• ঢাকা
  • রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:০৩ অপরাহ্ন

ইবির সালতামামী-২০১৮


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২৬, ২০১৮, ৬:৩৮ PM / ১৭৭
ইবির সালতামামী-২০১৮

সাব্বির আহমেদ, ইবি প্রতিনিধি : আর মাত্র কয়েকদিন,কয়েকশত ঘন্টা,কয়েক হাজার মিনিট পরেই ঘরের দেওয়ালে শোভা পাবে নতুন বছরের ক্যালেন্ডার। নানাবিধ আলোচনা সমালোচনার মধ্য দিয়ে একটা সফল বছর অতিক্রম করতে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। চলুন একনজরে দেখে নেওয়া যাক এবছরে কেমন ছিল ১৭৫ একরের শান্তিডাঙ্গা-দুলালপুরের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা। ইবির সালতামামী ২০১৮ –

২০১৮ সালের জানুয়ারী মাসটি ছিল ইবির ইতিহাসের পাতায় লিখে রাখার মতো একটা মাস।কারণ জানুয়ারীর ৭ তারিখে দীর্ঘ ১৫ বছর পরে অনুষ্ঠিত হয় ইবির ইতিহাসের সর্ববৃহৎ সমাবর্তন। রাষ্ট্রপতি জনাব আব্দুল হামিদের উপস্থিতিতে এক সফল সমাবর্তন দেখে দেশবাসী। উদ্বোধন করা হয় দেশের বৃহত্তম বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল “মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব”, অনেস্টি ফাউন্টেনসহ আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। সফলতম একটি মাসের শেষটা যেন ঠিক ততটাই কলুষিত হয়ে উঠেছিল মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড.হারুন-উর-রশিদ আসকারীর উপর বর্বোরোচিত হামলায়। যার তদন্ত শুরু হলেও এখনও কোন সুষ্ঠু সুরাহা হয়নি।

২০১৮ সালে ইবির সবথেকে বড় সাফল্যা হলো  একাডেমিক, প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ৫৩৭ কোটি ৭ লক্ষ টাকার মেগা প্রকল্প অনুমোদন। নান্দনিক মফিজ লেকের উন্নয়ন সম্প্রসারণ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। ইবির ইতিহাসে প্রথম বৈশাখী উৎসব ও বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত হয় এই ২০১৮ সালেই। এছাড়াও বসন্ত উৎসবসহ আরো কয়েকটি উৎসবের আয়োজন করা হয় ইবিতে। পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ৫টি অনুষদ ছিল। বর্তমানে এ ৫টি অনুষদকে ভেঙে ৮টি করা হয়।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক সুপারিশকৃত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের  বহুল প্রত্যাশিত অর্গানোগ্রাম শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদন পেয়েছে ২০১৮ সালেই। বছরের মাঝামাঝি সময়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সন্ধ্যাকালীন কোর্সসমূহ বাতিল করার সিন্ধান্ত সর্বস্তরে সমাদৃত এবং প্রসংশনীয় হয়।

২০১৮ সালে একাডেমিক সাফল্যের পাশাপাশি ক্রীড়াক্ষেত্রেও ইবির সাফল্য ছিল চোখে পড়ার মতো। আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল প্রতিযোগিতা,বাস্কেটবল প্রতিযোগিতা সহ কয়েকটি প্রতিযোগিতায় গৌরবের সাথে শীর্ষস্থান ছিনিয়ে আনে ইবির একঝাঁক তরুণ খেলোয়াড়েরা।আন্তবিভাগ ফুটবল,ক্রিকেট প্রতিযোগিতা সহ আরো কয়েকটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ইবি প্রশাসন।বছরের শেষ দিকে শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদদের জন্য এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইবি প্রশাসন।

সৌদি রাষ্ট্রদূত,চীনা রাষ্ট্রদূত সহ আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিবর্গের সাথে  উপাচার্যের সাক্ষাৎ ইবির উন্নয়নের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে ভবিষ্যতে। এছাড়াও ২০১৮ সালে অনেকগুলো আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয় ইবিতে।অনেকগুলো আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইবির সুনাম বয়ে এনেছেন ইবির অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী।এছাড়াও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি,পুকুরে মাছের চাষ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কার্যক্রম গৃহীত হয় ২০১৮ সালে।

ইবির সফল একটি বছরের মধ্যে নভেম্বর মাসটিই মনে হয় সবথেকে প্রশ্নবিদ্ধ ছিলো। কারণ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় প্রশ্নবিদ্ধ এক ভর্তিযুদ্ধ।
এছাড়াও কয়েকটি কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল ২০১৮ সাল। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো: রুহুল আমিনের অডিও ফাঁস। ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্রী নির্যাতনের অভিযোগ । ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক এবং কেন্দ্রীয় জিয়া পরিষদের মহাসচিব অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনের ওপর হামলার অভিযোগ। নতুন চালু হওয়া অনুষদ নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলতাফ হোসাইন রাসেলের বিচার দাবি করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ।

২০১৮ সালে ইবির সবথেকে আলোচিত বিষয় ছিলো ‘আত্মহত্যা’। ইবির জন্য একরকম অভিশাপ ছিলো আত্মহত্যা। একবছরে প্রায় ৫ জন শিক্ষার্থী এই আত্মহননের পথ বেঁছে নেয়।বিশ্ববিদ্যালয়ের নাজমুল হাসান নামের এক শিক্ষার্থী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।আল-কোরআন বিভাগের ছাত্র আজিমুদ্দীন (২৪) বিষপানে আত্মহত্যা করেন।প্রেমের জন্য একই দিনে আত্মহননের পথ বেঁছে নেন ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের দুই শিক্ষার্থী।বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সূত্রপাতের আগেই জীবন বিয়োগ দিয়ে বসে আরেক শিক্ষার্থী।

বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিকীকরণের পথে এগিয়ে নেয়ার স্বপ্ন দেখেন বর্তমান প্রশাসন। আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড.হারুন-উর-রশিদ আসকারী। ইবির সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে প্রফেসর ড.হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন,” স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে স্থাপিত প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে বর্তমান অবস্থানে। ৭ই জানুয়ারীর সমাবর্তনের পরে ইবিতে এক নবপ্রাণ সূচিত হয়েছে।
দীর্ঘ অবহেলিত অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বর্তমান সরকার ইবিকে ৫৩৭ কোটি টাকার অনুদান দিয়েছে।
সামনেই সেই বাজেটের কাজ শুরু হবে। ইতোমধ্যে বর্তমান সরকার কর্তৃক গৃহীত উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে  কোয়ালিটি এশিওরেন্স মেক্যানিজম ইবিতে সম্পূর্ণ আত্মস্থ করা হয়েছে। বর্তমানে ৮ টি অনুষদের অধীনে ৩৩ টি বিভাগে সেমিস্টার পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে ইবিতে সেশন জট শূন্যের কোঠায়। পড়াশোনার পাশাপাশি বর্তমান প্রশাসন গবেষণা ক্ষেত্রকেও সমান অগ্রাধিকার দিচ্ছে। দশটিরও বেশি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে শিক্ষার্থী বিনিময় চুক্তি সাক্ষর করা হয়েছে ইতোমধ্যে। আমাদের এখন সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পালা। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান চর্চা,  জ্ঞান বিতরণ এবং নতুন জ্ঞান সৃজনের মাধ্যমে সামনের দিকে শক্তভাবে এগিয়ে যাবে”।

নতুন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে শুরু হবে নতুন বছরের পথ চলা । বিদায়ী বছরের সাফল্য-ব্যর্থতার মূল্যায়নের চেয়ে নতুন বছরকে ঘিরে আমরা বেশি আশাবাদী হতে চাই। প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির যোগসূত্রে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবে ইবি এটাই ১৫ হাজার শিক্ষার্থী প্রাণের চাওয়া।

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/এসডিপি/৬:৩৮পিএম/২৬/১২/২০১৮ইং)