

ঢাকারনিউজ২৪.কম, ঢাকা : থ্যালাসেমিয়া একটি জন্মগত রক্তের রোগ। বাবা-মা দুজনের দেহে থ্যালাসেমিয়া রোগ থাকলে সন্তানের দেহেও রোগটি হওয়ার আশঙ্কা শতভাগ। যেকোনো একজনের এ রোগ থাকলে সন্তানের হওয়ার আশঙ্কা অনেক কম। তাই বিয়ের আগে প্রতিটি তরুণ-তরুণীর উচিত দেহে থ্যালাসেমিয়া রোগ আছে কিনা তা পরীক্ষা করা।
আগামী ১০ জানুয়ারি থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে জাতীয় কার্যক্রম শুরু উপলক্ষে মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, এ রোগ কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। এটা কোনো ক্যান্সারও নয়। থ্যালাসেমিয়া রোগের ফলে আক্রান্ত রোগীর দেহে ত্রুটিযুক্ত লোহিত রক্ত কণা উৎপাদন হয় বিধায় এই কোষগুলো পূর্ণ জীবনকালের পূর্বেই ভেঙে যায়। এ কারণে তাদেরকে নিয়মিত রক্ত পরিসঞ্চালনা করে বেঁচে থাহতে হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, থ্যালাসেমিয়া বাংলাদেশের একটি অন্যতম জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বাংলাদেশের ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ অজ্ঞাতসারে থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক। প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় ৭ হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে। এ রোগে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার।
তিনি বলেন, থ্যালাসেমিয়া রোগের কোনো স্থায়ী প্রতিষেধক বা সহজ প্রতিবাক নেই। তবে দীর্ঘদিন ধরে এ রোগের চিকিৎসার ফলে কিছুটা উন্নতি হয়। এজন্য যাতে থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ে কোনো শিশু জন্মগ্রহণ করতে না পারে সেজন্য বিয়ের আগে প্রতিটি তরুণ-তরুণীর দেহে এ রোগ আছে কিনা তা পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
জাহিদ মালেক বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে এ বছর তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষ্যে আমরা একটি কর্মসূচি ঘোষণা করতে চাই- ‘সাল দুই হাজার আঠাশে, থ্যালাসেমিয়ার সমস্যা থাকবে না বাংলাদেশে’।
এ স্লোগান সামনে রেখে আগামী ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের জাতীয় কার্যক্রম শুরু করবে বলে জানান তিনি।
(ঢাকারনিউজ২৪.কম/আরএম/৫:৩০পিএম/৯/১/২০১৮ইং)
আপনার মতামত লিখুন :