকল স্তরে উন্নয়নের স্থিরচিত্র প্রদর্শনী চলে তখন ভয় হয় ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে। উন্নয়নের স্থিরচিত্র কি চার ফ্রেমের মধ্যেই আবদ্ধ থাকবে নাকি তা ভিডিওচিত্রে রূপ পাবে। সত্যিই কি দেশের উন্নয়ন হচ্ছে? ভয় লাগে যখন দেখি কোটি কোটি টাকা ভস্ম হয়ে স্বপ্নভঙ্গের কারণ হয় হাজারো পরিবারের।

যেখানে একশ্রেণীর মানুষ জীবনমানের সূচককে ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি করছে, সেখানে একশ্রণীর মানুষ তাদের লালিত স্বপ্নগুলোকে বানের জলে ভাসিয়ে মানবেতর জীবনকে সাদরে বরণ করে নিচ্ছে। দেশের উন্নয়নের চিত্র লক্ষ্যণীয় হলেও উন্নয়নের লেখচিত্রে নিম্নবিন্দুর অস্তিত্ব রয়ে যাচ্ছে।

কিছুদিন আগে পবিত্র ঈদুল-উল-আযহা উদযাপিত হয়েছে। কুরবানির ঈদের সবথেকে বড় বিষয় হলো পশুর চামড়া। কিন্তু এই শিল্পটি মুখ থুবড়ে পড়েছে। এর সাথে সাথে এই পেশার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের অবস্থা বেগতিক৷ অনেকেই চামড়া ব্যবসায় ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই খাতকে ২০১৭ সালে বর্ষপণ্য ঘোষণা করা হলেও তেমন অগ্রগতি নেই। এইরকম চিত্র পোশাক থেকে শুরু করে সকল শিল্পক্ষেত্রে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অসৎপথের ম্যারাথনে দেশের উন্নয়ন চিত্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়ছে। নির্বাচনী প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে সবধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালাতে চলছে রশিদ প্রদর্শনী। আর একেকটা রশিদের বিল আকাশচুম্বী। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। কয়েকদিন আগে মুন্সীগঞ্জের যশলদিয়া থেকে পদ্মার পানি পরিশোধন করে ঢাকায় সরবরাহের প্রকল্পে পানিতে ডুবেছে ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। সাড়ে ৫ হাজার টাকার বই কেনা হয় ৮৫ হাজার টাকায়৷ ১০ জনের সকালের নাস্তার বিল আসে ৫২ হাজার টাকা। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বালিশ দুর্নীতি থেকে শুরু করে হাজারো অনিয়মের চলছে হরহামেশা। এইগুলো যদি বাংলাদেশের উন্নয়নের চিত্র হয় তবে সোনার বাংলাদেশ হবে এক দুঃস্বপ্নের নাম।

এইসব কারণে দেশের একটি বড় রকমের ক্ষতি হলেও গুটিকয়েক বিজ্ঞ মানুষ তা মানতে নারাজ। তারা বিভিন্ন হাস্যরসাত্মক যুক্তি দিয়ে ইস্যুবাদী দেশবাসিকে দেয় ঘটনার অন্য মোড়। যার ফলস্বরূপ আমরা আমাদের উন্নয়নের মহাসড়কে প্রতিনিয়ত অবরোধ ডেকে স্তিমিত করছি উন্নতিকে।

উর্ধ্বগতির নিম্নগতিকে সুষম গতিতে রূপদান করতে লক্ষ বা কোটি মানুষের প্রয়োজন নাই। বাংলাদেশের ১৮৭০ জন মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তবেই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। সুষম গতির উন্নয়নের জন্য ৪৮ জন মন্ত্রী,৩৫০ জন সংসদ সদস্য, ৬৪ জন সচিব, ৬৪ জন জেলা প্রশাসক,৬৪ জন জেলা বিচারক,৬৪ জন পুলিশ সুপার,১২ জন সিটি মেয়র,৬৪ জন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ৪৯০ জন টিএনও,৬৫০ জন ওসির সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এই ১৮৭০ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ যদি নিজেদের কাজে নিষ্ঠাবান এবং সৎ হোন তাহলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন লেখচিত্র ভিন্ন রূপ ধারণ করবে। দেশ হতে দুর্নীতির হার অনেকাংশেই কমে যাবে। উন্নয়নের ঊর্ধ্বগতি একটি সুষম গতিতে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করবে সেই প্রত্যাশা সকল নাগরিকের।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/১:০২এএম/৪/৯/২০১৯ইং)