

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ডেস্ক : ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া দপ্তর গত শুক্রবার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর প্রথমে একটি সুনামি সতর্কতা জারি করেছিল। কিন্তু এর মাত্র ৩৪ মিনিট পর তারা ওই সতর্ক বিজ্ঞপ্তি উঠিয়ে নিয়েছিল বলে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সুলাওয়েসি দ্বীপের উত্তর-পূর্ব উপকূলে প্রলয়ঙ্করী সুনামির আঘাতে অন্তত ৩৮৪ নিহত ও পাঁচ শতাধিক আহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। গৃহহারা হয়েছে বহু মানুষ। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।
৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প ও পরবর্তীতে সুনামি জাকার্তা থেকে ১,৫০০ কিলোমিটার দূরে পালু শহরে আঘাত হানে।
পালুর সমুদ্র সৈকতে শুক্রবার শত শত মানুষ জড়ো হয়ে একটি উৎসবের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এই সময় সুনামির প্রায় ছয় মিটার উঁচু ঢেউ সৈকতে আছড়ে পড়ে অনেক মানুষকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ার জিওফিজিক্স এজেন্সি বিকেএমজির ব্যাপক সমালোচনা করে। অনেকেই সুনামি সতর্কতা এত দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
বিকেএমজি বলছে, তারা তাদের স্বাভাবিক কর্মপন্থা অনুযায়ী নিকটস্থ ঢেউ শনাক্তকারী সেন্সরের তথ্য দেখে সতর্ক বিজ্ঞপ্তি তুলে নেয়। কিন্তু ওই সেন্সরও পালু থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
‘পালুতে আমাদের কোনো পর্যবেক্ষণলব্ধ তথ্য নেই। এ কারণে আমরা যা তথ্য পাওয়া গেছে তাই ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি,’ বলেন বিকেএমজির ভূমিকম্প ও সুনামি বিভাগের প্রধান রাহমাত ত্রিয়োনো।
তিনি জানান, তাদের প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, তীরের কাছে মাত্র ছয় সেন্টিমিটার উঁচু ঢেউ রয়েছে। একই সঙ্গে পালুর কাছে বিশাল ঢেউগুলো তারা আমলেই নেয়নি।
ত্রিয়োনো আরও বলেন, পালুর কাছাকাছি জায়গার তথ্য থাকলে তাদের জন্য ভালো হতো এবং ভবিষ্যতে তারা অবশ্যই বিষয়গুলো আমলে নিবেন।
দুর্গত এলাকায় উদ্ধার কাজ চলছে, তবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তা ব্যাহত হচ্ছে। ভূমিধস ও ব্রিজ ধসে পড়ায় পালুতে যাওয়ার প্রধান রাস্তা বন্ধ রয়েছে।
‘সুনামির কারণে অসংখ্য লাশ সৈকতের ধারে পাওয়া গেছে। কিন্তু নিহতদের সংখ্যা এখনো জানা যায়নি,’ রয়টার্সকে বলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সুতোপো পুরয়ো নুগ্রহো।
তিনি বলেন, সুনামির সময় অনেক মানুষ সৈকতে তাদের কাজ করছিলেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে পালিয়ে না আসায় তারা নিহত হয়েছেন।
বিশাল ঢেউ থেকে বাচার জন্য কেউ কেউ ছয় মিটার উঁচু গাছের ওপর উঠে পড়ায় তারা রক্ষা পেয়েছেন বলে জানায় ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।
ভূমিকম্পে শহরের হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক মানুষকে বাইরের অস্থায়ী তাঁবুতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
পালু ও ডঙ্গয়ালায় প্রায় ছয় লাখ মানুষ বসবাস করে। সেনাবাহিনী সেখানে ত্রাণ সামগ্রীসহ কার্গো বিমান পাঠাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর মধ্যে প্রথম সারিতেই রয়েছে ইন্দোনেশিয়া। মাঝে মধ্যেই কেঁপে উঠে এই দ্বীপ রাষ্ট্র। ২০০৪ সালে দেশটিতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প আঘাত হানে এবং তার জেরে সুনামি আছড়ে পড়ে অন্তত ১৩টি দেশে।
সব দেশ মিলিয়ে দুই লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয় তাতে। শুধু ইন্দোনেশিয়াতেই মৃতের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২০ হাজার।
গত জুলাই ও আগস্ট মাসে পরপর ভূমিকম্পের কারণে ইন্দোনেশিয়ার লুম্বক দ্বীপে ৫০০ জনের বেশি মানুষ মারা যায়।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/১০:১০এএম/৩০/৯/২০১৮ইং)
আপনার মতামত লিখুন :