• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন

আর্সেনিকে আক্রান্ত মেহেরপুরের কয়েক হাজার নারী-পুরুষ


প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০১৭, ১২:২৯ PM / ১২৮
আর্সেনিকে আক্রান্ত মেহেরপুরের কয়েক হাজার নারী-পুরুষ

আবু আক্তার করন : ‘পানির অপর নাম জীবন’। সেই পানি নিয়ে ৩০ বছর ধরে মেহেরপুর জেলার প্রায় ১৩টি গ্রামের মানুষের মধ্যে চলছে হাহাকার অবস্থা। তারা প্রতিদিন সুপেয় পানির বদলে পান করছেন আর্সেনিকযুক্ত বিষাক্ত পানি। স্থানীয়দের ভাষ্য, তারা প্রতিদিন পানি পানের মাধ্যমে বিষপান করেন। তারপরও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। এভাবেই মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বেঁচে আছে ২০ হাজার মানুষ।
আর্সেনিক বিষক্রিয়ায় ক্ষত শরীর নিয়ে ঘুরছে আক্রান্ত নারী-পুরুষ। তবু এই রোগ নিরাময়ে কোনো চিকিৎসা পাচ্ছে না আর্সেনিক রোগ আক্রান্তরা।
শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্ষত। দেখতে ভয়াবহ। আর্সেনিক আক্রান্ত পরিবারের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত অভিভাবকরা। তবুও চিকিৎসা মিলছে না কোথাও। চিকিৎসাবিহীন এমন ভয়াবহ অবস্থা নিয়ে বেড়ে উঠছে আর্সেনিক আক্রান্ত পরিবারের সন্তানরা। নব্বই দশকের পর থেকে মেহেরপুর জেলার মানুষ আর্সেনিক সম্পর্কে ধারণা লাভ করে। জেলার ভোলাডাঙ্গা, আলমপুর, বেলতলাপাড়া, সুবিদপুর, বুড়িপোতা, তারানগর, জয়পুর, আমঝুপি গ্রামসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে প্রায় শতভাগ নলকূপেই ভয়াবহ মাত্রায় আর্সেনিক পাওয়া গেছে। সাধারণভাবে পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা থাকে ৫০ পিপিবি। কিন্তু আর্সেনিকে আক্রান্ত গ্রামগুলোতে এ মাত্রা পাওয়া গেছে ৩০০ পিপিবি পর্যন্ত। যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিভাগ।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী জেলায় আর্সেনিকোসিস রোগীর সংখ্যা ২০৭৯ জন। আর তাদের কাছে মারা যাবার কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছে।
তবে জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী বলছেন, জেলায় আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে শতাধিক নারী-পুরুষ। এ ভয়াবহ বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এখন মৃত্যুপথযাত্রী অনেকেই। সুপেয় পানির ব্যবস্থা না থাকায় গ্রামের মানুষের এখন একমাত্র ভরসা ডোবা ও বিলের নোংরা পানি। গোটা গ্রামের ভূ-গর্ভে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক হওয়ায় বার বার চেষ্টা করেও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে পারেনি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।
ষোলটাকা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য নুহু নবী বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলসহ বিভিন্ন এনজিওর দেওয়া সুপেয় পানির উৎসগুলো নষ্ট হয়ে গেছে অনেক আগেই। এগুলো বিকল হয়ে থাকায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে ধর্ণা দিয়েও কোনো ফল পায়নি এলাকাবাসী। আবার বিদ্যুত সংযোগের অভাবে চালু করা যায়নি অনেক প্লান্ট।

আর্সেনিকোসিস রোগী ও এলাকাবাসী জানান, তারা বাধ্য হয়েই পুকুর ও বিলের নোংরা পানি ফুটিয়ে রান্নাসহ খাবার কাজে ব্যবহার করছেন।
তারা আরো বলেন, আর্সেনিকে আক্রান্ত হবার ভয়ে এই গ্রামের ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে অন্য গ্রামের মানুষ বিয়ের সম্পর্ক করতে চাইছে না।
মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. রাশেদা সুলতানা জানান, দীর্ঘদিন ধরে আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করলে মানুষ আর্সেনিকোসিস রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এ থেকে ক্যান্সার, লিভার, কিডনি ড্যামেজসহ নানা রোগ হতে পারে। আর্সেনিকমুক্ত পানিই পারে এ রোগ থেকে মুক্ত করতে।
মেহেরপুর জনস্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুন্সী হাচানুজ্জামান পরিবর্তন ডটকমকে জানান, বরাদ্দ অপ্রতুল থাকার কারণে এখনও আর্সেনিকপ্রবণ এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। সরকার উদ্যোগ নিয়েছে আর্সেনিকযুক্ত এলাকাগুলোতে পুকুর খননের মাধ্যমে আর্সেনিক মুক্ত পানি সরবরাহ করার জন্য। (পরিবর্তন)

(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/১২:২৮পিএম/২৫/২/২০১৭ইং)